স্থানীয়দের ভাষ্য, নিহত খলিলুর রহমান শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বসবাস করতেন। শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে তার ওপর হামলা চালায় ছেলে মিনার। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ধারালো অস্ত্র নিয়ে অতর্কিতভাবে বাবার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে মিনার এবং এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। হামলায় বৃদ্ধের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। স্থানীয়দের দাবি, হামলার সময় তার একটি হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
রক্তাক্ত অবস্থায় আশপাশের লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে সেখানে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।
ঘটনার পরপরই পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে অভিযুক্ত মিনার। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। পরে পুলিশ তাকে হেফাজতে নেয়।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনির হোসেন জানিয়েছেন, মিনার দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। পরিবারের সদস্যদের নির্যাতনের অভিযোগে এর আগেও তার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ হয়েছিল। এক পর্যায়ে তিনি কয়েক মাস কারাভোগও করেন। সম্প্রতি জামিনে মুক্ত হয়ে বাড়িতে ফেরেন তিনি।
ওসি আরও জানান, শুক্রবার নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার সময় বাবার ওপর হামলা চালায় মিনার। ঘটনার পর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি।
স্থানীয়দের মতে, মাদকের ভয়াবহ প্রভাবের কারণেই এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা ঘটছে। তারা এলাকায় মাদক নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে পরিবার ও সমাজে সচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তারা।
এই ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। প্রতিবেশীরা বলছেন, নিজের সন্তানের হাতে একজন বৃদ্ধ বাবার এমন নির্মম মৃত্যু মেনে নেওয়া কঠিন।
Mytv Online