ঢাকা , বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ , ১২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঈদে টানা ৭ থেকে ১০ দিনের ছুটির সুযোগ নির্বাচিত সরকার এলে পছন্দের লোক বসানোই স্বাভাবিক: বিদায়ী চিফ প্রসিকিউটর ঢাকার বাজারে মার্কিন পণ্য দেখে রাষ্ট্রদূতের উচ্ছ্বাস নতুন ডিজিএফআই প্রধান মেজর জেনারেল কায়সার রশিদ চৌধুরী বিয়ের ঘোষণা দিলেন রাশমিকা ও বিজয় একই দিনে বিয়ে, আগের রাতে আত্মহত্যা দুই বোনের দ্রুতই কৃষক কার্ড চালু করবে সরকার: তথ্যমন্ত্রী জেনে নিন ইফতারে কোন খাবার স্বাস্থ্যের জন্য বেশি উপকারী রায়েরবাজারে বাসায় গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ, একই পরিবারের শিশুসহ দগ্ধ ৪ মাদক সম্রাট ‘এল মেনচো’র হত্যা ঘিরে মেক্সিকোতে ব্যাপক সহিংসতা প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের পুরনো কর্মচারীদের ডেকে কথা বললেন তারেক রহমান দুর্নীতি করব না, কাউকে করতেও দেব না: শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী প্রথমবারের মতো তেজগাঁও কার্যালয়ে অফিস করছেন তারেক রহমান নোংরামি করলে বরদাশত করব না, জামায়াতকে কাদের সাদিক কায়েমদের বিরুদ্ধে সমন্বয়হীনতার অভিযোগ আনলেন জুমা ট্রাক-অটোরিকশা মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৫ ট্রাম্পকে ইরানে নয়, নিজ দেশে নজর দিতে বলছেন উপদেষ্টারা এখতিয়ারের বাইরে গিয়ে ট্রাম্পের পাল্টা শুল্ক আরোপ অবৈধ : সুপ্রিম কোর্ট মানুষের দুয়ারে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে চাই: স্বাস্থ্যমন্ত্রী রমজানের প্রথম জুমায় বায়তুল মোকাররমে মুসল্লিদের ঢল

বিয়ে থেকে ফিরে মাজেদা দেখলেন ঘর নেই, পড়ে আছে চৌকি

  • আপলোড সময় : ১৯-০১-২০২৫ ০৪:০০:৫৯ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৯-০১-২০২৫ ০৪:০০:৫৯ অপরাহ্ন
বিয়ে থেকে ফিরে মাজেদা দেখলেন ঘর নেই, পড়ে আছে চৌকি
নাতির বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে ফিরে এসে দেখেন নিজের ভিটাবাড়ির টিনের চাল, বেড়া, আসবাবপত্রসহ সবকিছু লুট হয়ে গেছে। শুধু চালাহীন ঘরে পড়ে আছে একটি চৌকি। সেই চৌকিতে বসে বসে বিলাপ করছেন গাজীপুরের কাপাসিয়ার টোক ইউনিয়নের বড়চালা গ্রামের মাজেদা খাতুন (৬০)। নিজের সহায় সম্বল হারিয়ে কোনোভাবেই যেন কান্না থামছে না তার।শনিবার খোলা ঘরে ফেলে রাখা একটি চৌকিতে বসে কান্নাজড়িত কণ্ঠে এসব কথা জানান ভুক্তভোগী বৃদ্ধা।তিনি জানান, গত ১৩ জানুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল এলাকায় নাতির বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যান। কিন্তু সেখান থেকে বাড়ি ফিরে নিজের এই তিনটি ঘরের কোনোটিরই চাল, বেড়া কিংবা কোনো আসবাব পত্রেরই হদিস পাচ্ছেন না তিনি।এ ঘটনায় মাজেদার আপন ছোট ভাই মো. সমশের বাদী হয়ে ১০ জনের নাম উল্লেখ করে গত বৃহস্পতিবার গাজীপুর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩ এ একটি মামলা করেছেন। পরে আদালত পিবিআইকে বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

জানা যায়, পোশাক শ্রমিক ও প্রবাস ফেরত মাজেদা খাতুনের (৬০) স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হয় প্রায় দশ বছর আগে। অভাব অনটনের তাড়নায় নিরাশ্রয় মাজেদা খাতুন ফিরে আসেন বাবার বাড়িতে। সেখানে পৈত্রিক ভিটার পাশে নিজের একখণ্ড জমিতে ছোট একটি টিনের ঘর তুলে বসবাস করতেন তিনি। সেই ঘরের সঙ্গেই টিনের চাল দিয়ে একটি রান্নাঘর এবং তার পাশে আরেকটি লাকড়ির ঘর বানিয়ে কায়ক্লেশে দিনাতিপাত করছিলেন তিনি।উপজেলার টোক ইউনিয়নের বড়চালা গ্রামের মৃত আবদুল আউয়ালের মেয়ে মাজেদা খাতুন আরও জানান, রাজধানীর গুলশানের একটি তৈরি পোশাক কারখানায় কর্মরত এক সহকর্মীর সঙ্গে তিনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। সে ঘরে তাদের একটি কন্যা সন্তানও হয়। সন্তান তাছলিমাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে বিয়ে দেন। গত সোমবার তাছলিমার ছেলের বিয়ে উপলক্ষ্যে তিনি স্বজনদের নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বেড়াতে গেলে প্রতিবেশী আ. মতিন (৪৬) ও তার লোকজন বসতঘরসহ সবগুলো ঘর ভেঙে ফেলেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তিনি দাবি করেন, এ সময় তারা ঘরগুলোর টিনসহ সব আসবাবপত্র ও টাকা-পয়সা লুট করে নিয়ে যান। জীবনের সব সঞ্চয় হারিয়ে এখন নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন তিনি।তার আপন চাচা মো. সিরাজউদ্দিন (৮৩) জানান, ঘর ভাঙার সময় তিনি বাধা দিলে প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে মারধর করে তাড়িয়ে দেন। তিনি আরও দাবি করেন, মাজেদার বসতঘর ও আশপাশের প্রায় ৭০ শতাংশ জমি তার বাবার নামে রেকর্ডভুক্ত রয়েছে। ১৯৪৪ সাল থেকে হালনাগাদ খাজনা দিয়ে ভোগ করে আসছেন তিনি। এ জমি নিয়ে প্রতিপক্ষের লোকজন আদালতে মামলা দিলেও আদালত পরপর দুইবার মাজেদাদের পক্ষে রায় দেন। টোক ইউনিয়ন পরিষদে একাধিকবার সালিশ বৈঠক হলে চেয়ারম্যানও তাদের পক্ষে লিখিত রায় দেন। তাই প্রকাশ্য দিবালোকে এভাবে বসতঘর ভেঙে মালামাল লুটপাট করে নেওয়ার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে বিবাদী আ. মতিন জানান, এ জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। তাই তার লোকজন টিনের ঘরগুলো ভেঙে ফেলেছে। তবে তিনি তখন ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না।এ বিষয়ে পিবিআই পুলিশ সুপার মোস্তফা কামাল জানান, আমরা আদালতের কপিটি হাতে পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবো।

 

কমেন্ট বক্স
ঈদে টানা ৭ থেকে ১০ দিনের ছুটির সুযোগ

ঈদে টানা ৭ থেকে ১০ দিনের ছুটির সুযোগ