সকালে বিদ্যালয়ে এসে নিজ নিজ কক্ষে ঢুকে ফ্যানের সুইচ চাপ দেয় শিক্ষার্থীরা। কিন্তু কোনো ফ্যানই ঘুরছিল না। ওপরে তাকিয়ে দেখা গেল, ছাদের সাথে ফ্যান নেই। পরে একে একে চারটি শ্রেণিকক্ষ ঘুরে দেখা যায়, ১১টি ফ্যানই উধাও। অফিসকক্ষের টেবিলের ওপর জুতার ছাপ, চারপাশে এলোমেলো জিনিসপত্র। পাশে পড়ে আছে চুরির কাজে ব্যবহৃত একটি স্ক্রু ড্রাইভার।
পঞ্চগড় সদর উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়নের বুড়িরবান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এমন চুরির ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে শনিবার (০৩ অক্টোবর) দিবাগত রাতের মধ্যে কোনো এক সময় বিদ্যালয়ের তালা ভেঙে ১১টি ফ্যান, একটি সাউন্ড সিস্টেম ও সততা স্টোরে রাখা টাকা চুরি করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।
রবিবার (০৪ অক্টোবর) দুপুরে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, অফিসকক্ষের জিনিসপত্র এলোমেলো। একটি টেবিলের ওপর জুতার ছাপ স্পষ্ট। বিদ্যালয়ের কাঠের আলমারিতে রাখা ল্যাপটপ ও একটি প্রজেক্টরের সরঞ্জাম অবশ্য অক্ষত রয়েছে।
বিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ধারণা, চোরেরা বিদ্যালয়ের মূল ফটকের তালা না ভেঙে বারান্দার গ্রিল ব্যবহার করে দোতলায় উঠেছে। পরে সেখান থেকে বিভিন্ন কক্ষে ঢুকে ফ্যানগুলো খুলে নিয়ে যায়।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, দিনের বেলায় প্রচণ্ড গরমে ফ্যান ছাড়া শ্রেণিকক্ষে বসে ক্লাস করতে তাদের কষ্ট হচ্ছে। সকালে এসে তারা প্রথমে ফ্যান না ঘোরার বিষয়টি বুঝতে পারে। পরে ওপরে তাকিয়ে দেখতে পায়, কক্ষের ফ্যানগুলো নেই।
শিক্ষার্থী রমেন চন্দ্র রায়ের বাবা বলেন, সকালে ছেলেকে বিদ্যালয়ে দিতে এসে ফ্যান চুরির কথা শুনেছেন। তিনি বলেন, বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। আমরা এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হারুন অর রশীদ বলেন, প্রতিদিনের মতো রোববার সকালে বিদ্যালয়ে এসে তারা তালা খোলেন। এরপর অফিসকক্ষ এলোমেলো দেখতে পান। টেবিলে জুতার ছাপও দেখা যায়। পরে শ্রেণিকক্ষগুলোতে গিয়ে চারটি ফ্যান এবং চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির কক্ষ থেকে আরও সাতটি ফ্যান না পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হন।
হারুন অর রশীদ বলেন, আমরা ছুটির পর বিদ্যালয় থেকে চলে যাই। তবে স্থানীয়দের কাছে শুনেছি, কিছুদিন ধরে সন্ধ্যার পর বিদ্যালয়ের আশপাশে লোকজন আড্ডা দেয়। কেউ কেউ মাদক সেবনও করে। তারাই এসবের সাথে জড়িত কি না, তা আমরা জানি না।
তিনি আরও বলেন, চুরির ঘটনায় এখনও থানায় কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়নি। তবে সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে পঞ্চগড় সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আশীষ কুমার শীল বলেন, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এখনও থানায় কোনো অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Mytv Online