আসন্ন বিশ্বকাপে অংশ নেবে মোট ৪৮টি দেশ। এর মধ্যে ৩১টি দল পরিচালিত হবে বিদেশি প্রধান কোচের অধীনে। অর্থাৎ প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ দলই বিশ্বকাপ মিশনে নামবে ভিন্ন দেশের ফুটবল মস্তিষ্ককে সঙ্গে নিয়ে। আধুনিক ফুটবলে কৌশলগত দক্ষতা ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার মূল্য কতটা বেড়েছে, এই পরিসংখ্যানই তার বড় প্রমাণ।
বিশ্ব ফুটবলের বেশ কয়েকজন পরিচিত কোচ এবার নিজ দেশের বাইরে দায়িত্ব পালন করছেন। অভিজ্ঞ ইতালিয়ান কোচ কার্লো আনচেলত্তি আছেন ব্রাজিলের দায়িত্বে। ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে খেলবে জার্মান কোচ থমাস টুখেলের নেতৃত্বে। অন্যদিকে আর্জেন্টাইন কোচ মাউরিসিও পচেত্তিনো যুক্তরাষ্ট্রকে ঘরের মাঠের বিশ্বকাপে সাফল্য এনে দেওয়ার চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন।
শুধু বড় দল নয়, তুলনামূলক ছোট দেশগুলোর মধ্যেও বিদেশি কোচ নেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। উজবেকিস্তান দায়িত্ব দিয়েছে ইতালিয়ান কিংবদন্তি ফ্যাবিও কানাভারোকে। কাতার তাদের ডাগআউট সামলানোর জন্য বেছে নিয়েছে স্প্যানিশ কোচ জুলেন লোপেতেগিকে।
তবে সব দল বিদেশি কোচের পথে হাঁটেনি। ১৭টি দেশ নিজেদের স্থানীয় কোচের ওপরই আস্থা রেখেছে। বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা আছে লিওনেল স্ক্যালোনির অধীনে। ফ্রান্সের দায়িত্বেও রয়েছেন দিদিয়ের দেশম। এছাড়া মরক্কোর ওয়ালিদ রেগ্রাগুই এবং স্কটল্যান্ডের স্টিভ ক্লার্ক নিজ দেশের কোচ হিসেবেই বিশ্বকাপে অংশ নেবেন।
বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি কোচ সরবরাহকারী দেশ হিসেবে এবার শীর্ষে রয়েছে আর্জেন্টিনা। মোট ছয়জন আর্জেন্টাইন কোচ বিভিন্ন দেশের দায়িত্বে আছেন। স্ক্যালোনি আর্জেন্টিনায়, পচেত্তিনো যুক্তরাষ্ট্রে, মার্সেলো বিয়েলসা উরুগুয়েতে, গুস্তাভো আলফারো প্যারাগুয়েতে, সেবাস্তিয়ান বেকোসেস ইকুয়েডরে এবং নেস্তর লরেঞ্জো কলম্বিয়ায় দায়িত্ব পালন করছেন।
এছাড়া ফ্রান্স থেকে পাঁচজন এবং স্পেন থেকে চারজন কোচ বিভিন্ন দলের দায়িত্বে রয়েছেন। ইতালি ও জার্মানি থেকেও একাধিক কোচ এবার বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছেন।
সব মিলিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপ শুধু খেলোয়াড়দের নয়, কোচদের আন্তর্জাতিক লড়াইয়েও পরিণত হতে যাচ্ছে। জাতীয় পতাকার আড়ালে এবার কৌশলের মঞ্চে দেখা যাবে বৈশ্বিক ফুটবল মেধার এক অনন্য সমন্বয়।
Mytv Online