বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। মাঠের চরম নাটকীয়তা আর রোমাঞ্চকর এই জয়ের পর আর্জেন্টিনার দুই অভিজ্ঞ তারকা লিয়ান্দ্রো পারেদেস ও নিকোলাস তাগলিয়াফিকো সংবাদমাধ্যম ‘দোবলে আমারিজা’র মুখোমুখি হয়ে নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন।
ম্যাচের প্রথমার্ধে একটি ফাউলের অপরাধে রেফারি প্রথমে পারেদেসকে হলুদ কার্ড দেখালেও, পরবর্তীতে ভিএআর রিভিউতে সিদ্ধান্ত বদলে যায়। সুইস স্ট্রাইকার ব্রেল এম্বোলোর ডাইভিং প্রমাণিত হওয়ায় পারেদেসের কার্ড বাতিল করে উল্টো এম্বোলোকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড তথা লাল কার্ড দেখান রেফারি।
ম্যাচ শেষে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে মিডফিল্ডার পারেদেস বলেন, ‘আমাদেরকে সবসময়ই (মাঠে) ভুগতে হয়। তবে আমরা যা করছি তা সত্যিই অবিশ্বাস্য; আরও একটি সেমিফাইনাল! আমরা এখন প্রতিনিয়ত এই মুহূর্তগুলো উপভোগ করছি।
আসন্ন সেমিফাইনালে প্রতিপক্ষকে নিয়ে ভাবছেন না জানিয়ে এই আর্জেন্টাইন ৫ নম্বর জার্সিধারী বলেন, ‘আমরা প্রতিপক্ষ কে, তা নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছি না। আমরা কেবল নিজেদের ম্যাচেই মনোনিবেশ করছি, কারণ আমরা জানতাম এই ম্যাচটি অত্যন্ত কঠিন হতে যাচ্ছিল।
নিজের শারীরিক অবস্থা নিয়ে তিনি যোগ করেন, ‘আমি ভালো আছি। ম্যাচটি ভালোভাবে শেষ করতে পেরেছি, তবে কিছুটা ক্লান্ত।’
সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে শুরুর একাদশে থাকা ৩৩ বছর বয়সী লেফট-ব্যাক নিকোলাস তাগলিয়াফিকোকে ম্যাচের এক পর্যায়ে তুলে নিয়ে নিকোলাস গঞ্জালেসকে মাঠে নামান কোচ। দলের এই গৌরবময় যাত্রা নিয়ে তাগলিয়াফিকো বলেন, ‘আমরা আরও একটি নতুন সেমিফাইনালে পা রাখলাম। গত চার-পাঁচ বছর ধরে আমরা এই পর্যায়ে আসছি, লড়াই করছি এবং আমাদের সেই ক্ষুধা এখনো কমেনি। যেকোনো পরিস্থিতিতে সবসময় সামনে এগিয়ে যাওয়ার এই দলটির জন্য আমি গর্বিত।
দলকে আরও উন্নতি করার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা আরও ভালো ফুটবল খেলতে চাই এবং গত বিশ্বকাপের সেই চিরচেনা রূপেই ফিরতে চাই। তবে মাঠে যা ঘটছে, বাস্তবতাকে আমাদের মেনে নিতে হবে। আমাদের মূল লক্ষ্যই হলো জয় ছিনিয়ে আনা। বর্তমান ফুটবল দিন দিন আরও সমান ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ হয়ে উঠছে, এখন যে কেউ আপনার বিপক্ষে লড়ে যেতে পারে। সামনে যা আসছে, তা আমাদের জন্য আরও অনেক বেশি কঠিন হবে।’
Mytv Online