ভারতের বৃহত্তম বিমান পরিষেবা সংস্থা এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্রাঙ্কফুর্ট থেকে নয়াদিল্লিগামী একটি ফ্লাইট থেকে বিমান ছিনতাইয়ের সতর্কবার্তা পাওয়ার পর সেটিকে জয়পুরে জরুরি অবতরণ করানো হয়েছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে মিনিটে ঘটেছে এ ঘটনা।
জয়পুর বিমানবন্দরের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা চরণ সিং ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে জানিয়েছেন, বুধবার সকাল ৯ টা ৩৫ মিনিটে বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করেছে ফ্লাইটটি। উড়োজাহাজে মোট ৩০৫ জন যাত্রী ছিলেন; তারা সবাই নিরাপদে আছেন।
চরণ সিং আরও জানান, প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে যে ফ্লাইটটির একজন পাইলট বিমান চালননার সময় ভুলবশত সেই সতর্কবার্তাটি চালু করে ফেলেছিলেন। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিজিসিএ।
জয়পুর বিমানবন্দরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অবতরণের পর বিমানটিকে একটি 'আইসোলেশন বে' বা বিচ্ছিন্ন এলাকায় সরিয়ে নেওয়া হয়, যেখানে নিরাপত্তা কর্মীরা বিমান ও যাত্রীদের মালপত্র তল্লাশি শুরু করেন। তারপর তারা যাত্রীদের নিরাপদে নামিয়ে আনেন এবং বিমানবন্দরের টার্মিনালে নিয়ে যান।
এক কর্মকর্তা জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং যাত্রীরা নির্ধারিত কার্যপদ্ধতি মেনে তাদের গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা অব্যাহত রাখবেন।
কী কারণে হাই-জ্যাকের সতর্কবার্তাটি এসেছিল?
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, আহমেদাবাদ এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল বিমানটি থেকে ‘স্কয়ক ৭৫০০’ সংকেত পায়, যার ফলে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
‘স্কয়ক ৭৫০০’ হলো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি এভিয়েশন ট্রান্সপন্ডার কোড, যা বিমান ছিনতাই বা বিমানে কোনো বেআইনি হস্তক্ষেপের আশঙ্কার ইঙ্গিত দিতে ব্যবহৃত হয়।
এই সতর্কবার্তার কারণেই কর্তৃপক্ষ ফ্লাইটটিকে জয়পুরে ঘুরিয়ে দেয়; সেখানে ভারতের আধা সামরিক বাহিনী সেন্ট্রাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিকিউরিটি ফোর্স, স্থানীয় পুলিশ এবং বোমা শনাক্তকরণ ও নিষ্ক্রিয়কারী দল নিরাপত্তা তল্লাশি শুরু করে।
ঘটনাটি বোমা হামলার হুমকি নাকি সন্দেহভাজন বিমান ছিনতাইয়ের প্রচেষ্টা- তা নিয়ে প্রাথমিক প্রতিবেদনে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া গিয়েছিল।
এর আগে বিমানবন্দরের এক কর্মকর্তা 'হিন্দুস্তান টাইমস'-কে জানিয়েছিলেন যে, সতর্কবার্তাটি বোমা হামলার হুমকির পরিবর্তে সন্দেহভাজন বিমান ছিনতাই সংক্রান্ত ছিল।
জয়পুর বিমানবন্দর প্রধান চরণ সিংয়ের সাম্প্রতিক মন্তব্য থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে সতর্কবার্তাটি হয়তো ভুলবশত চালু হয়েছিল, যদিও তদন্তকারীরা এখনও এর কারণ নিশ্চিত করেননি।
সর্বশেষ প্রতিবেদন পাওয়া পর্যন্ত এয়ার ইন্ডিয়া কোনো বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি এবং নিরাপত্তা তদন্তের কোনো ফলাফলও এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
Mytv Online