প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে বার্তাসংস্থা অ্যাসোসিয়েট প্রেস (এপি), রয়টার্সসহ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে। হোয়াইট হাউজের নতুন গণমাধ্যম নীতির আওতায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এপির ফটোগ্রাফার, রয়টার্স, হাফপোস্ট এবং জার্মান সংবাদপত্র ‘তাগেসপিগেল’-এর সাংবাদিকদের বৈঠকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। তবে এবিসি, নিউজম্যাক্স, ব্লুমবার্গ নিউজ, এনপিআর এবং এক্সিওসের প্রতিনিধিদের কভারেজের অনুমতি দেওয়া হয়।
হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানান, ছোট পরিসরের ইভেন্টে কারা অংশ নেবেন, সে সিদ্ধান্ত প্রশাসন নেবে। তিনি বলেন, "সুপরিচিত সংবাদমাধ্যমগুলোকে প্রেসিডেন্টের দৈনিক কার্যক্রম কভার করতে দেওয়া হবে, তবে জায়গার সীমাবদ্ধতার কারণে কিছু ইভেন্টে উপস্থিতি সীমিত রাখা হবে।"
এর আগে হোয়াইট হাউজের ‘পুল সিস্টেমে’ নির্দিষ্ট টেলিভিশন, রেডিও, বার্তাসংস্থা, পত্রিকা এবং ফটো সাংবাদিকরা প্রেসিডেন্টের ইভেন্ট কভার করতেন। পরে তারা অন্য গণমাধ্যমের সঙ্গে তথ্য শেয়ার করতেন। এপি, রয়টার্স ও ব্লুমবার্গ এই প্রক্রিয়ার দীর্ঘদিনের অংশ।
যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেছে, "বিশ্বব্যাপী মার্কিন প্রেসিডেন্টের খবর পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্বে আমরা থাকি। তাই আমাদের প্রতিনিধিদের ইভেন্টে অংশ নিতে না দেওয়াটা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য হুমকি।"
এপির সঙ্গে সাম্প্রতিক উত্তেজনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। কয়েকদিন আগে এপি জানায়, ট্রাম্পের ইচ্ছা অনুযায়ী তারা মেক্সিকো উপসাগরকে ‘আমেরিকা উপসাগর’ নামে অভিহিত করবে না। এরপরই তাদের সাংবাদিকদের বৈঠকে ঢুকতে না দেওয়ার ঘটনা ঘটে।
ক্যারোলিন লেভিট জানান, পাঁচটি প্রধান টেলিভিশন নেটওয়ার্ক রোটেশন পদ্ধতিতে বৈঠক কভার করবে। পাশাপাশি হোয়াইট হাউজ নিজস্ব সম্প্রচার শুরু করতে পারে। পত্রিকা ও রেডিও সাংবাদিকদের রোস্টার পদ্ধতিতে জায়গা দেওয়া হবে, তবে নতুন সংবাদমাধ্যমের জন্যও সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।
এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে ট্রাম্প প্রশাসনের গণমাধ্যম নীতির সমালোচনা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা। হোয়াইট হাউজের এই নতুন কৌশল প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বিরোধপূর্ণ সম্পর্ক থাকা গণমাধ্যমগুলোর জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স