Tuesday, October 19, 2021

MYTV Live

নাঈম-সৌম্যর শতরানের জুটিতে ‘শততম’ ম্যাচে বাংলাদেশের বিশাল জয়

সফরের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে জিম্বাবুয়েকে ৮ উইকেটে হারিয়ে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। এর মধ্যদিয়ে নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসের শততম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে বড় জয় পেল বাংলাদেশ।

ঐতিহাসিক এই ম্যাচে ১৮ ওভার ৫ বলে মাত্র দু’টি উইকেট হারিয়ে ১৫৩ রান করে সিরিজে জয়ের ধারা অব্যাহত রাখলো টাইগাররা।

এর আগে, টসে জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে ১৯ ওভারে সব কয়টি উইকেট হারিয়ে ১৫২ রান সংগ্রহ করে স্বাগতিক জিম্বাবুয়ে। এক পর্যায়ে ১১ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ৯১ রান তুলে ফেলেছিল তারা। কিন্তু এরপর ১৫তম ওভারে গিয়ে তাদের স্কোর দাঁড়ায় ৬ উইকেট ১১৯ রান। চাকাভা এবং মাধেভেরে যতক্ষণ ব্যাটিং করছিলেন, জিম্বাবুয়েই ছিল চালকের আসনে। তবে মায়ার্সও ভালো ব্যাটিং করছিলেন। কিন্তু মোস্তাফিজের ৩ উইকেট আর শেষদিকে বার্লকে বিদায় করে দেওয়া শামিম হাসানের দুর্দান্ত ক্যাচ মিলিয়ে স্বাগতিকদের ইনিংস ১৫২-তেই থেমে যায়।  

ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে জিম্বাবুয়ের দলীয় ১০ রানেই প্রথম আঘাত হানেন মোস্তাফিজুর রহমান। ওই ওভারের দ্বিতীয় বলেই ছক্কা মেরেছিলেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান তাদিওয়ানাশে মারুমানি (৭)। পঞ্চম বল উড়িয়ে মারতে গিয়ে তিনি সৌম্য সরকারের দারুণ ক্যাচে পরিণত হন। তবে পাওয়ার প্লেতে ৫০ পেরিয়ে যায় জিম্বাবুয়ে। আরেক ওপেনার মাধভেরেকে ফেরান সাকিব। নবম ওভারে এসে তিনি ২৩ বলে ২৩ রান করা এই ওপেনারকে কট অ্যান্ড বোল্ড করেন।  

নিয়মিত উইকেট পতনের মাঝেও জিম্বাবুয়ের রানের গতি কমেনি। ১০ ওভারেই তাদের স্কোর ৯০ হয়ে যায়। বিধ্বংসী ব্যাট করছিলেন রেগিস চাকাভা। ২২ বলে ৫ চার ২ ছক্কায় সর্বোচ্চ ৪৩ রান করা এই উইকেটকিপার ব্যাটসম্যন রান-আউট হয়ে যান। ৯১ রানে তৃতীয় উইকেট পতন। ১ রানের ব্যবধানে আঘাত হানেন শরীফুল। বিপজ্জনক অল-রাউন্ডার সিকান্দার রাজা ফিরে যান কোনো রান না করে।

এরপর সৌম্য সরকারের করা ইনিংসের চতুর্দশ ওভারের দ্বিতীয় বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে পা দেন তারিসাই মুসাকান্দা (৬)। এরপর পরের ওভারের প্রথম বলেই শরিফুলে ইসলামের বলে বোল্ড হন ২২ বলে ২ চারে ৩৫ রান করা ডিয়ন মায়ার্স। ১১৯ রানে ৬ উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে। এরপর মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের বলে বোল্ড হয়ে ফেরার আগে লুক জঙওয়ে করেন ১৬ বলে ১৮ রান।  

সাইফউদ্দিনের ওই ওভারেই স্বাগতিকরা বড় ধাক্কা খায়। বিধ্বংসী ব্যাটসম্যান রায়ান বার্ল লং-অনে বেশ জোরে তুলে মেরেছিলেন। কিন্তু বদলি ফিল্ডার শামিম হোসেন বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে বল তালুবন্দি করেন। দুর্দান্ত ক্যাচের শিকার হয়ে ফেরার আগে বার্ল করেন মাত্র ৪ রান। চাপে পড়ে যাওয়া জিম্বাবুয়ে ১৯তম ওভারে হারায় শেষ দুই উইকেট। টেল এন্ডার ব্যাটসম্যান এনগারাভাকে সরাসরি বলে বোল্ড করেন মোস্তাফিজুর রহমান। এর এক বল পরে টানা দুই বাউন্ডারি হাঁকানোর পর মুজারাবানিও বোল্ড হয়েই ফেরেন।  

মোস্তাফিজুর রহমানের তিন উইকেট ছাড়াও দু’টি করে উইকেট পান শরিফুল ইসলাম ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। আর ১টি করে উইকেট নিয়েছে সাকিব ও সৌম্য।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে দলকে ভালো শুরু এনে দিয়েছেন দুই ওপেনার মোহাম্মদ নাঈম শেখ ও সৌম্য সরকার।

১৩.১ ওভারে গিয়ে উদ্বোধনী জুটি ভাঙে। ততক্ষণে বাংলাদেশের স্কোর ১০০ ছাড়িয়ে গেছে। এই শতরানের জুটিতে সৌম্যর অবদান ৫০ রান।

এটি বাংলাদেশের পক্ষে একটি রেকর্ডও। উদ্বোধনী জুটিতে বাংলাদেশের আগের সর্বোচ্চ সংগ্রহ ছিল ৯২। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেই গত বছর মার্চে এই জুটি গড়েছিলেন তামিম ইকবাল ও লিটন দাস।

এবার তাদের রেকর্ড ভাঙলেন নাঈম-সৌম্য। ৪৫ বলে ৫০ রানে ব্যাট করার সময় রানআউট হয়ে ফিরলেন সৌম্য। চার বাউন্ডারি ও ২ ছক্কায় এই ইনিংস সাজিয়েছেন সৌম্য।

সৌম্যর ফেরার কিছু পরেই ফিফটির দেখা পান ওপেনার নাঈম শেখও। ৪০ বলে করেছেন ফিফটি হাঁকান তিনি।

সৌম্যর আউটের পর ব্যাট হাতে নামেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

কিন্তু ঝুঁকিপূর্ণ একটি সিঙ্গেল নিতে গিয়ে রানআউটের শিকার হন। মুজারাবানির সরাসরি থ্রোতে রানআউট হন মাহমুদউল্লাহ।

এরপর নাঈমের সঙ্গী হন উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান নুরুল হাসান সোহান। ১৭ ওভার শেষে জয়ের লক্ষ্যে বাংলাদেশের প্রয়োজন পড়ে ২৭ রানের। অর্থাৎ ১৮ বলে দরকার ২৭ রান।

আর ৭ বল বাকি থাকতেই তা পূরণ করে ফেলেন নাঈম-সোহান জুটি।

৫১ বলে ৬ বাউন্ডারিতে ৬৩ রান করে অপরাজিত থাকেন মোহাম্মদ নাঈম। ৮ বলে ১ চার ও ১ ছয়ে ১৬ রান করে নাঈমকে যোগ্য সঙ্গ দিয়ে মাঠ ছাড়েন সোহান।

ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হন সৌম্য সরকার।

Related Articles

Stay Connected

21,980FansLike
2,986FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles