মাইটিভি সম্পর্কে

প্রয়াত ওমেদা বেগম ছিলেন মাই টিভি’র মূল প্রতিষ্ঠান ভি.এম ইন্টারন্যাশনাল লি: এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান। তিনি মনে প্রাণেই প্রান্তিক জনগণের জন্য ছিলেন একজন নিবেদিত প্রাণ। যিনি সব সময় চিন্তা করতেন এমন এক মাধ্যমের কথা যার দ্বারা এই দেশের মানুষের শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি, ভাষা এবং প্রকৃত নাগরিক অধিকার বিশ্ব দরবারে তুলে ধরা যায়। যা কেবল শুধু দেশে বসবাসরত বাঙালীরাই নয়; এমনকি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত বাংলা ভাষাভাষিরাও যেন জানতে পারে সোনালী অক্ষরে লেখা বাঙালী জাতির গৌরব গাঁথা ইতিহাস।

‘সৃষ্টিতে বিস্ময়’ মাই টিভি’র স্লোগান। এই অনবদ্য স্লোগানের মূলমন্ত্র বুকে ধারণ করে গত ১৫ এপ্রিল ২০১০ সালে আকাশ সংস্কৃতির প্রচার মাধ্যমে মাই টিভি আত্ম প্রকাশ করে। আমরা সব সময় বিশ্বাস করি ‘মাই টিভি’ কেবল মাত্র একটি টিভি চ্যানেলই নয়, বরং মাই টিভি এ দেশ এবং দেশের সম্পদ, যার মাধ্যমে এই গৌরব উজ্জল জাতিকে আন্তরিক সেবা দান করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। ২৪ ঘন্টার সম্প্রচারে মাই টিভি সর্বদাই আমাদের প্রাণ প্রিয় মায়ের মুখের বাংলা ভাষা দ্বারা নির্মিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালা বাংলাদেশ ছাড়াও দেশের বাইরে অবস্থানরত প্রবাসি বাংলাদেশীদের জন্য প্রচার করে থাকে। বাংলা সংস্কৃতির জন্য বাঙালীরা যেন বুক ভরে নি:সংকোচে নি:শ্বাস নিতে পারে (মনের মধ্যে পোষা) প্রাণ প্রিয় বাংলা ভাষায় আনন্দ পেতে, এই ছিল আমাদের প্রয়াত সম্মানিত প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যানের চির লালিত স্বপ্ন।

মাই টিভি দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে এখন ৭ম বর্ষে পদার্পন করেছে। এই স্বল্প পরিসরেই ‘মাই টিভি’ ইউকে, ইউএসএ, কানাডা, প্রাচ্য, পাশ্চাত্য, আফ্রিকা ও এশিয়াসহ বিশ্বের প্রায় ১৫৩টি দেশের সম্প্রচারিত হচ্ছে। নির্দ্বিধায় বলা যায় যে, অদূর ভবিষ্যতে ‘মাই টিভি’ আরও আস্থার সাথে বিশ্বের অন্যান্য দেশেও তার সম্প্রচার বিস্তার লাভ করতে পারবে এবং এ ব্যাপারে আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

আমাদের বার্তা বিভাগে কর্মরত এক দল তরুন অভিজ্ঞ, প্রাণোচ্ছল, উদ্যমী, সাহসী এবং সুশিক্ষিত জনবলের মাধ্যমে অত্যন্ত অভিজ্ঞ, ত্যাগী এবং প্রগতিশীল দক্ষ ব্যক্তিদের নেতৃত্বে প্রতিদিনের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নির্ভুল, প্রাসঙ্গিক এবং তথ্যবহুল সংবাদ দেশে ও দেশের বাইরে সংবাদ প্রচারের সময় অনুযায়ী নিয়মিতভাবে আস্থার সাথে সম্প্রচার করে যাচ্ছে।

দেশের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমের টিভি চ্যানেল হিসেবে আমরা সবসময় আমাদের প্রান্তিক এবং গ্রামীণ জনপদের সংস্কৃতি, অধিকার এবং বঞ্চনা নিয়ে গুরুত্বের সাথে সংবাদসহ বিনোদনমূলক সকল অনুষ্ঠানমালা সম্প্রচার করার চেষ্টা করে থাকি, কেননা আমরা সবসময় মনে করি বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে উন্নতজাতি হিসেবে মাথা উচুঁ করে দাঁড়াতে হলে এ প্রচেষ্টাই হতে পারে আমাদের অন্তরের বলিষ্ঠ শক্তি। এ ছাড়াও আমরা সব সময়ই সকল সম্মানিত দর্শকদের চাহিদা অনুযায়ী সময়োপযোগী নান্দনিক অনুষ্ঠান সম্প্রচারে বদ্ধ পরিকর।

আমাদের সাথে সমাজের বিভিন্ন স্তরের জনগণকে তাদের সৃজনশীলতা, উদ্ভাবনী এবং গবেষণাধর্মী অনুষ্ঠান নিয়ে একত্রে কাজ করার জন্য সর্বদা উদ্বুদ্ধ করে থাকি। প্রকৃতপক্ষে আমরা প্রতিটি স্তর থেকে টেলিভিশনযোগ্য যে কোন মেধাবীদেরকে খুঁজে বের করে তার প্রতিভা বিকাশে সহযোগিতা করে থাকি। এই সকল অনুষ্ঠানমালা নির্বিঘ্নে ২৪ ঘন্টা সম্প্রচার করার জন্য আমরা অনুষ্ঠানের পাশাপাশি শুভানুধ্যায়ী ও অগ্রগামী প্রতিষ্ঠানের প্রস্তুতকৃত বিভিন্ন সামগ্রীর বিজ্ঞাপন বৈচিত্রময় আঙ্গিকে সম্প্রচার করে থাকি।

এছাড়াও মাইটিভি প্রাতিষ্ঠানিক সামাজিক দায়বদ্ধতা, বাধ্যতামূলক শিক্ষা, কৌশলগত অংশিদারিত্ব, টেকসই উন্নয়ন, সক্ষমতা বৃদ্ধি, ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণ, সন্ত্রাসবাদ নিরসন, নারী ও শিশু অধিকার ইত্যাদি সম্পর্কিত টকশো, তথ্যচিত্র ও ফিলারসহ বিভিন্ন কর্মসূচী সম্প্রচারের মধ্য দিয়ে সার্বজনীন ও গণসচেতনতামূলক কর্মসূচীতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে ।

দেশ ও বিদেশে মাই টিভি’র আজকের যে জনপ্রিয়তা, আস্থা এবং পরিচিতির ধারা তা একমাত্র সম্ভব হয়েছে প্রতিটি স্তরের সম্মানিত দর্শকমন্ডলী, শুভানুদ্ধায়ী, বিজ্ঞাপন দাতা, ক্যাবল্ অপারেটর, মাই টিভি’র সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সংশ্লিষ্ট সম্মানিত সকল সদস্যদের জন্য। আগামীতে আরও যে পথ পাড়ি দিতে হবে সেই পথেও আমরা সব সময়ই আপনাদেরকে পাশে পেতে চাই পরম বন্ধুত্বের হাতে হাত রেখে। আপনাদের সকলের জন্য রইল আমাদের আন্তরিক ভালোবাসা ও অভিনন্দন।