বাংলাদেশের মাটিতে জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসের কোন স্থান নেই

র‌্যাবের মহাপরিচালক (ডিজি) বেনজীর আহমেদ বলেছেন,বাংলাদেশের মাটিতে জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসের কোন স্থান নেই। এদেশের মানুষ জঙ্গিবাদ পছন্দ করে না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আইশৃঙ্খলাবাহিনীর জিরো টলারেন্স ও সাধারণ মানুষের ঘৃণার কারণে জঙ্গিবাদ দমন করা সম্ভব হয়েছে।

আজ ( ১২ জানুয়ারি) বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমীতে ‘মহাজোট সরকারের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা ও জঙ্গিবাদ নির্মূলে জিরো টলারেন্স’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

বেনজীর আহমেদ বলেন, জঙ্গিবাদ বাংলাদেশে বিজাতীয় ধারণা। এদেশের মাটি জঙ্গিবাদের জন্য অনুকূল নয়। পাকিস্তান আমলে প্রথম যে জঙ্গিবাদী আন্দোলন শুরু হয়েছিল তা ছিল পশ্চিম বাংলায়। মার্কসবাদী আন্দোলন সেটা। সিরাজ শিকদারের মৃত্যুর পর তার বিলুপ্তি ঘটে।

এরপর আফগানিস্তানের যুদ্ধে তালেবানি তৎপরতা শুরু হয়। যুদ্ধ শেষে যুদ্ধ ফেরতরা আঞ্চলিকভাবে জঙ্গিবাদী তৎপরতা শুরু করে।

গত বছর গুলশানে আমরা জঙ্গিবাদী তৎপরতা দেখতে পাই। দেশের গণতন্ত্র ও উন্নয়নের গতি থামিয়ে দিতেই বিদেশিদের হত্যা করা হয়। তবে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ ও কঠোর অবস্থান এবং সাধারণ মানুষের জঙ্গিবাদের প্রতি ঘৃণা ও অবস্থানের কারণে তাদের নির্মূল করা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে জঙ্গিদের বড় ধরনের কোনো নাশকতার শক্তি নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

আলোকচিত্র প্রদর্শনী শেষে র‍্যাব ডিজি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আরো বলেন, পুরনো জেএমবির সঙ্গে নতুন জেএমবির আদর্শিক ও নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব ছিল। প্রথম তা প্রকাশ্যে আসে ২০১২ সালে। এরপর ২০১৫ সালে তানভীর কাদেরির নেতৃত্বেই মূলত নতুনরা ও পুরনো জেএমবির একাংশ নিয়ে আবারো অপতৎপরতা শুরু হয়। যদিও এখন পর্যায়ক্রমিক অপারেশনের কারণে ছিন্নভিন্ন জঙ্গি নেটওয়ার্ক। তাদের আর বড় হামলা চালানোর সক্ষমতা নেই।

বেনজীর বলেন, জঙ্গি অর্থায়নের অভিযোগে এর আগে দেশি-বিদেশি অনেককে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে। অর্থ উদ্ধার করা হয়েছে। আর নব্য জেএমবিতে সক্রিয়দের তালিকা হালনাগাদের বিষয়টি একটি চলমান প্রক্রিয়া বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ২০১২ সাল থেকে এদেশে একটি গোষ্ঠী দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। ২০১৩ সালে হেফাজত দেশের মধ্যে একটি বড় ধরণের অস্থিরতা সৃষ্টির করেছিল। তখন ঢাকা মেডিকেলে গেলে শুধু মানুষ পোড়ার গন্ধ পাওয়া যেত। কিন্তু আমাদের বিচক্ষণতার কারণে তারা কোন সুফল পায়নি। সন্ত্রাস প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জিরো টলারেন্স নীতিতে অটল আছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com