আমাদের ব্যক্তিগত জীবন, পারিবারিক সম্পর্ক, সামাজিক মেলামেশা কিংবা রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব, সব জায়গাতেই আমরা প্রতিপত্তি বা ক্ষণিকের স্বার্থে কাউকে না কাউকে আঘাত করে ফেলি।
কারো অধিকার হরণ করি, কারো মনে কষ্টের দীর্ঘশ্বাস তৈরি করি।
আমরা ভাবি, ক্ষতিটা বোধহয় সেখানেই শেষ হয়ে গেল।
কিন্ত প্রকৃতি ও সৃষ্টিকর্তার বিচার ভিন্নভাবে কাজ করে।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা পরিষ্কারভাবে জুলুম ও মানুষের ক্ষতি করার পরিণাম সম্পর্কে সতর্ক করেছেন।
আল্লাহ তাআলা বলেন,
إِنَّمَا السَّبِيْلُ عَلَى الَّذِيْنَ يَظْلِمُوْنَ النَّاسَ وَيَبْغُوْنَ فِي الْأَرْضِ بِغَيْرِ الْحَقِّ ؕ أُولٰئِكَ لَهُمْ عَذَابٌ أَلِيْمٌ
‘‘অভিযোগ তো তাদের বিরুদ্ধে, যারা মানুষের উপর জুলুম করে এবং পৃথিবীতে অন্যায়ভাবে বিপর্যয় সৃষ্টি করে। ওদের জন্যই রয়েছে যাতনাদায়ক শাস্তি।’’
(যারা প্রথমে জুলুম করে অথবা প্রতিশোধ নিতে গিয়ে সীমা ছাড়িয়ে যায়, অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধে। (সূরা আশ-শুরা- ৪২)
আমরা যখন কারো অধিকার খর্ব করি, তখন শুধু একজন ব্যক্তির ক্ষতি করি না, বরং সমাজের সামাজিক ন্যায়বিচারের ভিত্তি ভেঙে দেই।
রাসূলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিঃস্ব ও মাজলুমের(যার ওপর জুলুম করা হয়েছে) নিঃশব্দ প্রার্থনার ব্যাপারে বারবার সতর্ক করেছেন।
হযরত মুআজ ইবনে জাবাল (রা.) কে ইয়েমেনে পাঠানোর সময় রাসূলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছিলেন,
“মাজলুমের অভিশাপ বা বদদোয়াকে ভয় করো। কারণ, মাজলুমের আকুতি আর আল্লাহর মাঝে কোনো পর্দা থাকে না।” (সহীহ বুখারী: ২৪৪৮)
অন্য এক হাদিসে রাসূল (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের সম্মান বা অন্য কোনো বিষয়ে জুলুম করেছে, সে যেন আজই (দুনিয়াতেই) তার কাছে ক্ষমা চেয়ে নেয়, সেই দিন আসার আগেই, যে দিন কোনো দিনার বা দিরহাম (টাকা-পয়সা) থাকবে না।” (সহীহ বুখারী)
অন্যায় বা কারো ক্ষতি করা কেবল একটি ধর্মীয় অপরাধ নয়,
এটি একটি চরম অমানবিক কাজ।
পারিবারিক জীবনে মিরাস বা সম্পত্তিতে অন্যায় করা কিংবা স্বজনদের মন ভাঙা,
সামাজিক জীবনে হিংসা-বিদ্বেষ ছড়িয়ে কারো সম্মানহানি করা,
রাষ্ট্রীয় ও পেশাগত জীবনে ক্ষমতার অপব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে কষ্ট দেওয়া।
এসবের প্রতিটি কাজই কিন্ত কারো না কারো নীরবে চোখের জল ফেলার কারণ হয়। আর যিনি সহ্যের শেষ সীমায় পৌঁছে বিচার আল্লাহর হাতে সঁপে দেন,
তাঁর সেই নীরব আহাজারিই একজন মানুষের দুনিয়া ও আখিরাত ধ্বংস করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।
তাই “মানুষ হয়ে কখনো মানুষের ক্ষতি করো না।
যার ক্ষতি করলে সে যদি তার প্রতিদান তোমাকে দিয়ে দেয়,
তাহলে তো বেঁচে গেলে।
কিন্ত সে যদি নীরবে সহ্য করে তার বিচারের ভার আল্লাহর কাছে ছেড়ে দেয় তবে জেনে রাখো, তোমার ইহকাল ও পরকাল দুটোই শেষ।”
Mytv Online