ঢাকা , শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬ , ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিমানের দাম্মাম ও রিয়াদগামী সব ফ্লাইট ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত উন্মুক্ত হলো মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার, কর্মী নিয়োগের ঘোষণা পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ই-পার্লামেন্ট বিষয়ক প্রকল্প বাস্তবায়নে ১০ সদস্যের কমিটি কৃষিকে লাভজনক খাতে পরিণত করতে হবে: রাষ্ট্রপতি বিমানবন্দর-কমলাপুর মেট্রোরেলের প্যাকেজ-৩-এর ইউটিলিটি স্থানান্তর শুরু এ মাসেই স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী উত্তরায় ফের পোশাকশ্রমিকদের সড়ক অবরোধ, যান চলাচল বন্ধ ব্যক্তিগত উদ্যোগে দেশের জন্য কাজ করা মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ: প্রধানমন্ত্রী অপারেশন ক্লিন হার্টের মতো কোনো বিশেষ কিছু করার পরিকল্পনা নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গাজীপুরে ওষুধ কারাখানার আগুন নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়ছে, আরও সহায়তা আসা উচিত: অর্থমন্ত্রী দুর্গাপূজায় ৫ ট্রেনের সাপ্তাহিক বন্ধ বাতিল নিরাপদ খাদ্য পরীক্ষার ভ্রাম্যমাণ ল্যাব পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী টঙ্গীতে ওষুধ কারখানায় ভয়াবহ আগুন, নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ১২ ইউনিট ডেঙ্গুতে আরও ৯ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৯৫৪ স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে কোনো কলঙ্ক নিতে চায় না সরকার: প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম বাংলাদেশের অর্থনৈতিক নীতির সাথে একমত বিশ্বব্যাংক: অর্থমন্ত্রী নিউইয়র্কে ড. ইউনূসকে হেনস্তা, ব্যবস্থা নেবে সরকার: তথ্য উপদেষ্টা নিউইয়র্ক বিমানবন্দরে হেনস্তার শিকার ড. ইউনূস

মানবদেহ মহাকাশ ভ্রমণের উপযোগী নয়

  • আপলোড সময় : ১৭-০৩-২০২৫ ০৪:৫৬:৩৬ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৭-০৩-২০২৫ ০৪:৫৬:৩৬ অপরাহ্ন
মানবদেহ মহাকাশ ভ্রমণের উপযোগী নয়
মানবদেহ মহাকাশ ভ্রমণের উপযোগী নয়। দীর্ঘদিন মহাকাশে অবস্থান করলে নভোচারীদের হাড় ও পেশির ক্ষয় ছাড়াও দৃষ্টিশক্তি, রক্তচাপ, কিডনি ও হার্টসহ নানা শারীরিক এবং মানসিক জটিলতা দেখা দেয়। পৃথিবীর সীমানার বাইরে নানা শরীরবৃত্তীয় পরিবর্তনে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েন মহাকাশচারীরা। তাদের স্বাস্থ্যগত বিষয় নিয়ে বিভিন্ন গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

পৃথিবী থেকে প্রায় ২৫০ মাইল ওপরের কক্ষপথে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন বা গবেষণা কেন্দ্র অবস্থিত। নাসা ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা ২৪ বছরেরও বেশি সময় ধরে সেখানে গবেষণা চালাচ্ছেন। যা আসলে পৃথিবীতে বসে সম্ভব নয়। একটা লম্বা সময় সেখানে অবস্থানের কারণে শরীরে নানা ধরনের পরিবর্তন ঘটে।

মানবদেহের গঠন ওজনহীনতা মহাকাশের পরিবেশের জন্য উপযুক্ত না। মাইক্রোগ্র্যাভিটি বা কম মাধ্যাকর্ষণ শক্তি, উচ্চ মাত্রার বিকিরণ, অভিযোজন, প্রাকৃতিক ও সামাজিক পরিবেশের বাইরে থাকার কারণে নানা শারীরিক জটিলতা দেখা দেয়। এছাড়া, রক্তচাপ, কানের ও শরীরের ভারসাম্য এবং সমন্বয়ের সমস্যা, মানসিক চাপ, ঘুমের ব্যাঘাত, মেজাজ খিটখিটে হওয়ার মতো নানা জটিলতায় ভোগেন নভোচারীরা।

দীর্ঘ সময় মহাকাশে অবস্থান করলে নভোচারীর হাড়ের ঘনত্ব কমে যায়, দুর্বল হয়ে পড়ে পেশি। শরীরের তরল প্রবাহের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াও ব্যাহত হয়। চোখের সমস্যার সঙ্গে শরীরের কোষ ও টিস্যুতে ঘটে পরিবর্তন। মহাবিশ্বে উচ্চ-শক্তির বিকিরণের সংস্পর্শে বাড়ে ক্যান্সারের ঝুঁকি। এছাড়া, ডিএনএ, মস্তিষ্ক, হার্টের সমস্যার সঙ্গে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কমতে থাকে নভোচারীদের।

বেশিরভাগ শারীরিক সমস্যা আস্তে আস্তে ঠিক হলেও কিছু জটিলতা রয়ে যায়। পৃথিবীতে ফিরে আসার পর তাদের স্বাস্থ্যগত সমস্যা নিয়ে এখন গবেষণা চালাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। মাহাকাশচারীদের শারীরিক ও মানসিক জটিলতা দূর করতে নানা পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে বলে জানান এই সার্জন।

লিড ফ্লাইট সার্জন ড. স্টিভ্যান গিলমোর বলেন, ‘কোনো মিশনে যাওয়ার আগে নভোচারীদের আইকিউ টেস্ট নেয়া হয়। কারণ তারা ফিরে আসার পর কী প্রতিক্রিয়া দেখায় তা পরীক্ষা করা হয়। তারা এ সময়ের পরিবর্তনগুলো পরিমাপ করতে পারে কিনা তা বুঝা যায়। গেল প্রায় ২৪ বছর যাবত নভোচারীদের নিয়ে কাজ করছি। একেকটি মিশন কখনও এক বছরেরও বেশি সময় স্থায়ী হয়। তখন তাদের জীবনের নিত্যদিনের ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোও নিয়মিত তাদের জানানো হয়।’

পৃথিবীতে ফিরে আসার পর নভোচারীদের শারীরিক অবস্থা মূলত মিশনের সময়কালের ওপর নির্ভর করে। স্বল্পমেয়াদি মিশনে ৯৫ শতাংশই ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। তবে কয়েক মাস বা বছর কাটানোর ক্ষেত্রে কিছু মহাকাশচারী দীর্ঘস্থায়ী প্রতিবন্ধকতায় পড়েন।

লিড ফ্লাইট সার্জন ড. স্টিভ্যান গিলমোর বলেন, ‘শরীরের বেশিরভাগ সিস্টেমই ৪৫ দিনের মধ্যে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। তবে হাড় ও ক্যালসিয়াম পূরণে একটু বেশি সময় নেয় এবং অনেক সময় তা পুনরুদ্ধার হয় না। মহাকাশে থাকাকালীন হারানো ক্যালসিয়াম ফিরে পেতে এক বছরেরও বেশি সময় লাগতে পারে।’

নভোচারীদের মস্তিষ্ক, হৃৎপিণ্ড, পেশি, কিডনি, ত্বকের পরিবর্তন, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ ও রক্তচাপ নিয়ে সম্প্রতি বেশকিছু গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে। যেখানে দেখা যায়, যারা গড়ে প্রায় সাড়ে ৫ মাস মহাকাশে ছিলেন পৃথিবীতে ফিরে আসার এক বছর পর তাদের হাড়ের ক্ষয় বেড়েছে গড়ে ২ দশমিক ১ শতাংশ। হাড়ের শক্তি কমেছে ১ দশমিক ৩ শতাংশ। যা পরে আর পুনরুদ্ধার হয়নি। ২০২৪ সালে ২৬ সপ্তাহ মহাকাশে থাকা নভোচারীদের ৯০ শতাংশই মাথাব্যথার কথা জানিয়েছেন।

মহাকাশযান কীভাবে মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে তা নিয়ে এখনো অনেক তথ্য অজানা। দীর্ঘসময় ধরে মহাকাশ ভ্রমণ, নভোচারীদের ফুসফুসের কার্যকারিতাকে কীভাবে প্রভাবিত করে সে সম্পর্কে তথ্য খুব কম। এছাড়াও, প্রজনন ক্ষমতার ওপর সীমিত গবেষণাও পরিচালিত হয়েছে।

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
 আগামীর বাংলাদেশ গড়ার প্রশ্নে সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে: মানসুরা

 আগামীর বাংলাদেশ গড়ার প্রশ্নে সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে: মানসুরা