Monday, September 27, 2021

MYTV Live

সাতক্ষীরায় একই পরিবারের চারজনকে হত্যার আসামি রায়হানুরের মৃত্যুদন্ড

সাতক্ষীরার কলারোয়ায় একই পরিবারের চারজনকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার মামলার একমাত্র আসামি রায়হানুর রহমানকে (৩৬) মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন আদালত। 

মঙ্গলবার বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে সাতক্ষীরার সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক শেখ মফিজুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। 

এদিকে চাঞ্চল্যকর এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের পিপি অ্যাড. আব্দুল লতিফ বলেন, যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের মাধ্যমে আদালতকে আসামি রায়হানুর রহমান দোষী সাব্যস্ত করতে সক্ষম হয়েছি বলে তাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মুত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। যুগান্তকারী রায় হয়েছে। এই রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট। 

তবে আসামি পক্ষের সিনিয়র আইনজীবী এস এম হায়দার এ রায়ে সন্তুষ্ট নন বলে জানান। তিনি বলেন, এই রায়ের বিরুদ্ধে আমরা উচ্চ আদালতে আপিল করব।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার হেলাতলা ইউনিয়নের খলিষা গ্রামের শাহজাহান ডাক্তারের ছোট ছেলে রায়হানুর রহমান বেকারত্বের কারণে বড় ভাই শাহীনুরের সংসারে ছিল। শারীরিক অসুস্থতার কারণে কাজ না করায় গত বছরের ১০ জানুয়ারি স্ত্রী তালাক দেয় রায়হানুরকে। সংসারে টাকা দিতে না পারায় শাহীনুরের স্ত্রী দেবর রায়হানুরকে মাঝে মাঝে গালমন্দ করতেন। এরই জেরে গত বছরের ১৪ অক্টোবর রাতে ভাই শাহীনুর রহমান (৪০), ভাবী সাবিনা খাতুন (৩০), তাদের ছেলে সিয়াম হোসেন মাহী (১০) ও মেয়ে তাসমিন সুলতানাকে (৮) কোমল পানীয়ের সঙ্গে ঘুমের বাড়ি খাওয়ান রায়হানুর। এরপর ভোরের দিকে হাত ও পা বেঁধে তাদের একে একে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে। এ সময় তাদের ৪ মাসের শিশু মারিয়াকে হত্যা না করে তাকে লাশের পাশে ফেলে রেখে যান।

এ ঘটনায় নিহত শাহীনুরের শাশুড়ি কলারোয়া উপজেলার উফাপুর গ্রামের রাশেদ গাজীর স্ত্রী ময়না খাতুন বাদী হয়ে কারো নাম উল্লেখ না করে থানায় হত্যা মামলা করেন।

মামলার তদন্তে নেমে সিআইডি সন্দেহভাজন হিসেবে শাহীনুরের ভাই রায়হানুর রহমান, একই গ্রামের রাজ্জাক দালাল, আব্দুল মালেক ও ধানঘরা গ্রামের আসাদুল সরদারকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃত রায়হানুরকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে ২১ অক্টোবর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম বিলাস মন্ডলের কাছে রায়হানুর নিজেই হত্যার দায় স্বীকার করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।

এদিকে নিহত পরিবারে বেঁচে থাকা একমাত্র শিশু মারিয়া বর্তমানে হেলাতলা ইউপি সদস্য নাছিমা খাতুনের কাছে বড় হচ্ছে। গত ২৪ নভেম্বর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক শফিকুল ইসলাম আসামি রায়হানুর রহমানের নামে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এ মামলায় গত ১৪ জানুয়ারি অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়।

Related Articles

Stay Connected

21,980FansLike
2,954FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles