অফিসের ডেস্কে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে কাজ, অবসরে ফোন স্ক্রল কিংবা ল্যাপটপে সিরিজ দেখা এখনকার জীবনে স্বাভাবিক অভ্যাস। কিন্তু এই অভ্যাসই ডেকে আনতে পারে ঘাড়ের ব্যথার মতো বিরক্তিকর সমস্যা। সাম্প্রতিক এক গবেষণা বলছে, দিনে ছয় ঘণ্টা বা তার বেশি সময় একটানা বসে থাকলে ঘাড়ব্যথার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। বিশেষ করে নারীদের এবং অফিসকর্মীদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বেশি।
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত ‘বিএমসি পাবলিক হেলথ’ জার্নালের গবেষণায় বলা হয়েছে, দীর্ঘসময় বসে থাকা বা “সেডেন্টারি বিহেভিয়ার” ঘাড়ের ব্যথার অন্যতম বড় কারণ হয়ে উঠছে। গবেষকদের মতে, মাত্র এক ঘণ্টার বেশি স্ক্রিনভিত্তিক বসে থাকার অভ্যাস থেকেই ঝুঁকি বাড়তে শুরু করে। তবে চার ঘণ্টার বেশি হলে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায় এবং ছয় ঘণ্টা পার হলে সমস্যা সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।
কারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে?
গবেষণায় দেখা গেছে, পুরুষদের তুলনায় নারীরা দীর্ঘসময় বসে থাকার কারণে বেশি ঘাড়ব্যথায় ভোগেন। এছাড়া অফিসকর্মীরা যাদের দিনের বেশিরভাগ সময় ডেস্কে বসে কাটাতে হয় তাদের ঝুঁকিও বেশি। শিক্ষার্থীদের তুলনায় চাকরিজীবীদের মধ্যে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মোবাইল ফোন ও কম্পিউটার ব্যবহারের সঙ্গে ঘাড়ব্যথার সম্পর্ক স্পষ্টভাবে পাওয়া গেছে। তবে টেলিভিশন দেখার ক্ষেত্রে তেমন উল্লেখযোগ্য প্রভাব দেখা যায়নি।
চীনের বেইজিংয়ের গবেষকরা ৪৩ হাজারের বেশি মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন। তারা ২৫টি ভিন্ন গবেষণা পর্যালোচনা করে দেখেছেন, দীর্ঘসময় বসে থাকার সঙ্গে ঘাড়ের ব্যথার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। গবেষকদের ভাষায়, সেডেন্টারি বিহেভিয়ার ঘাড়ব্যথার একটি উল্লেখযোগ্য ঝুঁকির কারণ। সময় যত বাড়ে, ঝুঁকিও তত বাড়তে থাকে।দীর্ঘসময় একই ভঙ্গিতে বসে থাকলে ঘাড় ও কাঁধের পেশিতে চাপ পড়ে। বিশেষ করে মাথা নিচু করে ফোন ব্যবহার করলে ঘাড়ের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়। ধীরে ধীরে পেশি শক্ত হয়ে ব্যথা শুরু হতে পারে। অনেক সময় মানুষ বুঝতেই পারেন না যে দিনের বেশিরভাগ সময় তারা একই ভঙ্গিতে কাটাচ্ছেন। কিন্তু শরীর ঠিকই তার প্রভাব জমিয়ে রাখে।
ঝুঁকি কমাবেন যেভাবে: বিশেষজ্ঞরা কিছু সহজ অভ্যাস মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন—
প্রতি ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট পর উঠে কিছুক্ষণ হাঁটুন
কাজের ফাঁকে ঘাড় ও কাঁধ স্ট্রেচ করুন
ফোন চোখের সমান উচ্চতায় ধরে ব্যবহার করুন
সোজা হয়ে বসার অভ্যাস করুন
নিয়মিত ব্যায়াম বা হাঁটাহাঁটি করুন
ঘাড়ব্যথাকে অনেকেই ছোট সমস্যা মনে করেন। কিন্তু এটি দীর্ঘমেয়াদে কাজের সক্ষমতা, ঘুম এবং মানসিক স্বস্তিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। তাই দিনের বড় অংশ যদি স্ক্রিনের সামনে কাটে, তাহলে শরীরের দিকেও নজর দেয়া জরুরি।
ছোট ছোট বিরতি নিয়ে কাজ করলে ঘাড় ব্যথার সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারেন। যদি জটিলতা বাড়তে থাকে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত।
Mytv Online