সিনেমাতেই আঞ্চলিক ভাষা বেঁচে থাকে

10

২৩তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মঞ্চে চাঁদের হাট। ছিলেন অমিতাভ বচ্চন, শাহরুখ খান, মহেশ ভাট, কমল হাসান, কাজল, কুমার শানু, চলচ্চিত্র উৎসব কমিটির চেয়ারপার্সন সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়।

আরো ছিলেন উৎসব কমিটির সদস্য রঞ্জিত মল্লিক, গৌতম ঘোষ, মাধবী মুখোপাধ্যায়, সন্দীপ রায় ও ব্রিটিশ পরিচালক মাইকেল উইন্টারবটম। ছিলেন প্রসেনজিৎ, দেব, ইন্দ্রাণী হালদার, পাওলি, পায়েল সরকার, শুভশ্রীরাও।

তারা ঝলমল এই অনুষ্ঠানের শুরু হয় বিক্রম ঘোষের পরিচালনায় যন্ত্র ও কণ্ঠ সঙ্গীতের এক ব্যতিক্রমী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে। দেশি–‌‌বিদেশি অতিথিদের সামনে এই অনুষ্ঠান বাংলার সাংস্কৃতিক চালচিত্রকে উজ্জ্বল করে তোলে। তখন থেকেই অন্য তারে বাঁধা হয়ে যায় অনুষ্ঠান আঙিনা।

সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায় এদিন তাঁর বক্তব্যে অমিতাভ বচ্চনকে উল্লেখ করলেন ‘‌বাংলার জামাই’‌ বলে। সেই ‘‌বাংলার জামাই’কে বরণ করে নিলেন প্রসেনজিৎ। একে একে অতিথিদের বরণ করলেন দেব, কোয়েল, শুভশ্রী, ইন্দ্রাণী হালদার প্রমুখ।‌

সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায় প্রথমেই‌ মুখ্যমন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানালেন তাঁকে উৎসব কমিটির চেয়ারপার্সন করার জন্যে। বললেন, প্রবাদ আছে বাংলায় ১২ মাসে ১৩ পার্বণ। এখন সেটা ১৪ পার্বণে দাঁড়িয়েছে। কারণ, আগে যেমন কবে দুর্গাপুজো আসবে সেই অপেক্ষায় দিন গুনতাম, এখন দিন গুনি কবে আবার চলচ্চিত্র উৎসব ফিরে আসবে। মঞ্চে উপস্থিত কাজলকে তিনি ঘরের মেয়ে বলেই উল্লেখ করলেন।

তার উত্তরে কাজলও বললেন, নিজেকে তিনি কলকাতার মেয়ে হিসেবেই ভাবেন। বাংলাতেই বললেন, ‘‌বাংলাকে ভীষণ ভালবাসি। একসঙ্গে এত মানুষ যে চলচ্চিত্র উৎসব উপলক্ষে এক জায়গায়‌ আসেন তা গর্বের। আমিও গর্বিত, কারণ, মুখার্জি বলে কাউকে ডাকা হলে, একসঙ্গে বেশ কয়েকটা হাত উঠে যাবে। আমিও তার মধ্যে আছি।’

নিজের সংক্ষিপ্ত ভাষণে এই উৎসবের সাফল্য কামনা করলেন মাইকেল উইন্টারবটম। তাঁর ৬টি ছবি এবার দেখানো হবে রেট্রোস্পেকটিভ বিভাগে। যার অন্যতম ‘‌তৃষ্ণা’‌। এই ছবির শুটিং হয়েছে মুম্বাই ও জয়পুরে।‌

কমল হাসান বললেন, ‘‌এই অনুষ্ঠান আমার হৃদয়কে ভরিয়ে দেয়। মানুষের জীবনে সিনেমার গুরুত্ব অপরিসীম। তাই সঙ্গত কারণেই সিনেমার উৎসব উদযাপন। সিনেমা নিয়ে এমন উৎসাহপ্রবণ মুখ্যমন্ত্রী আমি দেখিনি।’

আর মহেশ ভাট বললেন, কলকাতায় আসা মানে আমার কাছে ঘরে ফেরা। এই বাংলাই বিশ্বকে অনেক সেরা পরিচালক উপহার দিয়েছে। কলকাতা বিশ্বের সেরা পরিচালকদের জন্মভূমি।’‌ এবার উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ ভারতের ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর ভাষার কয়েকটি ছবি।

সেই প্রসঙ্গে মহেশ ভাট বললেন, ‘‌আমাদের কাছে সিনেমার গুরুত্ব অপরিসীম। কারণ আর কয়েক বছরের মধ্যে বহু আঞ্চলিক ভাষার অপমৃত্যু ঘটবে। সেই ভাষা আমাদের সিনেমাতেই বেঁচে থাকবে।

তারায় তারাময় এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শেষে প্রদর্শিত হল ইরানের পরিচালক মুস্তাফা তাগিজাদের ছবি ‘‌ইয়েলো’‌। নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামের এই জমজমাট উদ্বোধনের পর আজ থেকে নন্দন, রবীন্দ্র সদন, শিশির মঞ্চ–‌সহ কলকাতার ১২টি প্রেক্ষাগৃহে চলবে ১৪৩টি ছবির প্রদর্শন।

নন্দন চত্বরেই থাকবে প্রদর্শনী ‘‌বেঙ্গল ইন বলিউড’‌। গগনেন্দ্র প্রদর্শশালার ‘‌লুক থ্রু.‌.‌.‌’‌ প্রদর্শনীতে থাকবে কিংবদন্তি পরিচালকদের ব্যবহার করা ক্যামেরাকে চাক্ষুষ করার সুযোগ।‌‌