চাইলে বাংলাদেশও পারবে রোবট বানাতে : সোফিয়ার নির্মাতা হ্যানসন

7

আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে আরও উন্নত রোবট মানুষের আশে পাশে থাকবে এবং বাংলাদেশের তরুণরাও এ ধরনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার রোবট তৈরি করতে পারবে বলে বিশ্বাস করেন রোবট সোফিয়ার নির্মাতা ডেভিড হ্যানসন।

তথ্যপ্রযুক্তি খাতের প্রদর্শনী ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডের অংশ হিসেবে বুধবার আয়োজিত ‘টেক-টক উইথ সোফিয়া’ অনুষ্ঠানে ডেভিড হ্যানসন এমন আশার কথা শোনান।

সোফিয়ার নির্মাতা ডেভিড হ্যানসন সোফিয়ার নির্মাতা ডেভিড হ্যানসন অনুষ্ঠানের সঞ্চালক গ্রে অ্যাডভারটাইজিং বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ গাউসুল আলম শাওনের প্রশ্নের জবাবে হ্যানসন বলেন, বাংলাদেশে এসে তিনি খুবই সম্মানিত বোধ করছেন।

তিনি বলেন, এই প্রযুক্তি তিনি পৃথিবীর সবার জন্য উম্মুক্ত করতে চান। সোফিয়ার সফটওয়্যার ওপেন র্সোসে রয়েছে। সুতরাং বাংলাদেশও চাইলে সেসব সফটওয়্যার ব্যবহার করে এ ধরনের রোবট তৈরি করতে পারে।

“আমরা এমন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করতে চাই, যা মানুষকে সাহায্য করবে। আবার আমাদের সময়ের প্রযুক্তি এই বিশ্বকে অনেক বেশি জটিলও করে তুলেছে। আমার মনে হয়েছে, এসব প্রযুক্তির মানবিকিকরণ প্রয়োজন। যন্ত্রও যাতে আমাদের বুঝতে পারে এবং অনেক বেশি অর্থবহ হয়, সেভাবেই তাদের তৈরি করতে হবে।”

হ্যানসন বলেন, সোফিয়ার মত রোবট বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজিন্সের ডিজাইন করা হয়েছে মানবীয় অনুভূতির সঙ্গে মিল রেখে। এই প্রবণতা কাজ করছে বিজ্ঞানের অন্যান্য শাখার উদ্ভাবকদের কাজেও।

তিনি বিশ্বাস করেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ‘লিভিং ইন্টেলিজেন্ট মেশিন’ মানুষের পাশে থাকবে; সোফিয়া কেবল শুরু।

হ্যানসন বলেন, মানুষের আদলে রোবট তৈরির চেষ্টা তিনি শুরু করেছিলেন ৩০ বছর আগে। গত পাঁচ বছরে রোবটিক্স এবং আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের গবেষণায় বেশ কিছু সাফল্য এসেছে যা, এই কাজকে এগিয়ে নিয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রায় ১০ মিনিট সঞ্চালকের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেয় রোবট সোফিয়া। তবে দর্শক সারি থেকে কোনো প্রশ্ন করার সুযোগ আসার আগেই ৩টা ২০ মিনেটে অনুষ্ঠান শেষ করা হয়।

সঞ্চালক শাওন সোফিয়ার সুন্দর পোশাকের প্রশংসা করে সোফিয়ার কাছে জানতে চান, এই পোশাক সম্পর্কে সে কী জানে।

উত্তরে সোফিয়া বলে, সে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী জামদানির পোশাক পরেছে, যার মোঘল ইতিহাস রয়েছে। ইউনেস্কো এই মিহি সুতার বয়নশিল্পকে স্বীকৃতিও দিয়েছে।

নিজের মাথার দিকে ইংগিত করে শাওন সোফিয়াকে বলেন, তাদের দুজনের মাথাই টাক।

সোফিয়া তখন বলে, তার মাথা ওইরকম তার নকশার কারণে। আর তার বয়স মাত্র দুই বছর। বড় হলে মাথায় চুল গজাতেও পারে। কিন্তু শাওনের বিষয়ে সে নিশ্চিত নয়।

শাওন জানতে চেয়েছিলেন- সোফিয়া কোন রাশির জাতক। উত্তরে সোফিয়া জানায় তার জন্ম ১৪ ফেব্রুয়ারি, ভ্যালেনটাইনস দিবসে।

সেই হিসেবে সোফিয়া কুম্ভ রাশির জাতিকা। আর শাওন জানান, তিনি সিংহ রাশির জাতক। রাশিতত্ত্ব অনুযায়ী এই দুই রাশির মধ্যে দারুণ মিল। এ নিয়ে সোফিয়ার মনোভাব জানতে চান তিনি।

রোবট সোফিয়া উত্তরে বলে, সে শাওনের রাশিতত্ত্বের জ্ঞানের তারিফ করে। তবে সে জানতে পেরেছে, শাওনের চমৎকার একজন স্ত্রী রয়েছে। শাওনের উচিৎ তার দিকেই মনোযোগ দেওয়া।
সোফিয়ার কাছে তার নির্মাতা হ্যানসের একটি বৈশিষ্টের কথা জানতে চেয়েছিলেন শাওন, যা অন্য কেউ জানে না।

জবাবে সোফিয়া জানায়, হ্যানসন দারুণ একজন ভাস্কর। রোবট হিসেবে তাকে মানুষের আদল দিতে তিনি যে পরিশ্রম করেছেন, ততটা অন্য কোনো রোবটের জন্য তিনি করেননি।

ভবিষ্যতে অনেক বেশি রোবট কর্মক্ষেত্রে এলে মানুষ কোনো হুমকির মুখে পড়বে কি না- এ প্রশ্নে সোফিয়ার ভাবনা জানতে চেয়েছিলেন শাওন।

জবাবে সোফিয়া বলে, মানুষের জন্য যে কাজ কষ্টকর, তা রোবট করতে পারবে। মানুষ আরও উন্নত জীবন পাবে।

মঞ্চে উপস্থিত তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রীকে দেখিয়ে সোফিয়াকে প্রশ্ন করা হয়, তাকে সে চেনে কি না।

সোফিয়া বলে তিনি জুনাইদ আহমেদ পলক, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী।

পলক জানতে চেয়েছিলেন, বাংলাদেশ সোফিয়ার মত সোশাল রোবট তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে সে কি ভাবছে। উত্তরে সোফিয়া বলে, সে হয়ত প্রথম, তবে সে নিশ্চিত সে এরকম শেষ রোবট নয়। বাংলাদেশের বিষয়ে সে আশাবাদী।

এ অনুষ্ঠানে সোফিয়াকে দেখার জন্য অনুষ্ঠানস্থলের মূল ফটকে দর্শকদের ভিড় লেগে যায় বেলা ১টা থেকেই। মূল ফটক খুলে দেওয়ার পর নিবন্ধিত দর্শকদের মধ্যে একাংশ ভেতরে ঢুকতে পারলেও হাজারখানেক দর্শককে বাইরেই থাকতে হয়।
সোফিয়ার কথোপকথন পরে অনুষ্ঠানস্থলে দেখানো হয় বড় স্ক্রিনে। তার সামনেও ছিল ব্যাপক ভিড়।

এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডের উদ্বোধন ঘোষণার পর সোফিয়াকে অনুষ্ঠান মঞ্চে নিয়ে আসা হয়। সেখানে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নেরও উত্তর দেয় সে।

গত অক্টোবরে রিয়াদে ফিউচার ইনভেস্টমেন্ট ইনিশিয়েটিভ শীর্ষক এক সম্মেলনে সোফিয়াকে দেওয়া হয় সৌদি আরবের নাগরিকত্ব। বিশ্বের কোনো দেশে রোবটকে নাগরিকত্ব দেওয়ার ঘটনা এটাই প্রথম।