শিশুদের শিক্ষা, অধিকার ও সমতার বার্তা ছড়িয়ে দিতে দক্ষিণ এশিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে জনপ্রিয় অ্যানিমেটেড চরিত্র মীনা। বিশেষ করে মেয়েশিশুর শিক্ষা, অধিকার ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরিতে মীনার গল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
১৯৯০ থেকে ২০০০ সালকে ‘মেয়েশিশুর দশক’ হিসেবে ঘোষণা করেছিল দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা সার্ক। সেই সময় মেয়েশিশুদের শিক্ষা ও অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে ইউনিসেফ একটি অ্যানিমেটেড সিরিজ তৈরির উদ্যোগ নেয়। সেই উদ্যোগেরই ফল মীনা চরিত্র।
মীনা ৯ বছরের একটি মেয়ে। তার ছোট ভাই রাজু ও পোষা টিয়াপাখি মিঠু সবসময় তার সঙ্গী। বিভিন্ন গল্পে মীনাকে সামাজিক বাধা, বৈষম্য ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে কথা বলতে দেখা যায়। মেয়েদের স্কুলে যাওয়া, শিশুর অধিকার, স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও সমতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে তার নানা অভিযানে।
বাংলাদেশে মীনা কার্টুনের প্রথম পর্ব প্রচারিত হয় ১৯৯৩ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনে। ‘মুরগিগুলো গুনে রাখো’ নামের সেই পর্বে স্কুলে যাওয়ার জন্য মীনার সংগ্রামের গল্প তুলে ধরা হয়েছিল। পরে মীনার গল্প কমিক বই, রেডিও অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন শিক্ষামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে।
মীনার জনপ্রিয়তা শুধু বাংলাদেশেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে স্থানীয় ভাষায় এই অ্যানিমেশন প্রচারিত হয়েছে। শিশুদের বিনোদনের পাশাপাশি সামাজিক বিভিন্ন বিষয়ে সচেতনতা তৈরির মাধ্যম হিসেবেও মীনার গল্প দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
১৯৯৮ সাল থেকে প্রতিবছর ২৪ সেপ্টেম্বর মীনা দিবস পালিত হচ্ছে। এই দিবসের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো, মেয়েশিশুদের বিদ্যালয়ে ভর্তি নিশ্চিত করা, ঝরে পড়া রোধ করা এবং শিশুদের অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো।
সময়ের সঙ্গে মীনার গল্পের বিষয়বস্তুতে পরিবর্তন এসেছে। তবে শিক্ষা, সমতা ও শিশু অধিকার নিয়ে এর মূল বার্তা এখনো অটুট। তাই কয়েক দশক পেরিয়েও দক্ষিণ এশিয়ার শিশুদের কাছে মীনা পরিচিত ও প্রাসঙ্গিক চরিত্র।
Mytv Online