MYTV Live

বগুড়ায় শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় ৪ জনের মৃত্যুদন্ড

বগুড়ায় ধর্ষণের পর দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্রী মাহি উম্মে তাবাসসুমকে (৮) হত্যার দায়ে চার যুবককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত।

রোববার দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে জেলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল- ২ এর বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর এ রায় দেন। 

এসময় দণ্ডপ্রাপ্ত সবাইকে এক লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।

ফাঁসির দণ্ড প্রাপ্তরা হলেন- বগুড়ার ধুনট উপজেলার নশরতপুর গ্রামের মোজাম্মেলের ছেলে বাপ্পি আহম্মেদ (২৪), একই এলাকার দলিল উদ্দিন তালুকদারের ছেলে কামাল পাশা (৩৭), ছানোয়ার হোসেনের ছেলে শামিম রেজা (২৪) ও মৃত সাহেব আলীর ছেলে লাভলু শেখ (২৩)। তারা একে অপরের বন্ধু। বাপ্পি স্থানীয় জিএমসি ডিগ্রি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিল। কামাল পাশা মুদি দোকানদার, শামীম রেজা রাজমিস্ত্রি ও লাবলু রংমিস্ত্রি।

রায় ঘোষণার সময় তারা সবাই আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণার পরে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের শিকার ধুনট থানার নশরতপুর গ্রামের ৭ বছরের শিশু কন্যা মাহি উম্মে তাবাসসুমের বাবা-মা গার্মেন্টস কর্মি হওয়ায় ঢাকায় বসবাস করতেন। তাবাসসুম তার দাদা আবদুস সবুরের বাড়িতে থেকে পাঁচথুপি-নশরতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়তো। ২০২০ সালে ১৪ ডিসেম্বর রাতে তাবাসসুম তার দাদা ও ফুফুর সঙ্গে নশরতপুর পশ্চিমপাড়া গ্রামে ওয়াজ মাহফিলে শুনতে যায়। রাত ১০ টার দিকে তাবাসসুম ঐ স্থানে বসা ভ্রাম্যমাণ দোকান থেকে মিষ্টি কিনতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। পরে রাত দেড়টায় ঐ গ্রামের একটি বাঁশ ঝাড়ে তাবাসসুমের লাশ পাওয়া যায়। পরদিন তাবাসসুমের বাবা বেলাল হোসেন বাদী হয়ে ধুনট থানায় অজ্ঞাত আসামিদের নামে মামলা করেন।

মামলাটি তদন্তকালে পুলিশ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেন। এরপর গ্রেপ্তারকৃতরা আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দিতে শিশু তাবাসসুমকে গণধর্ষণের পর হত্যার দায় স্বীকার করেন। ধুনট থানার তৎকালীন পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জাহিদুল হক মামলাটি তদন্ত শেষে ২০২১ সালে ২৫ নভেম্বর আদালতে ৪ জনের নামে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

বগুড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল -২ এর স্পেশাল পিপি আশেকুর রহমান বলেন, মামলায় সব সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে রোববার রায় ঘোষণা করেন বিচারক। রায়ে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেক আসামিকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, অল্প সময়ের মধ্যে স্বাক্ষ্য গ্রহণ শেষে রায় ঘোষণা করায় বাদীপক্ষ খুশি। তবে রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাওয়ার কথা জানিয়েছে আসামিপক্ষের আইনজীবী।

রায় ঘোষণার পর নিহত তাবাসসুমের বাবা বেলাল হোসেন বলেন, আসামিদের সবাইকে আমার মেয়ে চিনত। ওদেরকে ভাই বলে ডাকতো। এই রায়ে শান্তি পেলাম আমি।

Related Articles

Stay Connected

22,878FansLike
3,587FollowersFollow
20,300SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles