আগাম নির্বাচন দেয়ার মত কোন পরিস্থিতি দেশে তৈরী হয়নি : প্রধানমন্ত্রী

3

আগাম নির্বাচন দেয়ার মত কোন পরিস্থিতি দেশে তৈরী হয়নি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে বিশ্বাসী সকল দলই অংশ নিবে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। সৌদি আরবে প্রাপ্ত সম্পদের বিষয়ে তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার কথাও জানান তিনি। গণভবনে আয়োজিত কম্বোডিয়া সফর পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। সাজাপ্রাপ্ত আসামী তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যপারে যুক্তরাজ্যের সরকারের সাথে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

কম্বোডিয়া সরকারের আমন্ত্রনে ৩ দিনের সফরে বাংলাদেশের প্রত্যাশা এবং প্রান্তি জানাতেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই সংবাদ সম্মেলন। লিখিত বক্তব্যে কম্বোডিয়ার সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক উন্নয়নে সফরটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া নানা বিষয় নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন সরকার প্রধান। আগামী নির্বাচনে বিএনপির অংশ গ্রহণের বিষয়ে সরকারি দলের অবস্থান তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, গণতান্ত্রিক একটি দেশে যে দলগুলো গণতন্ত্র চর্চা করে, সেসব দলের নির্বাচনে আসা কর্তব্য। তবে কে নির্বাচনে আসবে আর কে নির্বাচনে আসবে না, সে ব্যাপারে সরকারের কিছু করণীয় নেই।।

সৌদি আরবে খালেদা জিয়ার ৫০০ কোটি টাকার সম্পদের তদন্ত ও বিচার বাংলাদেশের আইনেই হবে জানিয়ে, তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনতে কুটনৈতিক তৎপরাতার কথাও জানান তিনি।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের প্রতি বিশ্বের সমর্থন রয়েছে জানিয়ে জেরুযালেমের বিষয়ে মুসলিম রাষ্ট্রগুলোকে ঐক্যবন্ধ প্রতিবাদ জানানোর আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী ।

জনগনই সকল ক্ষমতার উৎস জানিয়ে জনগনের সমর্থন নিয়েই আগামী নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী বাছাই করার বিষয়েও মত দেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সম্প্রতি আদালতে খালেদা জিয়ার দেওয়া বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উচিৎ, জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া। শেখ হাসিনা বলেন, আমি কেন ক্ষমা চাইবো? উনি কিসের ক্ষমা করলেন সেটা হল প্রশ্ন। ২১ অগাস্ট আমি যে বেঁচে গিয়েছি সেই কথা বলছেন? ক্ষমা করেছেন না চাইছেন, সেটা স্পষ্ট না।”

উল্লেখ্য, জিয়া এতিমখানা দুর্নীতি মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থনে বক্তব্য দিতে গিয়ে গত ১১ সেপ্টেম্বর খালেদা জিয়া বলেন, সরকার জিয়া পরিবারের সঙ্গে বৈরী আচরণ করলেও তিনি শেখ হাসিনাকে ‘ক্ষমা করে দিয়েছেন’, প্রতিহিংসামূলক কিছুই তিনি করবেন না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি কোনো অপরাধ করেছি নাকি যে আমাকে ক্ষমা করতে হবে? বরং তার উচিৎ দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়া।

বিএনপিনেত্রীর ওই বক্তব্য নিয়ে এক সাংবাদিক প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলে শেখ হাসিনা বলেন, সরকার বিএনপি চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে কোনো মামলা করেনি। বরং খালেদা জিয়ার সরকারই তার বিরুদ্ধে এক ডজনের মতো মামলা দিয়েছিল।

খালেদার বিরুদ্ধে অধিকাংশ মামলা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়েই হয়েছিল- সে প্রসঙ্গ টেনে শেখ হাসিনা বলেন, “তত্ত্বাবধায়ক সরকার কারা। সবাই উনার লোক। নয়জনকে টপকে সেনাপ্রধান করা হয়েছিল মঈন ইউ আহমেদকে, বিশ্ব ব্যাংক থেকে ফখরুদ্দীনকে এনে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর করা হয়। আর ইয়াজউদ্দিনতো ওনার ইয়েস উদ্দিন। সবগুলো ওই আমলের মামলা।”

আরেক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার এমন কোনো দৈন্যদশায় পড়েনি যে আগাম নির্বাচন দিতে হবে।

“উন্নয়ন কাজ এগিয়ে নিতে আরও সময় দরকার। আমরা গেলে উন্নয়ন কাজের কী অবস্থা হয়…। যে উন্নয়ন আমি করেছি, আমি চ্যালেঞ্জ দিতে পারি, এত অল্প সময়ে আমরা যে উন্নয়ন করে দিয়েছি, সেটা কেউ করে দিতে পারে নাই।”