ঈদ উদ্যাপনের উদ্দেশ্যে রাজধানী ঢাকা ছাড়তে শুরু করা মানুষের যাত্রা শুরুর দিনেই সড়কে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। শনিবার (২৩ মে) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত দেশের পাঁচটি জেলায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় মোট ১২ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অনেকে, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ঈদযাত্রার প্রথম দিনে ট্রেন, সড়ক ও নৌপথে ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মহাসড়কে যানবাহনের চাপও বেড়ে যায়। এর মধ্যেই ঘটে একের পর এক দুর্ঘটনা। কুষ্টিয়া, দিনাজপুর, যশোর, ফরিদপুর ও গাজীপুরে এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
কুষ্টিয়া:
কুষ্টিয়ার খোকসায় বাস ও ট্রাকের সংঘর্ষে একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়। এতে এক নারীসহ ৪ জন নিহত হন। আহত হন অন্তত ২০ জন। নিহতদের মধ্যে দুইজনের পরিচয় পাওয়া গেছে, বাকি দুইজন অজ্ঞাত। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা হতাহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেন। চিকিৎসকরা জানান, আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।
দিনাজপুর:
ঘোড়াঘাটে ট্রাক ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে ৩ জন নিহত হয়েছেন। নিহতরা একটি মোটরসাইকেলে ছিলেন, যা রানীগঞ্জ বাজার এলাকায় পৌঁছালে ট্রাকের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান তারা। পুলিশ ট্রাক জব্দ করেছে এবং হেলপারকে আটক করা হয়েছে।
যশোর:
যশোর-খুলনা মহাসড়কে কাভার্ডভ্যান, ভ্যান ও ইজিবাইকের ত্রিমুখী সংঘর্ষে নারীসহ ৩ জন নিহত হন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ২ জন। খুলনা থেকে আসা দ্রুতগতির কাভার্ডভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারালে এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ। আহতদের যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ফরিদপুর:
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় মহাসড়ক পারাপারের সময় বাসের চাপায় খোকন ব্যাপারী (৪৮) নামে এক পথচারী নিহত হন। ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের চুমুরদী এলাকায় দ্রুতগতির একটি বাস তাকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গাজীপুর:
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ট্রাকের পেছনে পিকআপ ভ্যানের ধাক্কায় নাসির উদ্দিন (৪৫) নিহত হন। এ ঘটনায় আরও ২ জন আহত হয়েছেন। পরে আরেকটি বাস পিকআপে ধাক্কা দিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে।
ঈদযাত্রার প্রথম দিনেই এ ধরনের ধারাবাহিক দুর্ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। প্রশাসন বলছে, মহাসড়কে নজরদারি ও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করা হবে।