ইরান-ইরাক সীমান্তে ভূমিকম্প, নিহত ৩ শতাধিক

10

ইরাক-ইরান সীমান্তবর্তী এলাকায় ৭ দশমিক ৩ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে ৩শ’র বেশি লোক নিহত হয়েছে। এছাড়া আড়াই হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। উদ্ধাকারীরা ইরানের দুর্গম এলাকাগুলোতে পৌঁছানোর পর মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন দেশটির কর্মকর্তারা। ভূমিকম্পে আরো বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে আছেন।

ইরানের স্থানীয় সময় রোববার রাত নয়টার দিকে ইরান সীমান্তের ১৯ মাইল দক্ষিন-পশ্চিমের হালাবজায় ভুমিকম্পটি আঘাত হানে। ইরান সীমান্তের খুব কাছে আধা-স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তান অঞ্চলে সুলাইমানিয়াহ প্রদেশের পেনজিনে মাটির ২১ কিঃ মিঃ অভ্যন্তরে ছিল এ ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল। ভূমিকম্পের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, তা তুরস্ক, আরমেনিয়া, কুয়েত, জর্দান, লেবানন, সৌদি আরব ও বাহরাইন ও কাতার থেকেও অনুভূত হয়।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, রোববারে এই ভূমিকম্পটি ৭ দশমিক ৩ মাত্রার ছিল বলে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে; তবে ইরাকের আবহাওয়া বিভাগ বলছে, এর মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৫।

ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল ইরান সীমান্তবর্তী ইরাকের আধা স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্থানের সুলাইমানিয়া প্রদেশের পেঞ্জভিনে। এলাকাটি ইরানের সঙ্গে প্রধান সীমান্ত ক্রসিংয়ের সন্নিকটে।

এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে খবরে বলা হয়েছে, ইরানে অন্তত ৩২৮ জন নিহত ও ২,৫০০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। ইরানের বেশ কয়েকটি প্রদেশে ভূমিকম্পটি অনুভূত হলেও সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কেরমানশাহ প্রদেশে। প্রদেশটিতে তিনদিনের শোক ঘোষণা করা হয়েছে।

ইরাকি সীমান্তের প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে কেরমানশাহের সারপোল ই জাহাব জেলায় ২৩৬ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এখানকার প্রধান হাসপাতালটি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় আহত শত শত মানুষকে চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে বলে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে বলা হয়েছে।

ভূমিকম্পে এখানকার কয়েকটি গ্রামে মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে এতে বলা হয়েছে। গ্রামগুলোতে স্থানীয়ভাবে তৈরি করা ইটের বাড়িগুলোর ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া জীবিতদের উদ্ধারের চেষ্টা করছেন উদ্ধারকর্মীরা।