MYTV Live

কৃষিক্ষেত্রে উৎপাদন বাড়ানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কা করে কৃষিক্ষেত্রে উৎপাদন বাড়াতে আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

বুধবার বঙ্গবন্ধু কৃষি পুরস্কার বিরতণ অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে পুরস্কার বিতরণ আনুষ্ঠানে যুক্ত হন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবার মাঝে একটা উদ্বেগ, ২০২৩ সালে দুর্ভিক্ষ-খাদ্য মন্দা দেখা দিতে পারে। বাংলাদেশে যেন এটা না হয়। আমাদের খাদ্য উৎপাদন করতে হবে। এই যুদ্ধ তাড়াতাড়ি বন্ধ হবে বলে মনে হয় না। যুদ্ধ বন্ধ করেন, আমি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এই আবেদনটাই জানিয়েছি।

এক ইঞ্চি জমিও অনাবাদী না রাখার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, যে যা পারেন উৎপাদন করেন। এক ইঞ্চি জমিও নষ্ট করবেন না। বাড়ির আঙিনায়, খোলা জায়গায় উৎপাদন করেন।

সরকার বিভিন্নভাবে চাষাবাদকে উৎসাহিত করছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, খাদ্যের চাহিদা কখনও কমবে না। বরং বাড়বে। সামনে অর্থনৈতিক মন্দার কারণে অনেকেই খাদ্য সংকটে পড়বে। আমাদের যাতে সেরকম পরিস্থিতি না হয়। হয়তো অনেক দেশে আমাদেরই খাদ্য সহায়তা পাঠাতে হবে। সেদিক চিন্তা করে আমাদের কাজ করতে হবে।

জাতির পিতাকে হত‌্যার পর আওয়ামী লীগ পুনরায় ক্ষমতায় আসার আগ পর্যন্ত বাংলাদেশ খাদ্য আমদানির ওপর নির্ভরশীল ছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতার স্বপ্ন ছিল আমরা কৃষিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ হবো। কিন্তু আমাদের আগে যতগুলো সরকার ছিল তাদের সবার একটা বিষয় ছিল যে, এটা না করে কিছু লোককে দিয়ে ব্যবসা করাবে, আমদানি করবে, সাহায্য নেবে। জিয়ার সরকার, এরশাদের সরকার, খালেদা জিয়ার সরকার সবার কথাই আমি বলছি। ৯৬ এ ক্ষমতায় এসে লক্ষ্য নিলাম আমাদের খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে হবে।

তিনি বলেন, ১৯৯৮ সালে বন্যা হয় দেশে। তখন বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বলেছিল, দুই কোটি মানুষ না খেয়ে মারা যাবে। আমরা বলেছিলাম একজনও মারা যাবে না। ৬৯ দিন ছিল বন্যা। যেসব এলাকায় বন্যা ছিল না সবখানে ধানের চারা রোপণ শুরু করি। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পরপরই এয়ারফোর্সের মাধ্যমে সবখানে বীজ পৌঁছে দেই। সেই বছরই প্রথম বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১০০টা শিল্পাঞ্চল করে দিয়েছি, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল। কৃষিজমিটা যেন নষ্ট না হয়। কৃষিপণ্য বা খাদ্যপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা করতে পারি এসব অর্থনৈতিক অঞ্চলে। অঞ্চলভিত্তিক কৃষিপণ্য সংরক্ষণের কথা ভাবছি। যে অঞ্চলে যে ফসলটা সবচেয়ে বেশি উৎপাদিত হচ্ছে, সেভাবেই সংরক্ষণাগার গড়ে তুলতে হবে। শিল্পাঞ্চলে আলাদা প্লট নিয়ে আলাদা সংরক্ষণাগার করা যাবে। এর ফান্ড আমি দেবো।

তিনি বলেন, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ ও স্যাংকশানের কারণে বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়ে গেছে। আমাদের অনেক কিছু বাইরে থেকে কিনে আনতে হয়। তবে অনেক দেশের সঙ্গে পণ্য আনার চুক্তি করেছি। পণ্যের দাম যেমন বেড়েছে, পরিবহনের খরচ বেড়েছে। তবু কৃষকের ভর্তুকি আমরা দিয়ে যাচ্ছি।

অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মতিয়া চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

Related Articles

Stay Connected

22,878FansLike
3,587FollowersFollow
20,300SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles