MYTV Live

গার্ডার দুর্ঘটনা: ক্রেনটি চালাচ্ছিলেন হেলপার; ছিল না ফিটনেস

রাজধানীর উত্তরায় প্রাইভেট কারের ওপর নির্মাণাধীন বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের ক্রেনটি চালাচ্ছিলেন চালকের সহকারী রাকিব হোসেন এবং বাইরে থেকে নির্দেশনা দিচ্ছিলেন ক্রেনের মূল অপারেটর আল আমিন।

বৃহস্পতিবার দুজনসহ ওই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ১০ জনকে গ্রেপ্তারের পর এক সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাবের পক্ষ থেকে এসব তথ্য জানানো হয়। রাজধানীর কারওয়ান বাজারের র‍্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

তিনি জানান, ক্রেনের মূল অপারেটর ছিলেন আল আমিন। তার হালকা গাড়ি চালানোর অনুমোদন থাকলেও ভারী গাড়ি চালানোর লাইসেন্স নেই। ২০১৬ সালে ক্রেন চালনার প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর ২-৩টি নির্মাণ প্রকল্পে কাজ করেন। গত মে মাসে তিনি বিআরটি প্রকল্পে ক্রেন অপারেটর হিসেবে কাজ শুরু করেন। 

গ্রেপ্তার রাকিবও ৩ মাস আগে বিআরটি প্রকল্পে ক্রেন-হেলপার হিসেবে কাজ শুরু করেন। তার ক্রেন চালনায় কোনো ধরণের প্রশিক্ষণ নেই। দুর্ঘটনার দিন আল আমিন ও রাকিব দুপুরে ক্রেন চালানো শুরু করেন। দুর্ঘটনার পর আল আমিন ও রাকিব ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

খন্দকার মঈন জানান, বিআরটি প্রকল্পে ব্যবহৃত ক্রেনটির ফিটনেসও ছিল না। ক্রেনটি ছিল অনেক পুরাতন। এর ধারণক্ষমতা ছিল ৪৫ থেকে ৫০ টন। আর গার্ডারের ওজন ছিল ৬০ থেকে ৭০ টন। গার্ডার তোলার কাজ করার সময় দুটি ক্রেন থাকার কথা থাকলেও ছিল একটি। যে ক্রেনটি ছিল সেটিও ছিল অপেক্ষাকৃত দুর্বল।

র‍্যাবের সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বিআরটি প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না গেজুবা গ্রুপ কোম্পানি (সিজিজিসি)। সিজিজিসি থেকে ভারী যন্ত্রপাতি সরবরাহের ওয়ার্ক অর্ডার পায় ইফসকন নামের একটি প্রতিষ্ঠান। এর মালিক মো. ইফতেখার হোসেন ও হেড অব অপারেশন আজহারুল ইসলাম ওরফে মিঠু গ্রেপ্তার হয়েছেন। ইফসকনের কাছে বড় ক্রেন না থাকায় তারা ‘থার্ড পার্টি’ প্রতিষ্ঠান বিল্ড ট্রেড কোম্পানির কাছে থেকে দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ক্রেনটি ভাড়া নেয়।

এ ছাড়া প্রকল্প এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিতের দায়িত্বে থাকা ফোর ব্রাদার্স গার্ড সার্ভিসের ট্রাফিক ম্যান আফরোজ ও রুবেল এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিজিজিসির সেফটি ইঞ্জিনিয়ার জুলফিকার আলী ও ভারী যন্ত্র সরবরাহের দায়িত্বে নিয়োজিত থাকা সিজিজিসির প্রকিউরমেন্ট অফিসার মঞ্জুরুল ইসলামকে দায়িত্বে অবহেলার কারণে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে র‍্যাব জানতে পারে, গ্রেপ্তার ইফতেখার ও আজহারুল ইসলাম অপারেটরদের দক্ষতা, যোগ্যতা ও ক্রেনের ফিটনেস যাচাই না করেই গুরুত্বপূর্ণ জনবহুল সড়কে ভারী গার্ডার স্থাপনের কাজে নিয়োজিত করছিলেন।

এ ছাড়া গার্ডার স্থাপনের সময় অতিরিক্ত একটি সহায়ক ক্রেন উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও তা ছিল না। তাঁরা অতিরিক্ত লাভের জন্য অল্প পারিশ্রমিকে ভারী গাড়ি চালনার লাইসেন্স না থাকা অপারেটর আল আমিনকে নিয়োগ দেন। এ ছাড়া দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ক্রেনের সর্বশেষ ফিটনেস যাচাই করা হয়েছিল ২০২১ সালে। কিন্তু এ বছর ক্রেনের কোনো ধরনের ফিটনেস যাচাই করা হয়নি।

র‍্যাব জানায়, দুর্ঘটনার দিন ভারী গার্ডার স্থাপনের সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোনো ধরনের নিরাপত্তাবেষ্টনী স্থাপন ও পর্যাপ্ত ট্রাফিক নিয়োগ দেওয়া হয়নি। এ ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ কাজ হওয়া সত্ত্বেও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার জন্য ডিএমপি ও অন্যান্য কর্তৃপক্ষকে না জানিয়েছে কাজ চলেছে।

Related Articles

Stay Connected

22,878FansLike
3,507FollowersFollow
20,100SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles