ঢাকা , শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫ , ২১ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সদরঘাটে ঢাকামুখী মানুষের ঢল যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনার মাধ্যমে শুল্ক ইস্যুর ইতিবাচক সমাধান হবে: প্রধান উপদেষ্টা কৃষকের হাত-পা বেঁধে ১১ গরু লুটে নিল ডাকাতদল তিন মাসে ১৪ বার বেড়েছে সোনার দাম ‘যা ঘটেছে তা একদমই মনে রাখবেন না’, কটূক্তি প্রসঙ্গে শাকিব খানকে আফরান নিশো জুলাই-আগস্টের বিচার বানচালে অর্থ বিনিয়োগের প্রমাণ মিলেছে: চিফ প্রসিকিউটর ভারতকে রুখে দিয়ে ফিফা থেকে সুখবর পেলো বাংলাদেশ ইলন মাস্ক কী সত্যি ট্রাম্প প্রশাসন থেকে বিদায় নিচ্ছেন? সিয়াম-বুবলীর ‘জংলি’ দেখে দর্শকরা কাঁদছেন বিকেলে বিমসটেক সম্মেলনে মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন ড. ইউনূস মার্কিন বিমানবাহী রণতরীতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হুতির! চাকরির পেছনে না ঘুরে তরুণদের উদ্যোক্তা হওয়ার আহ্বান ড. ইউনূসের এসএসসি পরীক্ষা পেছানোর কোনো সুযোগ নেই : শিক্ষাবোর্ড বিশ্বকে পরিবর্তনে আগে নিজের গ্রাম থেকে শুরুর পরামর্শ প্রধান উপদেষ্টার হুমকি-ধামকি দিলেও রাশিয়ার ওপর শুল্ক চাপাননি ট্রাম্প! রাজনীতি থেকে অবসর নিচ্ছেন মোদি, শিবসেনার দাবি ব্যাঙ্ককে পৌঁছলেন প্রধান উপদেষ্টা ভারতে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত, পাইলট নিহত ঢাকার বাতাস আজও ‘অস্বাস্থ্যকর’ মার্কিন পণ্যে শুল্ক বাড়ানোর প্রতিক্রিয়ায় যা বললেন প্রেস সচিব

মুহূর্তেই ধসে পড়ে তিন মসজিদ, মারা যান জুমাতুল বিদায় আসা শত শত মুসল্লি

  • আপলোড সময় : ০২-০৪-২০২৫ ০১:০৭:৪১ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০২-০৪-২০২৫ ০১:০৭:৪১ অপরাহ্ন
মুহূর্তেই ধসে পড়ে তিন মসজিদ, মারা যান জুমাতুল বিদায় আসা শত শত মুসল্লি
গত শুক্রবার রমজানের শেষ জুমার নামাজের জন্য মিয়ানমারের সাগাইং শহরের শত শত মুসল্লি মসজিদে জড়ো হয়েছিলেন। ঈদের আনন্দের আগে এটাই ছিল তাদের শেষ জুমা। কিন্তু দুপুর ১২টা ৫১ মিনিটে (স্থানীয় সময়) এক শক্তিশালী ভূমিকম্প পুরো এলাকা কাঁপিয়ে তোলে। মুহূর্তের মধ্যেই তিনটি মসজিদ ধসে পড়ে, যার মধ্যে সবচেয়ে বড় মসজিদ মিয়োমা পুরোপুরি ভেঙে যায়। মসজিদের ভেতরে যারা ছিলেন, তাদের প্রায় সবাই মারা যান।

ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৭০০ জনের বেশি মানুষ মারা গেছেন। তবে উদ্ধারকাজ চলার কারণে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।সাগাইংয়ের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ছিল মিয়োমা স্ট্রিট, যেখানে একাধিক মসজিদ অবস্থিত। দেশটির সেনা প্রধান মিন অং হ্লাইং জানিয়েছেন, শুধু মসজিদের ভেতরেই প্রায় ৫০০ জন মুসল্লি মারা গেছেন।ধ্বংসস্তূপ থেকে এখনো মৃতদেহ উদ্ধার করা হচ্ছে। অনেকেই রাস্তায় আশ্রয় নিয়েছেন, কারণ তাদের বাড়িঘর ধসে পড়েছে বা নতুন কোনো ভূমিকম্পের আশঙ্কায় তারা বাড়ি ফিরতে পারছেন না।



মিয়োমা মসজিদের সাবেক ইমাম সো নে উ এখন থাইল্যান্ডের মায় সোত শহরে বসবাস করেন। ভূমিকম্পের সময় তিনি সেখানেই ছিলেন। কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই তিনি জানতে পারেন তার পরিবার, বন্ধু ও সাবেক মসজিদের প্রায় ১৭০ জন মানুষ মারা গেছেন।‘আমি যখন তাদের কথা ভাবি, বিশেষ করে ছোট ছোট বাচ্চাদের কথা, তখন আমি কান্না থামাতে পারি না,’ বললেন তিনি। তার স্ত্রী’র প্রিয় এক আত্মীয় মারা গেছেন। তার কথায়, ‘এটি আমার জীবনের সবচেয়ে বেদনাদায়ক মুহূর্ত।’ 



মৃতদেহ দাফন করাও একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাগাইংয়ের মুসলিম কবরস্থান কয়েক বছর ধরে বন্ধ রয়েছে, কারণ এটি প্রতিরোধ বাহিনীর (PDF) নিয়ন্ত্রিত এলাকার পাশে অবস্থিত। এই কারণে মৃতদেহগুলো মাণ্ডালয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, যা ইরাওয়াদি নদীর ওপারে অবস্থিত। অনেকে ইসলামী রীতি অনুযায়ী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রিয়জনদের দাফন করতেও পারছেন না।সো নে উ বলেন, ‘একজন মুসলিমের জন্য সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, নিজের পরিবারের সদস্যদের নিজ হাতে দাফন করতে না পারা।’ 



ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হাজারেরও বেশি মুসলিম পরিবার এখন সহায়তার জন্য অপেক্ষা করছে। অনেকে রাস্তায় রাত কাটাচ্ছেন, খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে দিন পার করছেন।সো নে উ বর্তমানে থাইল্যান্ড থেকে উদ্ধার ও সহায়তার কাজ সমন্বয় করছেন। কিন্তু তিনি নিজে সেখানে থাকতে না পারার কষ্ট অনুভব করছেন।‘যদি আমি এখনো ইমাম থাকতাম, তাহলে আমি হয়তো তাদের সঙ্গে মারা যেতাম—তা হলে অন্তত শান্তি পেতাম। কিন্তু এখন আমি কিছুই করতে পারছি না। এটা অসহ্য কষ্টের।’ এ কথা বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন সো নে উ। ‘আমি জীবনে কখনো এতটা ভেঙে পড়িনি। আমি সাধারণত খুব কঠিন মানুষ, কিন্তু এখন আর ঘুমাতেও পারছি না।’ভবিষ্যতে কী হবে, তা কেউ জানে না। কিন্তু যারা বেঁচে আছেন, তারা এখনো শোকের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন, অপেক্ষা করছেন আরও সাহায্যের জন্য।

সূত্র: বিবিসি

কমেন্ট বক্স
সদরঘাটে ঢাকামুখী মানুষের ঢল

সদরঘাটে ঢাকামুখী মানুষের ঢল