অবিশ্বাস্যভাবে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেলো বেলজিয়াম

0
54

অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে রাশিয়া বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে বেলজিয়াম। জাপানের বিপক্ষে রেড ডেভিলদের জয় ৩-২ গোলে।

রোস্তভ অ্যারেনায় দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে দুই গোলে এগিয়ে থেকে সম্ভাবনা জাগায় জাপান। কিন্তু দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে তিন গোল করে রাশিয়া বিশ্বকাপের শেষ আটে পা রাখে বেলজিয়াম।

দ্বিতীয়ার্ধেই হয় গোল পাঁচটি। দুর্দান্ত আক্রমণ-প্রতিআক্রমণে রোমাঞ্চ জাগানো ম্যাচটিতে হতে পারতো আরও অনেক গোল। হয়নি দুই গোলরক্ষকের দুর্দান্ত কিছু সেভ আর ডিফেন্ডারদের মরিয়া প্রতিরোধে।

বিশ্বকাপে এই প্রথম টানা দুই আসরে কোয়ার্টার-ফাইনালে উঠলো বেলজিয়াম। ২০১৪ আসরে শেষ আটে আর্জেন্টিনার কাছে ১-০ গোলে হেরেছিল দলটি।

শুরু থেকেই জাপানের রক্ষণে চাপ তৈরি করা বেলজিয়াম প্রথম ভালো সুযোগটা পায় ২৬তম মিনিটে। ড্রিস মের্টেন্সের গোলমুখে বাড়ানো ক্রস ঠিকমতো বিপদমুক্ত করতে না পারায় সুযোগ আসে রোমেলু লুকাকুর সামনে। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ডিফেন্ডার মায়া ইয়োশিদা বাঁচান দলকে। পরের মিনিটে এদেন আজারের জোরালো শট রুখে দেন গোলরক্ষক এইজি কাওয়াশিমা।

বিরতির আগে থিবো কর্তোয়ার ভুলে গোল খেতে বসেছিল বেলজিয়াম। বাঁ-দিক থেকে ইউতো নাগাতোমোর শট ছয় গজ বক্সে ফরোয়ার্ড ইউয়া ওসাকোর পায়ে লেগে একটু দিক পাল্টায়। বল ধরতে গিয়ে তালগোল পাকান চেলসির গোলরক্ষক। যায় হাত ফসকে; তবে বলে গতি না থাকায় সে যাত্রায় বেঁচে যায় বেলজিয়াম।

শুরু থেকে বল দখলে পিছিয়ে থাকা জাপান প্রথমার্ধে মাঝে মধ্যেই পাল্টা আক্রমণে প্রতিপক্ষের রক্ষণে ভীতি ছড়ায়। দ্বিতীয়ার্ধের তৃতীয় মিনিটে তেমনি এক আক্রমণে এগিয়ে যায় এশিয়ার দলটি।

নিজেদের সীমানা থেকে মিডফিল্ডার গাকু শিবাসাকির থ্রু বল ঠেকাতে ব্যর্থ হন ইয়ান ভার্টোনেন। বল ধরে ডি-বক্সে ঢুকে ছুটে আসা ডিফেন্ডার ভার্টোনেনকে কোনো সুযোগ না দিয়ে দূরের পোস্ট দিয়ে লক্ষ্যভেদ করেন গেনকি হারাগুচি।

ভাগ্য সহায় হলে পরের মিনিটেই সমতায় ফিরতে পারতো বেলজিয়াম। কিন্তু এদেন আজারের জোরালো শট লাগে পোস্টে।

পিছিয়ে পড়ার ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই ৫৩তম মিনিটে দ্বিতীয় গোল খেয়ে বসে বেলজিয়াম। ডি-বক্সের বাইরে শিনজি কাগাওয়া দারুণভাবে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে পিছনে তাকাসি ইনুইকে বাড়ান। প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে জোরালো শটে গোলটি করেন এইবারের মিডফিল্ডার ইনুই।

গোলের জন্য মরিয়া বেলজিয়াম পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে দুবার বল জালে পাঠিয়ে সমতা ফেরায়। ৬৯তম মিনিটে নেওয়া কর্নার থেকে আসা বল ফিস্ট করে ঠিকমতো ফেরাতে পারেনি গোলরক্ষক। জটলা থেকে বল যায় বাঁ দিকে থাকা ভার্টোনেনের কাছে। অসাধারণ এক হেডে গোলরক্ষকের মাথার উপর দিয়ে দূরের পোস্ট ঘেঁষে বল জালে পাঠিয়ে আগের ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করেন টটেনহ্যাম হটম্পারের এই ডিফেন্ডার।

আর ৭৪তম মিনিটে বাঁ-দিক থেকে আজারের দারুণ ক্রস ছয় গজ বক্সে পেয়ে হেডে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মিডফিল্ডার মারোয়ান ফেলাইনি।

শেষ ১০ মিনিটে প্রতিপক্ষের রক্ষণে আরও চাপ বাড়ায় বেলজিয়াম। করতে থাকে একের পর এক আক্রমণ। কিন্তু এইজি কাওয়াশিমা ছিলেন দেয়াল হয়ে। নাসের শাদলি ও লুকাকুর পর পর দুটি হেড দারুণ দক্ষতায় রুখে দেন গোলরক্ষক।

যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে ৩৫ গজ দূর থেকে কেইসুকে হোন্ডার দুর্দান্ত একটি ফ্রি-কিক ডান দিক ঝাঁপিয়ে ঠেকান কর্তোয়া। আর এরপরই জাপানকে থমকে দেওয়া সেই গোল।

কর্তোয়ার গড়িয়ে দেওয়া বল ধরে সোজাসুজি এগিয়ে যান ডি ব্রুইনে, বাড়ান ডান দিকে থাকা মুনিয়েকে। তার ক্রস ডি-বক্সে ঠাণ্ডা মাথায় ছেড়ে দেন লুকাকু। বল পেয়ে জালে ঠেলে দেন বদলি মিডফিল্ডার শাদলি।

উচ্ছ্বাসে ভাসে বেলজিয়াম। অন্যদিকে, অন্তিম মুহূর্তে এমন পরাজয় যেন মানতেই পারছিলেন জাপানের কোচ ও খেলোয়াড়রা। কাছে গিয়েও আরও একবার শেষ ষোলো থেকে বিদায় নিতে হলো। নকআউট পর্বে জয় অধরাই রয়ে গেল। এর আগে ২০০২ ও ২০১৪ আসরে গ্রুপ পর্ব পেরিয়েছিল এশিয়ার দেশটি।
১৯৭০ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পশ্চিম জার্মানির জয়ের পর প্রথম দল হিসেবে বিশ্বকাপের নকআউটে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়েও জয় নিয়ে মাঠ ছাড়লো বেলজিয়াম।

২০১৬ সালের অগাস্টে দায়িত্ব নেওয়া রবের্তো মার্তিনেসের অধীনে বেলজিয়ামের অপরাজেয় পথচলাটাও আরও দীর্ঘ হলো। এই নিয়ে শেষ ২৩ ম্যাচের একটিতেও হারেনি তারা। মার্তিনেস যোগ দেওয়ার পরের মাসে স্পেনের কাছে ২-০ গোলে হেরেছিল দলটি। তার অধীনে বেলজিয়ামের ওটাই ছিল প্রথম ম্যাচ এবং এখন পর্যন্ত ওই একটিই হার।

আগামী শুক্রবার কাজান অ্যারেনায় পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের বিপক্ষে শেষ চারে ওঠার লড়াইয়ে নামবে বেলজিয়াম।