চীনকে কোণঠাসা করতে মোদি–ট্রাম্পের আলোচনা

10

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সামনে পেয়ে চীনকে কোণঠাসা করার কাজটা পুনরায় ঝালিয়ে নিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় বসেছে আশিয়ানভুক্ত দেশগুলোর শীর্ষ বৈঠক।

সোমবার বৈঠকের ফাঁকে মতামত বিনিময় করলেন ট্রাম্প এবং মোদি। সরাসরি মোদি বলেন, দুই দেশকে নিজেদের স্বার্থেই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উর্ধ্বে উঠে কাজ করতে হবে। এশিয়া এবং বিশ্বের সুন্দর ভবিষ্যতের জন্যই দু’‌দেশের কাছে আসা দরকার।

দক্ষিণ চীন সাগরে বাণিজ্য পথ আটকে রেখেছে বেইজিং। এই অবস্থায় কী করা উচিত তাই নিয়ে রোববার কর্মকর্তা পর্যায়ে বৈঠক করে ভারত, আমেরিকা, জাপান এবং অস্ট্রলিয়া। চীনের একগুঁয়ে মনোভাবে অসন্তুষ্ট এই দেশগুলো ভারত–প্রশান্ত মহাসাগরের বাণিজ্যপথ মুক্ত এবং সকলের ব্যবহারে যাতে কাজে লাগে তা নিয়ে ঐকমত্য হয়েছে। তার পরদিন বৈঠকে বসলেন মোদি–ট্রাম্প।

তাঁদের বৈঠকে পারষ্পরিক সুসম্পর্কের প্রভাব ছিল স্পষ্ট। মোদি বলেন, ‘‌যখনই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভারত নিয়ে কথা বলার সুযোগ পান, তখনই ভারত নিয়ে উচ্চকিত হয়ে ওঠেন তিনি। ভারত নিয়ে তিনি আশাবাদী। আমি নিশ্চিত করতে চাই আগেও ভারত বিশ্বের আশা–আকাঙ্খা পূর্ণ করেছে। ভবিষ্যতেও তা করে যাবে।’‌

পিছিয়ে থাকেননি ট্রাম্পও। হোয়াইট হাউস থেকে জারি করা ট্রাম্পের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘‌এখানে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে দেখে ভাল লাগছে। তাঁর সঙ্গে আমরা হোয়াইট হাউসে বৈঠক করেছি। একজন সত্যিকারের ভদ্রলোক আমাদের বন্ধু হয়ে উঠেছেন। বহুধা বিভক্ত ভারতকে তিনি একসঙ্গে নিয়ে যাওয়ার প্রশংসনীয় কাজ করছেন।’‌

ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পরে ভারত–মার্কিন সম্পর্কের উন্নতি নিয়ে সন্দিহান ছিলেন সাউথ ব্লকের কর্তারা। ট্রাম্পের অতি সংরক্ষণশীল মানসিকতাই এর জন্য দায়ী ছিল। এখন আর সে সব নেই। দিল্লিকে গুরুত্ব দিতে শুরু করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।

তাঁদের বিদেশনীতির খসড়ায় আগে ‘‌এশিয়া–প্রশান্ত মহাসাগর’‌ বলা হত। এখন তা বদলে ‘‌এশিয়া–প্রশান্ত মহাসাগর’‌ শব্দবন্ধের উল্লেখ থাকে। জাপান, অস্ট্রেলিয়া, ভারতকে নিয়ে চীনের মোকাবিলায় ‘‌চতুর্ভূজ সংস্থা’‌ তৈরি করতে চাইছেন ট্রাম্প।