MYTV Live

মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে খুলনায় ৬ জনের মৃত্যুদন্ড

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় খুলনার বটিয়াঘাটায় সংঘটিত হত্যা, গণহত্যা, নির্যাতন ও অগ্নিসংযোগসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আমজাদ হোসেন হাওলাদারসহ ৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। এটি ট্রাইব্যুনালের ৪৭তম রায়।

রায় ঘোষণার নির্ধারিত দিনে বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান ও বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এ রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য সদস্যরা হলেন বিচারপতি আবু আহমেদ জমাদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলম।

গত ২৬ জুলাই মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ছয় জনের রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।

মামলার অপর পাঁচ আসামি হলেন সহর আলী সরদার, আতিয়ার রহমান, মোতাছিম বিল্লাহ, কামাল উদ্দিন গোলদার ও নজরুল ইসলাম। এদের মধ্যে নজরুল ইসলাম পলাতক রয়েছেন। প্রথমে এ মামলার আসামি ছিলেন আটজন। গ্রেপ্তারের পর দুই আসামি মোজাহার আলী শেখ ও আশরাফ শেখ অসুস্থ অবস্থায় মারা যান।

আসামিদের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার সময় হত্যা, নির্যাতন, অপহরণ, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। মামলায় ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন ট্রাইব্যুনাল।

প্রসিকিউশনের পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন প্রসিকিউটর মোখলেছুর রহমান বাদল। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর সাবিনা ইয়াসমিন খান মুন্নি। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী আল ফয়সাল আলী, আব্দুস সাত্তার পালোয়ান ও রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী গাজী এম এইচ তামিম।  

রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে প্রসিকিউটর বাদল সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রসিকিউশন আসামিদের বিরুদ্ধে সবকটি অভিযোগ সন্দোহাতীতভাবে প্রমাণ করতে পারায় ট্রাইব্যুনাল ছয় আসামিকেই সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন।’

তবে এ রায়ে সংক্ষুব্ধ আসামিপক্ষের আইনজীবী আব্দুস সাত্তার পালোয়ান মনে করেন, তার মক্কেল ন্যায়বিচার পাননি। রায়ের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।

আর পলাতক নজরুল ইসলামের পক্ষে রাষ্ট্র নিয়োজিত আইনজীবী গাজী এম এইচ তামিম সাংবাদিকদের বলেন, ‘রায়ে আমার মক্কেল ন্যায়বিচার পাননি। আদালতের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি আত্মসমর্পণ করে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলে তিনি ন্যায়বিচার পাবেন বলে আমি মনে করি।’

২০১৫ সালের ১৫ নভেম্বর সাত আসামির বিরুদ্ধে মামলার তদন্ত শুরু হয়। ২০১৭ সালের ৮ মার্চ আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল। তদন্ত শেষ করে ২০১৭ সালের ৮ আগস্ট প্রডিসকিউশনে মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। পরে ওই বছরের ১৯ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন দাখিল করে প্রসিকিউশন। ১৪ ডিসেম্বর তা আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, আমজাদ হোসেন ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময়ে কনভেনশন মুসলিম লীগ এবং পরে জামায়াতের সমর্থক ছিলেন। অপর ছয় আসামিও একই সময়ে কনভেনশন মুসলিম লীগ এবং জামায়াতের সমর্থক ছিলেন।

আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ হলো-

প্রথম অভিযোগ: ১৯৭১ সালের ১০ আগস্ট আমজাদ হোসেন হাওলাদারসহ চার-পাঁচজন রাজাকার বটিয়াঘাটার মাছালিয়া গ্রামের শান্তি লতা মণ্ডলের বাড়িতে হামলা চালিয়ে বিনোদ মণ্ডলকে অবৈধভাবে আটক-নির্যাতন, অপহরণ ও গুলি করে হত্যা করেন।

দ্বিতীয় অভিযোগ: ১৯৭১ সালের ১৫ অক্টোবর বটিয়াঘাটার পূর্বহালিয়া গ্রামের চাপরাশী বাড়িতে হামলা চালিয়ে নিরস্ত্র হরিদাস মজুমদারকে আটক, নির্যাতন ও গুলি করে হত্যা করেন আসামিরা।

তৃতীয় অভিযোগ: মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ২১ অক্টোবর হিন্দু সম্প্রদায়কে নিশ্চিহ্ন করতে বটিয়াঘাটার সুখদাড়া গ্রামে হামলা চালিয়ে নিরীহ ও নিরস্ত্র হিন্দু সম্প্রদায়ের চারজনকে হত্যা, চার-ছয়টি বাড়ির মালামাল লুট এবং অগ্নিসংযোগ করে আসামিরা।

চতুর্থ অভিযোগ: ১৯৭১ এর ২৯ নভেম্বরে আসামিরা বটিয়াঘাটার বারোআড়িয়া গ্রামে হামলা চালিয়ে মুক্তিযোদ্ধা জ্যোতিষ মণ্ডল ও আব্দুল আজিজকে গুলি করে হত্যা করে।

Related Articles

Stay Connected

22,878FansLike
3,434FollowersFollow
20,000SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles