চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে স্থানীয় জনতার উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিকেল ৫টার দিকে ঘটনাস্থল আবু জাফর রোডে বাকলিয়া থানার পুলিশ অভিযুক্তকে আটক করতে গেলে স্থানীয়রা ভবন ঘেরাও করে পুলিশকে অবরুদ্ধ করে রাখে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের খবর, শিশুটিকে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত যুবককে গ্রেপ্তার করার জন্য ঘটনাস্থলে বাকলিয়া থানা পুলিশ পৌঁছায়। কিন্তু পুলিশ ভবন থেকে অভিযুক্তকে বের করতে চাইলে স্থানীয়রা বাধা প্রদান করে এবং পুলিশের পথ বন্ধ করে রাখে। খবর পাওয়া পর্যন্ত সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে পুলিশ অভিযুক্তকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়নি।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের দক্ষিণ বিভাগের উপকমিশনার হোসেইন মোহাম্মদ কবির ভুঁইয়া বলেন, শিশুটিকে তৎক্ষণাৎ চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, স্থানীয়রা ধারণা করছে অভিযুক্ত যুবক ভবনের ভিতরে অবস্থান করছে এবং তাকে বের করতে দিচ্ছে না। “আমি ঘটনাস্থলে যাচ্ছি। আইন অনুযায়ী অভিযুক্তকে অবশ্যই গ্রেপ্তার করা হবে,” বলেন তিনি।
স্থানীয়দের উত্তেজনা ও নিরাপত্তার কারণে ঘটনাস্থলটি এখন পর্যন্ত পুলিশের নিয়ন্ত্রণে। বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা অভিযুক্তের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছে এবং ভবন ঘেরাও করে রেখেছে।
এই ঘটনায় উদ্বেগ আরও তীব্র হয়েছে, কারণ এর আগের দিন চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় পাঁচ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছিল। পরপর দুই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্রমবর্ধমান ক্ষোভ ও নিরাপত্তা উদ্বেগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
অভিযুক্তের অবস্থান ও জনতার প্রতিক্রিয়ার কারণে চট্টগ্রামের বাকলিয়া এলাকা এখন বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে। পুলিশ সব ধরনের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।
এই ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর ব্যবস্থা নেবে বলে আশ্বাস দিয়েছে। এলাকাবাসী দ্রুত বিচার এবং অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনার দাবি অব্যাহত রেখেছে।