ঢাকা , শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬ , ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গাজীপুরে ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালসের কারখানায় আগুন কুড়িগ্রামে ট্রাকচাপায় ইজিবাইকের ৫ যাত্রী নিহত উত্তরায় শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষে আহত অর্ধশতাধিক কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুনে নিহত ১০, ছয় জনই একই পরিবারের শিশু হাসপাতালে চিকিৎসকের কক্ষে ধূমপান, বরখাস্তের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ডেঙ্গু প্রতিরোধে তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর কক্সবাজারে মেরিনড্রাইভে টুপটুপ রিসোর্টে আগুন, নিহত ৬ বিমানের দাম্মাম ও রিয়াদগামী সব ফ্লাইট ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত উন্মুক্ত হলো মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার, কর্মী নিয়োগের ঘোষণা পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ই-পার্লামেন্ট বিষয়ক প্রকল্প বাস্তবায়নে ১০ সদস্যের কমিটি কৃষিকে লাভজনক খাতে পরিণত করতে হবে: রাষ্ট্রপতি বিমানবন্দর-কমলাপুর মেট্রোরেলের প্যাকেজ-৩-এর ইউটিলিটি স্থানান্তর শুরু এ মাসেই স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী উত্তরায় ফের পোশাকশ্রমিকদের সড়ক অবরোধ, যান চলাচল বন্ধ ব্যক্তিগত উদ্যোগে দেশের জন্য কাজ করা মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ: প্রধানমন্ত্রী অপারেশন ক্লিন হার্টের মতো কোনো বিশেষ কিছু করার পরিকল্পনা নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গাজীপুরে ওষুধ কারাখানার আগুন নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়ছে, আরও সহায়তা আসা উচিত: অর্থমন্ত্রী দুর্গাপূজায় ৫ ট্রেনের সাপ্তাহিক বন্ধ বাতিল

সগৌরবে দাঁড়িয়ে আছে ৪০০ বছরের পুরোনো মসজিদ

  • আপলোড সময় : ২১-০৩-২০২৫ ১০:৫৭:১৫ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২১-০৩-২০২৫ ১০:৫৭:১৫ পূর্বাহ্ন
সগৌরবে দাঁড়িয়ে আছে ৪০০ বছরের পুরোনো মসজিদ
১৬৪৮ সালে বরিশালের উপকূল অঞ্চলে মগ ও পর্তুগিজ জলদস্যুদের উৎপাত বেড়ে গেলে মোঘল সম্রাট শাহজাহান তার পুত্র শাহজাদা সুজাকে এই অঞ্চলে সুবেদার করে পাঠান। জলদস্যু তাড়াতে ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলার মধ্য দিয়ে পূর্ব-পশ্চিমে প্রবাহিত সুগন্ধা নদীর দক্ষিণ তীরে একটি জামে মসজিদ নির্মাণ করেন। মসজিদটি নলছিটি পৌর এলাকার মল্লিকপুরে অবস্থিত। নদীর অপরপ্রান্তে তৈরি করেন কেল্লা।

১৬৫৪ সালে নির্মিত সুজাবাদের কেল্লার নামকরণ করা হয়েছে শাহজাদা সুজার নামে। বর্তমানে ওই গ্রামটির নামও সুজাবাদ। ৪০০ বছর আগে নির্মিত জামে মসজিদটিতে আজও নামাজ আদায় করছেন স্থানীয় মুসল্লিরা। ঝালকাঠির নলছিটি পৌর শহরের নলছিটি-বরিশাল সড়ক সংলগ্ন এই মসজিদটি এখন মল্লিকপুর জামে মসজিদ নামে পরিচিত। এটি প্রাচীন মুঘল স্থাপত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। এক গম্বুজ বিশিষ্ট এই মসজিদটির উচ্চতা ৩০ফুট এবং এর গায়ে নির্মাণকাল ১৬৪৮ খ্রিষ্টাব্দ লেখা রয়েছে।




মসজিদটির দেয়ালগুলো ৩২ইঞ্চি পুরু এবং নির্মাণে ব্যবহৃত হয়েছে চুন-সুরকি। আগে মসজিদে একসাথে ৩০-৩৫ জন মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারতেন। তবে এখন স্থানীয়দের সহায়তায় মসজিদের তিন পাশে আলাদা বারান্দা নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে প্রায় শতাধিক মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারেন।


স্থানীয়রা জানান, মোঘল সম্রাট শাহজাহানের শাসনামলে দক্ষিণাঞ্চলে নৌপথে জলদস্যুদের উৎপাত বেড়ে যায়। পর্তুগীজ এবং মগ জলদস্যুদের বিতাড়িত করতে ঝালকাঠির মগড় এলাকায় আসেন শাহজাদা সুজা। তিনি মসজিদে অবস্থান নিয়ে সুগন্ধা নদীর উত্তর পাড়ে মাটির নিচে একটি দুর্গ গড়ে তোলেন। এরপর সৈন্যবাহিনী ও স্থানীয়দের সহায়তায় জলদস্যুদের বিতাড়িত করতে সক্ষম হন।




স্থানীয়দের অনুরোধে নদীর অপর পাড়ে নির্মিত দৃষ্টিনন্দন মসজিদ, যা মোঘল আমলের এক অসাধারণ নির্মাণশৈলী হিসেবে আজও টিকে আছে। মসজিদটি মোঘল শাহ সুজার মসজিদ নামেও পরিচিত। তবে দীর্ঘ বছর ধরে সংস্কারের অভাবে এর নান্দনিকতার জৌলুস কিছুটা কমে গেছে। এলাকার জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় মসজিদে একসঙ্গে সবার নামাজ আদায়ের জন্য জায়গার সংকুলান হয় না।

মুসুল্লি কামরুজ্জামান সুমন বলেন, ‘এই প্রাচীন নিদর্শনটির রক্ষণাবেক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি কয়েক শতাব্দী পুরোনো মোঘল নির্মাণশৈলীর একটি অসাধারণ উদাহরণ। তবে যদি সংস্কার না করা হয়, তাহলে হয়ত এটি আর বেশি দিন টিকবে না।’

মসজিদ কমিটির সভাপতি মো. হাবিবুর রহমান মল্লিক বলেন, ‘নদী ভাঙনের কারণে মগড় ইউনিয়নে অবস্থিত সুজাবাদ কেল্লার অস্তিত্ব বিলীন হয়ে গেলেও, নির্মিত এই মসজিদটি এখনও আমাদের ঐতিহ্য ও গৌরব বহন করে টিকে আছে। আমাদের পূর্বপুরুষরা এখানে নামাজ পড়তেন, সেই সময় এলাকার মসজিদের সংখ্যা ছিল অনেক কম। কিন্তু এই মসজিদটি সংরক্ষণের অভাবে হারিয়ে যেতে বসেছে এবং এটি রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। এই মসজিদটি মোঘল আমলের ঐতিহ্য ও স্থাপত্যশিল্পের এক উজ্জ্বল নিদর্শন হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে, যা সময়ের সঙ্গে নিজের মাহাত্ম্য ও গুরুত্ব হারায়নি।’


নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাচীন নিদর্শনগুলো রক্ষণাবেক্ষণ করার দায়িত্ব বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের। আমরা তাদের বিষয়টি জানিয়েছি এবং উপজেলা প্রশাসন থেকেও রক্ষণাবেক্ষণে সহায়তা করা হবে।’

কমেন্ট বক্স
প্রতিবেদকের তথ্য

সর্বশেষ সংবাদ
ডিওএইচএস পূজা মণ্ডপ পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার

ডিওএইচএস পূজা মণ্ডপ পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার