MYTV Live

ডিগবাজি খাবো না, নির্বাচনে সর্বশক্তি দিয়ে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করবো: সিইসি

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেছেন, ডিগবাজি খাবো না, নির্বাচনে সর্বশক্তি দিয়ে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করবো।

মঙ্গলবার সকালে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সঙ্গে সংলাপে সিইসি এ আহ্বান জানান।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ করছে ইসি। ধারাবাহিক এ সংলাপের অষ্টম দিন আজ। রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে এ সংলাপ হয়।

সংলাপে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার না করার পক্ষে মত দেয়। এ প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, ‘ইভিএম নিয়ে আমরা এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নিইনি। তবে ব্যালট পেপারে যে অসুবিধা, ব্যালট পেপারটা ছিঁড়ে সিল মেরে দেয়। বাংলাদেশে যে নির্বাচনগুলো অতীতে হয়েছে, ’৭৩ সালে নির্বাচন হয়েছে, এরপর সামরিক শাসনের সময় নির্বাচন হয়েছে। হ্যাঁ-না ভোট হয়েছে।

এসময় ইভিএমের সুবিধা তুলে ধরে তিনি বলেন, ইভিএম লাঠি ও হকিস্টিক নিয়ে ভেঙে ফেললেও ভোট নষ্ট হবে না।’

সিইসি আরও বলেন, কেন্দ্র দখল ও ভোটারপ্রতি পাঁচশ ভোট পড়লে এর হার বেড়ে যাওয়া সম্পর্কেও আলোচনা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। বিভিন্ন জায়গায় সমস্যা রয়েছে উল্লেখ করে, এসবের সমাধান করে অর্থবহ ও নিরপেক্ষ এবং দুর্নীতিমুক্ত নির্বাচন করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

ইসির ওপর আস্থা রাখার কথা জানিয়ে ইসি সচিব বলেন, আমাদের ওপর আস্থা রাখেন। আস্থা রাখতে গিয়ে চোখ বন্ধ রাখলে হবে না। নজরদারিতে রাখতে হবে, যে আমরা কি আসলেই সাধু, নাকি ভেতরে ভেতরে অসাধু। সেটা যদি আপনারা নজর না রাখেন, তবে আপনাদের দায়িত্ব পালন হবে না।

অর্থশক্তিকে কীভাবে সামাল দেবো, একটা বুদ্ধি দেন। এ অর্থ নিয়ন্ত্রণ করবো কীভাবে? কাগজে-কলমে পাঁচ লাখ টাকা করা হলেও যদি প্রকৃত খরচ পাঁচ কোটি টাকা হয় কীভাবে আমি আপনাকে ধরবো, আপনি আমাকে কীভাবে ধরবেন। এটা সম্ভব। এজন্য সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

কোনো অভিযোগ পেলে সঙ্গে সঙ্গে ইসিকে তা জানানোর পরামর্শ দেন সিইসি। তিনি বলেন, ‘আপনারা আমাদের অবশ্যই চাপে রাখবেন। আমি বিশ্বাস করি, এটা প্রয়োজন আছে। আমাদের থেকে কোনো অনিয়ম লক্ষ করলে তা প্রকাশ করে দেবেন। আমরা কোনোভাবেই পক্ষপাতিত্ব করতে চাই না।’

সিইসি আরও বলেন, ‘মাঠে আপনাদের থাকতে হবে। আমাদের তথ্য দিলে আমরা আপনাদের সাহায্য করবো। আমরা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি এই প্রতিশ্রুতির কিছু মূল্য থাকা উচিত। একেবারে যে আমরা ডিগবাজি খেয়ে যাবো তা তো নয়। সেটা হওয়ার কথা নয়।’

আমরা আমাদের দায়িত্ব সর্বশক্তি দিয়ে পালনের চেষ্টা করবো। আপনারাও কিছু দায়িত্ব নেবেন। অর্থশক্তি, পেশিশক্তি মোকাবিলা ও ভোটকেন্দ্রের শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য বেশি দায়িত্ব নেবেন। আমরা শেয়ার করবো দায়িত্বটা।

সংলাপে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের প্রতিনিধি দল, চার নির্বাচন কমিশনার ও ইসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নিয়েছেন।

ইসিতে নিবন্ধিত মোট ৩৯টি রাজনৈতিক দলকে এ সংলাপে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ৩১ জুলাই আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংলাপের মধ্য দিয়ে এ কার্যক্রম শেষ হবে।

Related Articles

Stay Connected

22,878FansLike
3,433FollowersFollow
20,000SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles