রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে পাঁচ দফা প্রস্তাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে রোহিঙ্গা সংকটবিষয়ক এক উচ্চপর্যায়ের সাইড ইভেন্টে তিনি দ্রুত, নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য সুস্পষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য রোডম্যাপ তৈরির আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মানবিক দায়িত্ব পালন করছে। তবে অনির্দিষ্টকাল এই দায়িত্ব একা বহন করা সম্ভব নয়। তার মতে, বাস্তুচ্যুতি ব্যবস্থাপনা করে যাওয়ার পরিবর্তে এখন সংকটের মূল কারণ সমাধান করে এর স্থায়ী অবসানের দিকে এগোতে হবে।
সংকট সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে—রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য স্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরি, মিয়ানমারে বেসামরিক জনগোষ্ঠীর ওপর সহিংসতা বন্ধ এবং তাদের মৌলিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
পাশাপাশি রোহিঙ্গা ও আশ্রয়দাতা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য পর্যাপ্ত ও পূর্বানুমেয় মানবিক সহায়তা নিশ্চিত, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি জোরদার এবং মাদকভিত্তিক অর্থনীতি, মানবপাচার, অবৈধ অস্ত্র ও ডিজিটাল প্রতারণাসহ আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
মানবিক সহায়তা কমে যাওয়ায়ও উদ্বেগ জানান প্রধানমন্ত্রী। ২০২৫ সালের ৯৩৪ মিলিয়ন ডলারের আবেদনের তুলনায় ২০২৬ সালে প্রয়োজনীয় তহবিলের আবেদন প্রায় ৭১০ মিলিয়ন ডলারে নামিয়ে আনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, মানবিক সহায়তার ঘাটতি রাজনৈতিক নিষ্ক্রিয়তার অজুহাত হতে পারে না।
বাংলাদেশ ও গাম্বিয়ার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত ওই সাইড ইভেন্টে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে এবং এর সমাধানও সেখানেই নিহিত। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কার্যকর ভূমিকা নিয়ে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরির আহ্বান জানান তিনি।
নিউইয়র্ক সফরে প্রধানমন্ত্রী জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন ও বৈশ্বিক বৈষম্যসহ বিভিন্ন বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন। ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কেও বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য দেওয়ার কর্মসূচি রয়েছে।