ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ , ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ধর্ম নয়, নাগরিক হিসেবে সবার অধিকার নিশ্চিত করা আমার দায়িত্ব: প্রধানমন্ত্রী ঢাকা থেকে সৌদিগামী ৫১ ফ্লাইট বাতিল, ভোগান্তিতে ৫৪১৮ যাত্রী দিল্লির পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশ কোনো মন্তব্য করতে রা‌জি নয়: শামা ওবায়েদ গ্রামীন কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে অর্থনীতিতে নোবেল পেলেন রবার্ট হল ও মাইকেল উডওয়ার্ড রোহিঙ্গাদের দীর্ঘ অবস্থানে অর্থনীতি ও পরিবেশে চাপ বাড়ছে: প্রধানমন্ত্রী নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্বোধন সারাদেশে দুইদিন এলপিজি বিক্রি বন্ধ ঘোষণা ২১ জানুয়ারি থেকে ইউপি নির্বাচন শুরু ২১ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদের সব ফ্লাইট বাতিল করল ইউএস-বাংলা কন্যাশিশু কোনো বোঝা নয়, অফুরন্ত সম্ভাবনার উৎস: রাষ্ট্রপতি জনগণের অর্থের প্রতিটি পয়সা দেশের স্বার্থে ব্যয় করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী ডেঙ্গুতে মৃত্যু ৩০০ ছাড়াল, আক্রান্ত লাখ ছুঁইছুঁই রূপপুরে প্রথমবারের মতো সফল পারমাণবিক বিক্রিয়া রাষ্ট্রীয় খরচে দেশে আনা হবে রিয়াদে নিহতদের লাশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় ২ বাংলাদে‌শি নিহত, আইসিইউতে ৪ ন্যাশনাল ব্যাংকে আবেদন শুরু, টাকা তোলা যাবে ১৫ অক্টোবর থেকে নভেম্বরের শেষের দিকে রূপপুরের প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু সৌদি আরবে বিমানবন্দরে হামলা, বাতিল ঢাকার ৯ ফ্লাইট সৌদির বিমানবন্দরে হামলায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যু, তীব্র প্রতিবাদ জানাল ঢাকা

মানবদেহ মহাকাশ ভ্রমণের উপযোগী নয়

  • আপলোড সময় : ১৭-০৩-২০২৫ ০৪:৫৬:৩৬ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৭-০৩-২০২৫ ০৪:৫৬:৩৬ অপরাহ্ন
মানবদেহ মহাকাশ ভ্রমণের উপযোগী নয়
মানবদেহ মহাকাশ ভ্রমণের উপযোগী নয়। দীর্ঘদিন মহাকাশে অবস্থান করলে নভোচারীদের হাড় ও পেশির ক্ষয় ছাড়াও দৃষ্টিশক্তি, রক্তচাপ, কিডনি ও হার্টসহ নানা শারীরিক এবং মানসিক জটিলতা দেখা দেয়। পৃথিবীর সীমানার বাইরে নানা শরীরবৃত্তীয় পরিবর্তনে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েন মহাকাশচারীরা। তাদের স্বাস্থ্যগত বিষয় নিয়ে বিভিন্ন গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

পৃথিবী থেকে প্রায় ২৫০ মাইল ওপরের কক্ষপথে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন বা গবেষণা কেন্দ্র অবস্থিত। নাসা ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা ২৪ বছরেরও বেশি সময় ধরে সেখানে গবেষণা চালাচ্ছেন। যা আসলে পৃথিবীতে বসে সম্ভব নয়। একটা লম্বা সময় সেখানে অবস্থানের কারণে শরীরে নানা ধরনের পরিবর্তন ঘটে।

মানবদেহের গঠন ওজনহীনতা মহাকাশের পরিবেশের জন্য উপযুক্ত না। মাইক্রোগ্র্যাভিটি বা কম মাধ্যাকর্ষণ শক্তি, উচ্চ মাত্রার বিকিরণ, অভিযোজন, প্রাকৃতিক ও সামাজিক পরিবেশের বাইরে থাকার কারণে নানা শারীরিক জটিলতা দেখা দেয়। এছাড়া, রক্তচাপ, কানের ও শরীরের ভারসাম্য এবং সমন্বয়ের সমস্যা, মানসিক চাপ, ঘুমের ব্যাঘাত, মেজাজ খিটখিটে হওয়ার মতো নানা জটিলতায় ভোগেন নভোচারীরা।

দীর্ঘ সময় মহাকাশে অবস্থান করলে নভোচারীর হাড়ের ঘনত্ব কমে যায়, দুর্বল হয়ে পড়ে পেশি। শরীরের তরল প্রবাহের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াও ব্যাহত হয়। চোখের সমস্যার সঙ্গে শরীরের কোষ ও টিস্যুতে ঘটে পরিবর্তন। মহাবিশ্বে উচ্চ-শক্তির বিকিরণের সংস্পর্শে বাড়ে ক্যান্সারের ঝুঁকি। এছাড়া, ডিএনএ, মস্তিষ্ক, হার্টের সমস্যার সঙ্গে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কমতে থাকে নভোচারীদের।

বেশিরভাগ শারীরিক সমস্যা আস্তে আস্তে ঠিক হলেও কিছু জটিলতা রয়ে যায়। পৃথিবীতে ফিরে আসার পর তাদের স্বাস্থ্যগত সমস্যা নিয়ে এখন গবেষণা চালাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। মাহাকাশচারীদের শারীরিক ও মানসিক জটিলতা দূর করতে নানা পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে বলে জানান এই সার্জন।

লিড ফ্লাইট সার্জন ড. স্টিভ্যান গিলমোর বলেন, ‘কোনো মিশনে যাওয়ার আগে নভোচারীদের আইকিউ টেস্ট নেয়া হয়। কারণ তারা ফিরে আসার পর কী প্রতিক্রিয়া দেখায় তা পরীক্ষা করা হয়। তারা এ সময়ের পরিবর্তনগুলো পরিমাপ করতে পারে কিনা তা বুঝা যায়। গেল প্রায় ২৪ বছর যাবত নভোচারীদের নিয়ে কাজ করছি। একেকটি মিশন কখনও এক বছরেরও বেশি সময় স্থায়ী হয়। তখন তাদের জীবনের নিত্যদিনের ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোও নিয়মিত তাদের জানানো হয়।’

পৃথিবীতে ফিরে আসার পর নভোচারীদের শারীরিক অবস্থা মূলত মিশনের সময়কালের ওপর নির্ভর করে। স্বল্পমেয়াদি মিশনে ৯৫ শতাংশই ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। তবে কয়েক মাস বা বছর কাটানোর ক্ষেত্রে কিছু মহাকাশচারী দীর্ঘস্থায়ী প্রতিবন্ধকতায় পড়েন।

লিড ফ্লাইট সার্জন ড. স্টিভ্যান গিলমোর বলেন, ‘শরীরের বেশিরভাগ সিস্টেমই ৪৫ দিনের মধ্যে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। তবে হাড় ও ক্যালসিয়াম পূরণে একটু বেশি সময় নেয় এবং অনেক সময় তা পুনরুদ্ধার হয় না। মহাকাশে থাকাকালীন হারানো ক্যালসিয়াম ফিরে পেতে এক বছরেরও বেশি সময় লাগতে পারে।’

নভোচারীদের মস্তিষ্ক, হৃৎপিণ্ড, পেশি, কিডনি, ত্বকের পরিবর্তন, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ ও রক্তচাপ নিয়ে সম্প্রতি বেশকিছু গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে। যেখানে দেখা যায়, যারা গড়ে প্রায় সাড়ে ৫ মাস মহাকাশে ছিলেন পৃথিবীতে ফিরে আসার এক বছর পর তাদের হাড়ের ক্ষয় বেড়েছে গড়ে ২ দশমিক ১ শতাংশ। হাড়ের শক্তি কমেছে ১ দশমিক ৩ শতাংশ। যা পরে আর পুনরুদ্ধার হয়নি। ২০২৪ সালে ২৬ সপ্তাহ মহাকাশে থাকা নভোচারীদের ৯০ শতাংশই মাথাব্যথার কথা জানিয়েছেন।

মহাকাশযান কীভাবে মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে তা নিয়ে এখনো অনেক তথ্য অজানা। দীর্ঘসময় ধরে মহাকাশ ভ্রমণ, নভোচারীদের ফুসফুসের কার্যকারিতাকে কীভাবে প্রভাবিত করে সে সম্পর্কে তথ্য খুব কম। এছাড়াও, প্রজনন ক্ষমতার ওপর সীমিত গবেষণাও পরিচালিত হয়েছে।

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ধর্ম নয়, নাগরিক হিসেবে সবার অধিকার নিশ্চিত করা আমার দায়িত্ব: প্রধানমন্ত্রী

ধর্ম নয়, নাগরিক হিসেবে সবার অধিকার নিশ্চিত করা আমার দায়িত্ব: প্রধানমন্ত্রী