আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে অনেকের মনে প্রশ্ন, ঠিক কত টাকা বা সম্পদ থাকলে কোরবানি করা আবশ্যক? ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী এ বিষয়ে নির্দিষ্ট বিধান রয়েছে।শরিয়ত অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্ক, জ্ঞানসম্পন্ন এবং মুকিম মুসলমানের কাছে ১০, ১১ ও ১২ জিলহজের মধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ বাদে যদি নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকে, তবে তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব হয়।নিসাবের পরিমাণ হলো—সাড়ে সাত তোলা সোনা বা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপা কিংবা তার সমমূল্যের নগদ অর্থ বা সম্পদ।
সোনার নিসাব অনুযায়ী, বাজারমূল্য বিবেচনায় প্রায় চার লাখ টাকার সমমূল্য সম্পদ থাকলে কোরবানি আবশ্যক হয়। অন্যদিকে রুপার নিসাব অনুযায়ী প্রায় পঞ্চাশ হাজার টাকা বা তার বেশি সমমূল্যের সম্পদ থাকলেও কোরবানি ওয়াজিব হয়ে যায়।শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, কোরবানির জন্য সম্পদ এক বছর ধরে থাকা জরুরি নয়। বরং জিলহজ মাসের নির্দিষ্ট তিন দিনের মধ্যে নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলেই কোরবানি ওয়াজিব হয়।এছাড়া ব্যক্তি অবশ্যই প্রাপ্তবয়স্ক, মুসলিম, সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন এবং ঋণমুক্ত হতে হবে। কেউ যদি মুসাফির হন (প্রায় ৪৮ মাইল বা তার বেশি সফরে থাকেন), তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব নয়। নাবালেগ শিশু বা পাগলের ওপরও কোরবানি আবশ্যক নয়।
ইসলামি ফিকহের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, নগদ টাকা ছাড়াও ব্যবসার পণ্য, প্রাইজবন্ড বা প্রয়োজনের অতিরিক্ত যেকোনো সম্পদ নিসাবের মধ্যে গণ্য হবে।পরিবারের প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক সদস্য যদি আলাদাভাবে নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হন, তবে সবার ওপর পৃথকভাবে কোরবানি ওয়াজিব হবে—একজনের কোরবানি অন্যজনের জন্য যথেষ্ট হবে না।অন্যদিকে কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে কোরবানি না করে, তবে তিনি ওয়াজিব তরকের কারণে গুনাহগার হবেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।ইসলামি বিধান অনুযায়ী, কোরবানি কেবল আর্থিক ইবাদত নয়; এটি আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
Mytv Online