মুসলমানদের সবচেয়ে পবিত্র নগরী মক্কায় আবার সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। সৌদি আরবের বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) পবিত্র মক্কা নগরীসহ অন্যান্য অঞ্চলের জন্য একটি সতর্কবার্তা জারি করে।
এই ধরনের সতর্কবার্তা সাধারণত সম্ভাব্য মিসাইল হামলার হুমকির ইঙ্গিত দেয়।
সংস্থাটি তাদের অফিসিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে এক পোস্টে জানিয়েছে, সম্ভাব্য বিপদ সম্পর্কে সতর্ক করতে মক্কা সিটিতে ন্যাশনাল আর্লি ওয়ার্নিং প্ল্যাটফর্ম-এর পক্ষ থেকে একটি সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে।
বার্তা সংস্থা এএফপির তথ্য অনুযায়ী, কয়েক মিনিট পরই সতর্কবার্তাগুলো প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। সৌদি আরবের পশ্চিম উপকূলের অন্যান্য এলাকা, যেমন লোহিত সাগর তীরবর্তী ইয়ানবু গভর্নরেট এবং তায়েফ, জেদ্দা ও তাবুক অঞ্চলের জন্যও আলাদা সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছিল।
১০ দিনেরও কম সময়ে পবিত্র মক্কা নগরীতে দ্বিতীয়বার এমন সতর্কবার্তা জারি করা হলো। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে, ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিদের হামলার ঠিক আগেই এই ধরনের সতর্কবার্তা জারি হতে দেখা গেছে।
গত সপ্তাহে সৌদি আরব হুতিদের বিরুদ্ধে একটি ড্রোন দিয়ে মক্কাকে লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ আনে, যা পরবর্তীতে ভূপাতিত করা হয়। সৌদির পক্ষ থেকে বলা হয়, ২০১৭ সালের পর এই প্রথম মক্কায় এমন কোনো হামলার চেষ্টা চালানো হলো।
তবে হুতি গোষ্ঠী এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এর আগের সতর্কবার্তাটি এসেছিল গত ১৫ সেপ্টেম্বর, যখন সৌদি আরবের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মক্কার দক্ষিণে একটি হুতি ড্রোনকে প্রতিহত ও ধ্বংস করে। ড্রোনটি সৌদির নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশ করতে পারেনি।
এর কয়েক দিন পর, হুতিরা কয়েক বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো সৌদির রাজধানী রিয়াদকে লক্ষ্যবস্তু করে, যা এই সংঘাতের তীব্রতা আরো বাড়িয়ে দেয়।
যুক্তরাষ্ট্রের সাথে তেহরানের উত্তেজনার মাঝে ইরান-সমর্থিত হুতি এবং সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারের মধ্যে নতুন করে লড়াই শুরু হয়েছে।
এই সশস্ত্র গোষ্ঠীটি সৌদির ওপর সমুদ্র অবরোধ ঘোষণা করার এবং লোহিত সাগরে তাদের জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার পর এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়।
এই মাসের শুরুর দিকে, সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর কাছ থেকে অঞ্চল দখল করার পর হুতিরা বাব আল-মান্দেব প্রণালির ওপর নজর রাখা কৌশলগত উপকূলীয় এলাকাগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেয়, যা সৌদি আরবের তেল রফতানির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
Mytv Online