MYTV Live

শীতে হার্ট অ্যাটাক বেশি হয় কেন?

শীতে হার্ট সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যা বেড়ে যায়। যাদের আগে থেকেই উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা আছে, তাদের মধ্যেও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বেড়ে যায়। হার্ট অ্যাটাকের জন্য দায়ী মূলত খারাপ কোলেস্টেরল। যদিও কোলেস্টেরল শরীরে শক্তির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কোলেস্টেরল মূলত দুই প্রকারের হয়- এলডিএল ও এইচডিএল। এইচডিএল ভালো কোলেস্টেরল কিন্তু এলডিএল আবার খারাপ কোলেস্টেরল। রক্তে এই আঁঠালো পদার্থ ময়লার মতো বাড়তে থাকে।

খারাপ কোলেস্টেরল বেশি হলে তা রক্তনালিতে জমতে শুরু করে। ধীরে ধীরে খারাপ কোলেস্টেরল হৃৎপিণ্ডে রক্ত সরবরাহকারী ধমনীতেও পৌঁছায় ও সেখানে জমা হতে থাকে।

এ কারণে ধমনীর স্থান কমে যায় ও হৃৎপিণ্ডে রক্ত পৌঁছাতে অসুবিধা হয়। রক্ত যখন হার্টে পৌঁছায় না, তখন হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক এমনকি হার্ট ফেইলিওরের ঝুঁকিও বেড়ে যায়।

খারাপ ডায়েট: স্বাস্থ্য ওয়েবসাইট মায়ো ক্লিনিক অনুযায়ী, ভুল খাদ্যাভ্যাস উচ্চ কোলেস্টেরল বাড়ায়। এমনিতেই শীতে অস্বাস্থ্যকর জিনিস যেমন- ভাজা খাবার, স্যাচুরেটেড ও ট্রান্স ফ্যাট খাওয়ার প্রবণতা বেশি থাকে।

প্যাকেটজাত খাবারে ট্রান্স ফ্যাট বেশি থাকে। এছাড়া লাল মাংস ও দুগ্ধজাত খাবারে স্যাচুরেটেড ফ্যাট পাওয়া যায়। নিয়মিত এসব খাবার খাওয়ার জন্যই মূলত শরীরে খারাপ কোলেস্টেরল জমতে শুরু করে।

শারীরিক পরিশ্রম কমে যাওয়া: শীতে শারীরিক কার্যকলাপ কমতে শুরু করে। ব্যায়ামের অভাবে ভালো কোলেস্টেরল কমে ও খারাপ কোলেস্টেরল বাড়ে। তাই নিয়মিত শরীরচর্চা করুন কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে ররাখতে ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি এড়াতে।

ধূমপান ও অ্যালকোহল: অনেকে শীতকালে ধূমপানের অভ্যাসও বাড়িয়ে দেন। ধূমপানের কারণে রক্তে ভালো কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমতে শুরু করে। এর থেকেই বাড়ে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি।

এছাড়া শীতকালে অ্যালকোহল সেবনও বাড়িয়ে দেন অনেকেই। অতিরিক্ত অ্যালকোহল খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ায়। ওজন বৃদ্ধি অনেক রোগের মূল। স্থূলতার কারণে ইনসুলিন প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়তে থাকে। এতে হার্টের ওপর অপ্রয়োজনীয় চাপ পড়ে।

যারা স্থূলতার দ্বারপ্রান্তে আছেন, ভুল ও অতিরিক্ত খাওয়ার কারণে শীতে তাদের ওজন আরও বেড়ে যায়। ফলে কোলেস্টেরল বাড়ে এমনকি হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকিও বাড়ে।

কীভাবে খারাপ কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করবেন: ভুল খাদ্যাভ্যাস, ব্যায়ামের অভাব, অ্যালকোহল ও ধূমপান শরীরের খারাপ কোলেস্টেরল বাড়ানোর জন্য দায়ী। তাই শীতে স্বাস্থ্যকর খাদ্য খান। এর পাশাপাশি মৌসুমি সবুজ শাক-সবজি খাওয়ার পরিমাণ বাড়াতে হবে।

এছাড়া খাদ্যতালিকায় ফল ও শুকনো ফলও অন্তর্ভুক্ত করুন। প্যাকেটজাত ও প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলুন। পাশাপাশি দৈনিক ব্যায়াম করুন, প্রতিদিন সিঁড়ি বেয়ে ওঠা-নামা করুন ও পর্যাপ্ত পানি পান করুন।

Related Articles

Stay Connected

22,878FansLike
3,687FollowersFollow
20,500SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles