চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার নানুপুর ইউনিয়নে বিভিন্ন জায়গা দখল ও অবৈধ পাহাড় কাটার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে। আওয়ামী সরকারের রাজনৈতিক ও পারিবারিক প্রভাব খাটিয়ে বছরের পর বছর ধরে পাহাড় কেটে মাটি ও গাছ বিক্রি অভিযোগ থাকলে নির্বিকার প্রশাসন। পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ অনুযায়ী পাহাড় কাটা দণ্ডনীয় অপরাধ হলেও সংশ্লিষ্টরা প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞাকে তোয়াক্কা না করেই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এতে করে একদিকে হুমকির মুখে পড়ছে এলাকার পরিবেশ অন্যদিকে আতংকে রয়েছে সাধারণ মানুষ।
জানা গেছে, স্বৈরাচারি সরকারের একাধিক মামরার আসামী সময়ে গত কয়েক বছর ধরে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার নানুপুর ইউনিয়নে প্রকাশ্যে পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি করছেন আব্বাস উদ্দিন ওরফে ডিস আব্বাস। এলাকাবাসীরা জানান, আব্বাস তার নিজেস্ব বাহিনী দিয়ে এবং তার পারিবারিক আওয়ামী রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে নির্বিচারে পাহাড় কেটে পরিবেশ ধ্বংস করে চলরেও তার বিরুদ্ধে কথা বলার মত সাহস পাচ্ছে না কেউ। বিষয়টি স্থানীয় প্রসাশনকে জানালেও কোনো সুরাহা হচ্ছে না।
অভিযোগে রয়েছে বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে ফটিকছড়ি উপজেলার প্রভাবশালী এক আওয়ামিলীগ নেতা এবং তাঁর পরিবারের প্রভাব কাজে লাগিয়ে এই অবৈধ কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতিবাদ করলে তাঁদের হুমকির মুখে পড়তে হয়। ফলে ভয় ও আতঙ্কের কারণে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। আর এই আব্বাস উদ্দিন ওরফে ডিস আব্বাসের মাষ্টার মাউন্ট হচ্ছে ঢাকায় একটি বেসরকারি ব্যাংকে কর্মরত কর্মরত তারই আপন বড় ভাই আনিস মাহমুদের বিরুদ্ধও অভিযোগ উঠেছে। আব্বাসের নেতৃত্বে উপজেলার নানুপুর ইউনিয়নে একটি শক্তিশালী পাহাড় কাটার সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে।
এই সিন্ডিকেট বনভূমি ধ্বংস করে পাহাড়ি গাছ কেটে বিক্রি করছে এবং প্রতিদিন ড্রাম ট্রাকে করে পাহাড় থেকে বিপুল পরিমাণ মাটি সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান, “আমরা কিছু বললেই আব্বাস ও আব্বাসে তৈরি করা বাহিনীর দিয়ে হুমকি দেয়। পাহাড় কাটা বন্ধ করতে বললেই বিপদে পড়তে হয়।” নানুপুর ইউনিয়নের বাসি পুরো ইউনিয়ন কার্যত এই পরিবারের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
অভিযুক্ত আব্বাস উদ্দিন প্রকাশ্যে এলাকাবাসীকে ভয় দেখানোর অভিযোগ আছে এছাড়াও তার বাহিনীর লোকজন দিয়ে হুমকি দেওয়ার একাধিক অভিযোগ তাকলে বহাল তবিয়তে তার কাজ করে যাচ্ছে। “পাহাড় কেটে মাটি সরিয়ে নেওয়ার ফলে একদিকে যেমন প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে বর্ষা মৌসুমে ভয়াবহ পাহাড় ধসের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ধ্বংস হচ্ছে জীববৈচিত্র্য, বাড়ছে মানুষের জীবনের ঝুঁকি।”
এলাকাবাসী দ্রুত প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। তাদের আশা, অবিলম্বে পাহাড় কাটা বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের পরিবেশগত বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।
এবিষয় কথা বলতে আব্বাসে ব্যবহৃত মোবাইল কল দিলে তিনি জানান, আমার বিরুদ্ধে যড়যন্ত্র চলছে। আমি ডিসের ব্যবসা করি। আমার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগগুলো মিথ্যা।
Mytv Online