ইরানে ভূমিকম্প, নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪৫০

5

২০১৭ সালের সবচেয়ে ভয়াবহ ভূমিকম্পে ইরাক-ইরান সীমান্তবর্তী অঞ্চলে নিহতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। সর্বশেষ পাওয়া খবরে অন্তত ৪ শতাধিক নিহত ও ৭ সহস্রাধিক আহত হওয়ার কথা জানা গেছে। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে ভূমিধসের কারণে উদ্ধার অভিযান ব্যহত হচ্ছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

ইরানের স্থানীয় সময় রবিবার রাত ৮টা ১৮ মিনিটে ভূমিকম্প আঘাত হানে এবং এর মূলকেন্দ্র ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ৩৩.৯ কিলোমিটার গভীরে। ভূমকম্পটি প্রধানত আঘাত হেনেছে ইরাকের আধা স্বায়ত্ত্বশাসিত কুর্দিস্থান অঞ্চলে। ওই অঞ্চলের সীমান্তে— অবস্থিত ইরানের কুর্দিস্থান ও কেরমানশাহ প্রদেশ ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

ইরান-ইরাক সীমান্তে গত রোববার আঘাত হানা ৭ দশমিক ৩ মাত্রার ভূমিকম্পে কেরমানশাহ প্রদেশের বেশকিছু গ্রাম, শহর ও পাহাড়ি এলাকা বিধ্বস্ত হয়। এ সময় সেখানে অনেকেই নিজ নিজ বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিল। ভূমিকম্পে ইরানের কমপক্ষে ১৪টি প্রদেশে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি গতকাল সোমবার ভূমিকম্পে নিহত ব্যক্তিদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ সহায়তা দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।আজ মঙ্গলবার ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করার কথা রয়েছে।

উদ্ধারকাজে নিয়োজিত কর্মকর্তারা বলছেন, ধ্বংসস্তূপের মধ্যে কারও বেঁচে থাকার সম্ভাবনা কম। ভূমিকম্পে ইরাকের সুলামানিয়াহ প্রদেশে কমপক্ষে ছয়জন নিহত ও ৬৮ জন আহত হয়েছে। আর কুর্দি এলাকায় সাতজন নিহত ও ৩২৫ জন আহত হয়েছে।

তুরস্ক, কাতার, কুয়েত ও ইসরায়েলেও রোববার রাতে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। কিছু কিছু গ্রামে বিদ্যুৎ চলে গেছে এবং টেলিযোগাযোগব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

পরাঘাতের কারণে থেমে থেমে কম্পন অনুভূত হয়েছে ইরানে। ফলে নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় পশ্চিমাঞ্চলের গ্যাসক্ষেত্রগুলো বন্ধ করে দিয়েছে ইরান।

২০১২ সালের পর ইরানে রোববারের ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে। ২০০৩ সালে ইরানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর বামে ভূমিকম্পে ২৬ হাজার লোক মারা গিয়েছিল।

 

55