যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে ইরানে চলমান ইন্টারনেট অচলাবস্থা নতুন এক রেকর্ডের দিকে এগোচ্ছে। দেশটিতে সরকারের আরোপিত প্রায়-সম্পূর্ণ ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট বৃহস্পতিবার (২১ মে) টানা ৮৩তম দিনে পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট পর্যবেক্ষণ সংস্থা জানিয়েছে, ইরানের আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক ১ হাজার ৯৬৮ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে কার্যত সীমিত ও অচল অবস্থায় রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি ইরানের ইতিহাসে অন্যতম দীর্ঘস্থায়ী ডিজিটাল অবরোধ। দীর্ঘ এই নিষেধাজ্ঞার ফলে দেশটির সাধারণ জনগণ থেকে শুরু করে ব্যবসা-বাণিজ্য, সংবাদমাধ্যম এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নিরাপত্তার অজুহাতে দেশজুড়ে কঠোর ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে ইরান সরকার। এরপর থেকেই আন্তর্জাতিক ওয়েবসাইট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন অনলাইন যোগাযোগ প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। অনেক অঞ্চলে ব্যবহারকারীরা সীমিত গতির অভ্যন্তরীণ নেটওয়ার্ক ছাড়া অন্য কোনো সংযোগ পাচ্ছেন না বলেও অভিযোগ উঠেছে।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদি এ ধরনের ইন্টারনেট অবরোধ শুধু তথ্যপ্রবাহকেই বাধাগ্রস্ত করে না, বরং একটি দেশকে বৈশ্বিক যোগাযোগব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। বর্তমানে ইরানের ক্ষেত্রেও একই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বহির্বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ সীমিত হয়ে পড়ায় দেশটির ভেতরের বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে যাচ্ছে।
এর আগেও চলতি বছরের জানুয়ারিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সময় ইরানে ব্যাপক ইন্টারনেট বিভ্রাট দেখা দিয়েছিল। সে সময় প্রায় ২০ দিন ধরে অনলাইন যোগাযোগ ব্যবস্থা আংশিকভাবে অচল ছিল। তবে এবারের যুদ্ধকালীন ব্ল্যাকআউট সেই সময়ের সীমাবদ্ধতাকে ছাড়িয়ে নজিরবিহীন মাত্রা পেয়েছে।
পর্যবেক্ষকদের আশঙ্কা, পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি না হলে ইরানের ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও দীর্ঘ সময় অচল থাকতে পারে। ফলে দেশটির জনগণ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানের সংকট আরও গভীর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।