রংপুরে হিন্দু বাড়িতে হামলা : ‘স্ট্যাটাস’ দেয়া টিটু রায় গ্রেফতার

13

রংপুরের গঙ্গাচড়ায় হিন্দু বাড়িতে হামলা ও সংঘর্ষ মামলার সুত্রপাত হিসেবে দেয়া ‘স্ট্যাটাসের’ হোতা টিটু রায়কে তারাগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ খবর জানিয়েছেন রংপুরের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, গত ২৮ অক্টোবর টিটু রায় নামে এক যুবক ‘এমডি টিটু’ নামে তার আইডিতে হযরত মুহম্মদ (সা.) কে নিয়ে অবমাননাকর উক্তি দিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করেন।

এক পর্যায়ে শুক্রবার বেলা ৩ টার দিকে রংপুর সদর উপজেলার খলেয়া ইউনিয়নের ঠাকুরপাড়া গ্রামে হিন্দুদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে এলাকাবাসী। এসয় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে ২ জন নিহত ও ২২ জন আহত হয়।

এরপরই অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় এবং ৭দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসক।

এদিকে ছয় বছর আগে, গ্রামছাড়া টিটু রায়ের শিক্ষাগত যোগ্যতা, এনজিও পরিচালিত একটি অনানুষ্ঠানিক শিক্ষা কেন্দ্রে কিছু দিনের যাওয়া-আসা। ফেসবুক ব্যবহার করে এত বড় ঘটনার জন্ম দেবে টিটু, তা বিশ্বাস করে না গ্রামবাসী। তবে গ্রেফতারকৃত টিটু রায়ের মা বলেছেন, আমার ছেলে যদি প্রকৃত অপরাধী হয় তবে তাকে আইন অনুযায়ী শাস্তি দেয়া হোক।

মঙ্গলবার পোড়ানো বাড়িঘর পরিদর্শন শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “টিটু রায়কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। টিটু দোষী হলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

টিটু ওই গ্রামের খগেন রায়ের ছেলে। তিনি একজন গ্রাম্য কবিরাজ বলে তার মায়ের ভাষ্য। তার বিরুদ্ধে ফেইসবুকে ‘ধর্ম অবমাননার’ অভিযোগ ওঠে গত মাসে।

গত শুক্রবার কয়েক হাজার মানুষ ওই গ্রামের হিন্দুবাড়িতে হামলা চালিয়ে কয়েকটি বাড়িঘরে আগুন দেয়। এ সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে হাবিবুর রহমান (৩০) নামে একজন মারা যান। আহত হন আরও অন্তত ১১ জন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “শুনেছি টিটু লেখাপড়া জানেন না। তিনি নাকি আট-দশ বছর আগে থেকে বাড়ি ছেড়ে নারায়ণগঞ্জ গিয়ে থাকেন। পুলিশ ঘটনা তদন্ত করছে। এটা আসলে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা। এজন্য এসব ঘটনা ঘটানো হচ্ছে। দেশে ষড়যন্ত্র চলছে।”

ফেইসবুকে টিটুর স্ট্যাটাস সম্পর্কে জেলার পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেছেন, “ফেইসবুকে তার দেওয়া ধর্ম অবমাননার স্ট্যাটাস খুঁজে পাওয়া যায়নি। এলাকায় বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িতে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটানো হয়েছে।”

টিটুর মা জিতেন বালা বলেন, “আমার ছেলে কোনোদিনও স্কুলে যায়নি। সে গ্রাম্য কবিরাজ। জীবিকার সন্ধানে দশ বছর আগে এলাকা ছাড়ে টিটু। তবে আমার সাথে যোগাযোগ রয়েছে তার।”

এ ঘটনায় গঙ্গাচড়া থানার এসআই রেজাউল করিম ও কোতোয়ালি থানায় এসআই রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে দুটি মামলা করেছেন। এসব মামলায় দুই হাজারের বেশি লোককে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে ১২৪ জনকে। আর জেলা প্রশাসন গঠন করেছে একটি তদন্ত কমিটি।