Monday, September 27, 2021

MYTV Live

বরিশালে ইউএনও এবং ওসির বিরুদ্ধে ২ মামলার আবেদন

বরিশালে ইউএনওর বাড়িতে হামলা ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনিবুর রহমান, কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল ইসলাম ও উপপরিদর্শক (এসআই) শাহজালাল মল্লিকের নামে পৃথক দুটি মামলার আবেদন করা হয়েছে।

রোববার বরিশালের অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাসুম বিল্লাহর আদালতে মামলা দুটির আবেদন করেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা বাবুল হালদার এবং বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম।

বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুস বলেন, দুটি মামলার আবেদনেই সদর ইউএনও মো. মুনিবুর রহমানকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। আদালতের বিচারক মো. মাসুম বিল্লাহ ওই অভিযোগ দুটি গ্রহণের পর তা আদেশের জন্য অপেক্ষামান রেখেছেন। 

আদালত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মামলার আবেদনে ইউএনও মুনিবুর রহমানকে আসামি করার পাশাপাশি তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পাঁচজন আনসার সদস্যকে আসামি করা হয়েছে। তবে তাঁদের নাম উল্লেখ নেই। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৪০-৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার ওই দুই আবেদনে বলা হয়, নগরের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার জন্য সিটি করপোরেশনের সভায় নগরের বিভিন্ন এলাকায় লাগানো ব্যানার-ফেস্টুন অপসারণের সিদ্ধান্ত হয়। এর ধারাবাহিকতায় ১৮ আগস্ট রাতে বরিশাল নগরের সিঅ্যান্ডবি সড়কে উপজেলা পরিষদ কম্পাউন্ডে সিটি করপোরেশনের প্রশাসনিক কর্মকর্তা স্বপন কুমার দাসের নেতৃত্বে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা বিভিন্ন ব্যানার-ফেস্টুন অপসারণ করতে গেলে ইউএনওর নিরাপত্তায় নিয়োজিত আনসার সদস্যরা বাধা দেন ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন।

ঘটনাটি জেনে সিটি মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে সেখানে যান। এ সময় ইউএনও এবং তাঁর আনসার সদস্যরা মেয়রকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি ছোড়েন। সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মানববর্ম তৈরি করে মেয়র সাদিক আবদুল্লাহকে রক্ষা করেন। এতে বেশ কয়েকজন কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

এর আগে একই ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার দুপুরে কোতোয়ালি থানায় দুটি মামলা হয়েছে। একটি মামলার বাদী ইউএনও মুনিবুর রহমান ও অপর মামলার বাদী এসআই শাহজালাল মল্লিক। ইউএনও এবং পুলিশের করা মামলায় গ্রেপ্তার ২১ আসামিকে রোববার সকাল ১০টার দিকে আদালতে হাজির করে তাঁদের জামিন আবেদন করা হয়। অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাসুম বিল্লাহ জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁদের জেলা কারাগারে পাঠান। একই সঙ্গে তাঁদের সুচিকিৎসা দেওয়ার নির্দেশ দেন আদালত।

উল্লেখ্য, ১৮ আগস্ট রাতে নগরের সিঅ্যান্ডবি সড়কে উপজেলা পরিষদ কম্পাউন্ডে শোক দিবসের ব্যানার অপসারণকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের মধ্যে রাতভর সংঘর্ষ হয়। এ সময় ইউএনওর সরকারি বাসভবনেও হামলার অভিযোগ করা হয়।

Related Articles

Stay Connected

21,980FansLike
2,956FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles