রোহিঙ্গা নিয়ে ‘নজিরবিহীন‘ সঙ্কটে বাংলাদেশ : প্রধানমন্ত্রী

39

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, রোহিঙ্গাদের আগমনের ফলে তাদের নিরাপত্তা ও মানবিক সহায়তা প্রদান করতে হচ্ছে। কিন্তু দীর্ঘকাল তাদের বাংলাদেশে রাখা সম্ভব হবে না। লাখ লাখ অসহায় রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা এবং তাদের নিজ দেশে প্রত্যাবর্তন বিষয়ে বাংলাদেশ আজ ‘নজিরবিহীন সঙ্কটের’ মুখোমুখি। তবে আমার দৃঢ় বিশ্বাস আন্তর্জাতিক মহলের সহযোগিতায় আমরা শান্তিপূর্ণ উপায়ে এ সমস্যা সমাধানের সফল হবো।

বুধবার দশম সংসদের ১৮তম অধিবেশনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে এখনকার পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে বিশেষ অধিবেশন আহ্বানের লক্ষ্যে ব্যাপক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের অনুসন্ধানী দল ইতোমধ্যে কক্সবাজার সফল করে আশ্রয়গ্রহণকারী রোহিঙ্গাদের অবস্থা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেছে। তারা মিয়ানমারে মানবাধিকার চরমভাবে লংঘিত হচ্ছে বলে মত প্রকাশ করেছে। এ ছাড়া কফি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের বিষয়টি আজ সকলের দাবি।

গত ৬ নভেম্বর অনুষ্ঠিত সর্বশেষ সভায় জোরপূর্বক বিতাড়িত সকল মিয়ানমার নাগরিককে স্বদেশ ফিরে যাওয়ার ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের সাথে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সময়োপযোগী পদক্ষেপ ও কর্মতৎপরতায় মিয়ানমারের জাতিগত নিধন বন্ধের দাবিটি আজ সার্বজনীন দাবিতে পরিণত হয়েছে।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ইসূতে আমরা আন্তর্জাতিক মহলের জোর সমর্থন আদায়ে সফল হয়েছি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাশিয়ায় অনুষ্ঠিত ১৭৩তম আইপিইউ সম্মেলনে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে জরুরি রেজুলেশন নেওয়া হয়েছে। ঢাকায় অনুষ্ঠিত সিপিএ সম্মেলনেও রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহবান জানানো হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যার মূল উৎপত্তি মিয়ানমারে এবং এর সমাধানও সে দেশকে করতে হবে। নতুন করে রোহিঙ্গা ঢলের শুরু থেকেই বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, মিয়ানমারকে অবশ্যই তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে হবে।

খালেদা জিয়ার দেয়া বক্তব্য সম্পর্কে  শেখ হাসিনা বলেন, তার বক্তব্যকে আমি ধর্তব্যে নিই না। তাদের কথায় গুরুত্ব দেওয়ার কিছু নেই।মানবিক কোনো গুণাবলী তাদের মধ্যে নেই,

শেখ হাসিনা বলেন, চক্ষু থাকতে যে অন্ধ হয়, তাকে দেখাবে কে? দেখেও যে দেখতে পায় না, তাকে দেখানোর কিছু নেই।” যারা নিজেরাই ব্যর্থ অন্যের সফলতা দেখার চোখ তাদের নেই।

রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শনে খালেদা জিয়ার বিশাল গাড়িবহর নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “তিনি সেখানে যেভাবে সাজসজ্জা নিয়ে ঢোলডগর, হাতি-ঘোড়া সব নিয়ে গেলেন, তাতে উনি দুর্গত মানুষকে দেখতে গেলেন, না কি কোনো বরযাত্রী হিসেবে নিলেন, না অন্য কোনো কারণে গেলেন, তা আমার কাছে বোধগম্য নয়।”

বিএনপি চেয়ারপারসনের এভাবে যাওয়া লোক দেখানো বলে মনে করেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী।
“উনি মনে হয়েছে গাড়ি-টাড়ি সব কিছু দেখানো, একটি শো-ডাউন করা; এটার দিকে হয়ত তাদের বেশি দৃষ্টি ছিল। এটা বাস্তবতা যে মানবিক কারণে সহযোগিতা করার অভ্যাস তো তাদের নেই।”

“বিএনপি-জামাতের ব্যাপার হচ্ছে; তারা যতটা দেখানোর জন্য করে, আন্তরিকতার জন্য ততটা করে না। এটা সবাই জানেন ও বোঝেন।।”

রোহিঙ্গা সমস্যা সৃষ্টির জন্য খালেদা জিয়ার স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে দায়ী করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, “রোহিঙ্গা সমস্যাটা তো তাদেরই সৃষ্টি। তার স্বামী এটা সৃষ্টি করে গেছেন। কাজেই বিএনপি-জামাতের লক্ষ্য হচ্ছে, ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করা। ঘোলা পানিতে কীভাবে মাছ শিকার করবে, এই কাজেই তারা ব্যস্ত।”

পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই এবং বিএনপি-জামায়াতসহ যুদ্ধাপরাধের দায়ে ফাঁসিতে দণ্ডিত সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পরিবার উসকানি দিয়ে সরকারের রোহিঙ্গা ব্যবস্থাপনা প্রশ্নবিদ্ধ এবং আগামী নির্বাচন বিতর্কিত করতে যাচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে তরীকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানতে চান, এদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে কি না?

এই প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এখানে কিছু উসকানিদাতা আছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে আমরা এ বিষয়ে যথেষ্ট সচেতন। যারা এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িত, তাদের খুঁজে বের করছি।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা শান্তিতে বিশ্বাস করি। প্রতিবেশী দেশের সাথে আমরা সৎভাব রাখতে চাই। আমাদের মাটি ব্যাবহার করে কোনো দেশে, কোনো রকম সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানো, কোনো রকম উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড হতে দেব না, এটা বরদাশত করব না।”