বৃহস্পতিবার (৬ মার্চ) বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজীর হাইকোর্ট বেঞ্চ রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা নির্দেশিকা সম্পর্কিত একটি আদেশ প্রদান করেছেন। আদালত একইসঙ্গে গত ২ মার্চ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা নির্দেশিকার কার্যক্রম তিন মাসের জন্য স্থগিত করেছে এবং রুল জারি করেছে।
হাইকোর্ট মন্তব্য করেছে যে, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা নির্দেশিকায় প্রধান বিচারপতিসহ বিচার বিভাগকে হেয় ও অসম্মান করা হয়েছে। আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির ২ মার্চ আদালতে এই নির্দেশিকা উপস্থাপন করেন এবং বলেন যে, এই নির্দেশিকায় প্রধান বিচারপতিসহ সব বিচারপতিদের আন্ডারলাইন করা হয়েছে এবং প্রধান বিচারপতিকে স্বরাষ্ট্র সচিব, রেঞ্জ ডিআইজির সমমর্যাদায় নিচে আনা হয়েছে, অথচ রাষ্ট্রীয় পদ মর্যাদাক্রমে প্রধান বিচারপতির স্থান অনেক উপরে। শুনানি শেষে আদালত রুলসহ আদেশ প্রদান করেন।
এছাড়া, ২৭ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের পদমর্যাদাক্রম নিয়ে আপিল বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ শুনানির জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিব সময় আবেদন করেছিলেন। তবে ওইদিন শুনানি হয়নি। ওইদিন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলরা তাদের পদমর্যাদা বাড়ানোর আবেদন করেন, যার শুনানিও একই দিনে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন ২০০৬ সালে হাইকোর্টে রিট দায়ের করে, যেখানে তারা ওয়্যারেন্ট অব প্রিসিডেন্সের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করেন। ২০১০ সালে হাইকোর্ট রায় দেয় যে, ১৯৮৬ সালের ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স (সংশোধিত) অবৈধ ও বাতিল। তবে ২০১৫ সালের ১১ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ সেই রায়ের কিছু অংশ সংশোধন করে তিন দফা নির্দেশনা প্রদান করে।