MYTV Live

গৃহহীন আরও ২৬ হাজার ২২৯টি পরিবার পেল প্রধানমন্ত্রীর উপহারের জমি ও ঘর

সরকারের আশ্রয়ণ প্রকল্প-২-এর আওতায় ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারগুলোর কাছে ২৬ হাজার ২২৯টি জমিসহ বাড়ি হস্তান্তর করা হয়েছে। এর মাধ্যমে পঞ্চগড় ও মাগুরা জেলার সব উপজেলাসহ ৫২টি উপজেলাকে গৃহহীন ও ভূমিহীন মুক্ত উপজেলা হিসেবেও ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।  

বৃহস্পতিবার সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভার্চুয়ালি এই ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষের কাছে ঘরের দলিল ও চাবি হস্তান্তর করেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি পাঁচটি জেলার পাঁচটি স্থানের সাথে সংযুক্ত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশের প্রতিটি নাগরিকের সুন্দর জীবন নিশ্চিত করা আমার দায়িত্ব। কারও কাছে যদি খবর থাকে বাংলাদেশের একটি মানুষ ভূমিহীন বা গৃহহীন রয়েছে অবশ্যই আমাদের খবর দেবেন। দল-মত নির্বিশেষে যেই গৃহহীন থাকবে আমরা তাদেরই ঘর করে দেবো, ঠিকানা এবং জীবিকার ব্যবস্থা করে দেবো।

তিনি বলেন, দল-মতের ভিন্নতা থাকতে পারে, তাতে কিছু আসে যায় না। দেশটা তো আমাদের। আমি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, তার মানে বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব আমার।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আশা করি আমরা বাংলাদেশের প্রতিটি জেলার প্রতিটি উপজেলাকেই এভাবে ভূমিহীন-গৃহহীনমুক্ত করতে পারবো। প্রত্যেকের একটি ঘর থাকবে, একটি স্থায়ী ঠিকানা থাকবে, একটি সুন্দর বাসস্থান থাকবে এবং তারা সুন্দরভাবে বাঁচবে। ইনশাআল্লাহ সেটা আমরা করে ফেলতে পারবো বলেই বিশ্বাস করি।

তিনি বলেন, সরকার সমাজের সব স্তরের মানুষের জন্যই আশ্রয়ের ব্যবস্থা করছে। পাশাপাশি ঋণ দেওয়া হচ্ছে এবং প্রশিক্ষণের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। সেই সুযোগ নিয়ে নিজেদের কর্মসংস্থানের মাধ্যমে জীবনটাকে আরও উন্নত করবেন এবং নিজেরাও ভূমি কিনে ঘরবাড়ি করার যোগ্যতা যেন অর্জন করতে পারেন সেটাও আমরা চাই।

কারও কাছে হাত পেতে নয়, নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে মর্যাদার সঙ্গে যেন বেঁচে থাকতে পারেন- বলেন প্রধানমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে করোনা ও ইউক্রেন যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতি এবং খাদ্য সংকটের চিত্র তুলে ধরে দেশের জনগণকে বিদ্যুৎ-জ্বালানিসহ সবক্ষেত্রে সাশ্রয়ের আহ্বানও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একদিকে করোনা, অন্যদিকে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ। এই যুদ্ধের সময় আমেরিকা রাশিয়ার ওপর যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, যার ফলে আমাদের সার কিনতে সমস্যা হচ্ছে, খাদ্য কিনতে সমস্যা হচ্ছে। এসব কারণে শুধু বাংলাদেশ না বিশ্ববাপী মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে। খাদ্যের জন্য হাহাকার।

‘আজকে উন্নত দেশগুলোতে পর্যন্ত হাহাকার দেখা যাচ্ছে। আজকে আমেরিকা ইউরোপসহ সব জায়গায় বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা…ডিজেল, জ্বালানি সাশ্রয়ের উদ্যোগ উন্নত দেশগুলোও নিয়েছে। তাই সবাইকে অুনরোধ করতে হবে বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে হবে।’

এ সময় বিদ্যুৎ, পানি, জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয় অনুরোধ জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, এক ইঞ্চি জমিও যাতে পরে না থাকে, খাদ্য উৎপাদন করতে হবে। লন্ডনের মতো জায়গায় এক লিটারের বেশি খাবারের তেল কেউ কিনতে পারে না। আমাদের এখানে তো ইচ্ছে করলেই পাঁচ লিটার তেল কিনতে পারছে। তবে আমাদের সাশ্রয় করতে হবে।

‘আমরা প্রাকৃতিক দুর্যোগের দেশ। আমাদের প্রাকৃতিক দুর্যোগ আসবেই। সেজন্য আমাদের আগে থেকেই প্রস্তুত থাকতে হবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের জন্য আপদকালীন সময়ের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। সরকার সবসময় পাশে আছে। সতর্ক থাকবেন তাহলে যেকোনো দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা রাখি।’

আশ্রয়ণ প্রকল্প-২-এর আওতায় প্রথম পর্যায়ে ২০২১ সালের ২৩ জানুয়ারি ৬৩ হাজার ৯৯৯টি বাড়ি হস্তান্তর করা হয়। দ্বিতীয় পর্যায়ে ২০২১ সালের ২০ জুন ৫৩ হাজার ৩৩০টি বাড়ি হস্তান্তর করা হয়। প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ে মোট এক লাখ ১৭ হাজার ৩২৯টি বাড়ি হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে তৃতীয় পর্যায়ে ৬৭ হাজার ৮০০টি বাড়ি হস্তান্তরের কাজ চলছে।

আশ্রায়ন-২ প্রকল্পের তৃতীয় পর্যায়ে অধিক টেকসই ও জলবায়ু সহিষ্ণু করতে ঘরগুলোর নক্সা পরিবর্তন করা হয়। এতে ঘরগুলোর নির্মাণ খরচ বেড়ে যায়। এতে প্রতিটি ঘরের নির্মাণব্যায় ১ লাখ ৯১ হাজার টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২ লাখ ৫৯ হাজার ৫০০ টাকায় উন্নীত হয়। ঘরগুলোকে অধিকতর টেকসই করে নির্মাণ করতে মজবুদ কড়ি কাঠ, পাথরের সর্দল ও রিইনফোর্স কংক্রিট কলাম (আরসিসি) পিলার ব্যবহার করা হয়েছে।

ভূমিহীন ও গৃহহীন মুক্ত উপজেলাগুলো হচ্ছে- ঢাকার নবাবগঞ্জ, মাদারীপুরের মাদারীপুর সদর, শরীয়তপুরের ডামুড্যা, কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী, টাঙ্গাইলের গোপালপুর, মানিকগঞ্জের ঘিওর, সাটুরিয়া, রাজবাড়ীর কালুখালী, ফরিদপুরের নগরকান্দা, নেত্রকোনার মদন, ময়মনসিংহের ভালুকা, নান্দাইল, ফুলপুর, ফুলবাড়িয়া, জামালপুরে বকশীগঞ্জ, চট্টগ্রামের পটিয়া, কর্ণফুলী, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, লক্ষ্মীপুরের রায়পুর, রামগঞ্জ, ফেনীর ফেনী সদর, ছাগলনাইয়া, ফুলগাজী, পরশুরাম, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ, পঞ্চগড়ের আটোয়ারী, পঞ্চগড় সদর, দেবীগঞ্জ, তেঁতুলিয়া, বোদা।

এছাড়া ভূমিহীন ও গৃহহীন মুক্ত উপজেলাগুলোর মধ্যে রয়েছে- দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ, ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী, নীলফামারীর ডিমলা, নওগাঁর রাণীনগর, জয়পুরহাটের পাঁচবিবি, রাজশাহীর মোহনপুর, চারঘাট, বাঘা, বগুড়ার নন্দীগ্রাম, দুপচাঁচিয়া নাটোরের বাগাতিপাড়া, পাবনার ঈশ্বরদী, চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ, ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু, সাতক্ষীরার তালা, মাগুরা সদর, শ্রীপুর, মোহম্মদপুর, শালিখা, ঝালকাঠির কাঠালিয়া, পটুয়াখালীর দশমিনা।

গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক আবু সালেহ মোহাম্মদ ফেরদৌস খান প্রকল্পের ওপর একটি উপস্থাপনা তুলে ধরেন।

Related Articles

Stay Connected

22,878FansLike
3,433FollowersFollow
20,000SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles