বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তবর্তী ঈদগাঁ রেঞ্জাধীন বাইশারী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাগজিখোলা এলাকার ক্যাংগারবিল-সংলগ্ন খুটাখালী পূর্ণগ্রামে এক অসুস্থ বন্য মা হাতি মারা গেছে। শনিবার রাত পৌনে ১২টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাতিটি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করে। মায়ের মৃত্যুর পর থেকে তার শিশু শাবকটির করুণ ডাক এবং পরবর্তীতে আরও প্রায় ১০টি বন্য হাতির দল এসে মৃত হাতিটিকে ঘিরে রাখার দৃশ্য দেখে স্থানীয়দের চোখে জল নেমে আসে।
স্থানীয় ৬৫ বছর বয়সী কৃষক নুর মোহাম্মদ জানান, গত শুক্রবার রাত থেকেই দুর্বল ও অসুস্থ মা হাতিটি তার সাত মাস বয়সী শাবকটিকে নিয়ে বাড়ির আশপাশে ঘোরাঘুরি ও ডাকাডাকি করছিল। বিষয়টি টের পেয়ে তিনি শনিবার সকালে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বন বিভাগকে খবর দেন। সকাল থেকে মা হাতিটি চরম শারীরিক দুর্বলতা নিয়ে একই স্থানে পড়ে ছিল এবং মায়ের এই অবস্থা দেখে অবুঝ শাবকটি অনবরত মায়ের চারপাশে ঘুরে চিৎকার করতে থাকে। লোকালয়ের মানুষের উপস্থিতি দেখে আতঙ্কিত শাবকটির আহাজারি আশপাশের গ্রামবাসীকে ব্যথিত করে তোলে।
স্থানীয়দের ধারণা, পাহাড়ি বনাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র খাদ্যসংকট চলায় বন্য হাতির দল প্রায়ই লোকালয়ে হানা দিচ্ছে। এই মা হাতিটিও পর্যাপ্ত খাবারের অভাব এবং অপুষ্টিজনিত কারণে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছিল।খবর পেয়ে ঈদগাঁ রেঞ্জ কর্মকর্তা উজ্জ্বল কান্তি দাশ দ্রুত টিমসহ ঘটনাস্থলে পৌঁছান। স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় উত্তেজিত ও আতঙ্কিত শাবকটি থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে মা হাতিটিকে নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও ওষুধ প্রয়োগের মাধ্যমে চিকিৎসা শুরু করা হয়।
রেঞ্জ কর্মকর্তা উজ্জ্বল কান্তি দাশ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পশু চিকিৎসকের জরুরি পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সব ধরনের ইনজেকশন ও ওষুধ এনে হাতিটিকে সুস্থ করার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হয়েছিল। তবে দীর্ঘদিনের শারীরিক অবক্ষয় ও দুর্বলতার কারণে শেষ পর্যন্ত শনিবার মধ্যরাতে হাতিটিকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। আজ রবিবার সকালে সরকারি নিয়ম ও আইনি প্রক্রিয়া মেনে মৃত হাতিটিকে একই এলাকায় মাটিচাপা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
মা হাতিটির মৃত্যুর পর বনের গভীর থেকে আরও একদল বন্য হাতি এসে মৃতদেহের চারপাশে অবস্থান নেওয়ায় এলাকায় কিছুটা থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এদিকে এতিম হয়ে পড়া এই ছোট হাতির শাবকটির ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা, বন্য পরিবেশের অন্যান্য হিংস্র প্রাণী থেকে সুরক্ষা এবং তার যথাযথ পরিচর্যার জন্য বন বিভাগের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় পরিবেশবাদী ও সচেতন এলাকাবাসী।
Mytv Online