ঢাকা , সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬ , ৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গুলশানে বার ড্যান্সারের মরদেহ উদ্ধার শিক্ষিত তরুণদের ওপর সমাজ পরিবর্তনের দায়িত্ব বেশি -মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা জামায়াত আমিরের সঙ্গে সিঙ্গাপুর হাইকমিশনের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সের বৈঠক কিছুদিন দেরি করে হলেও সুষ্ঠু নির্বাচন আমাদের প্রায়োরিটি: আসিফ মাহমুদ বিয়ে করলেই ১৬ লাখ টাকা উপহার, সন্তান হলে মিলবে ৩২ লাখ ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচার চালানো রাষ্ট্রের দায়িত্ব : স্বাস্থ্য উপদেষ্টা সিরিয়া থেকে ছাগল চুরি করল ইসরায়েলি সেনারা কেরানীগঞ্জে মা-মেয়েকে হত্যার পর ২১ দিন লাশের সঙ্গে বসবাস ঝাড়খণ্ডে বাংলাদেশি সন্দেহে শ্রমিক হত্যা, বিক্ষোভ মুর্শিদাবাদে বিয়ে করছেন ধানুশ-ম্রুণাল! ২৬৮ আসনে এককভাবে লড়বে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কুমিল্লায় গুলি করে দুজনকে হত্যা প্রেমিকার জন্মদিনে ২৬ কিলোমিটার দৌড়ালেন প্রেমিক ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীকে নিয়ে পলাতক প্রধান শিক্ষক, মাদরাসায় আগুন ভাইরাল শহীদ ওসমান হাদির স্ত্রীর ফেসবুক পোস্ট চুরির দায়ে পুকুরে ২০ ডুব চোরের, শাস্তির পর মানবিকতাও দেখাল বরিশালবাসী হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে রান্না, তদন্তে যা জানা গেলো মঈনুল রোডের সেই বাড়িটিই খালেদা জিয়ার শেষ স্থায়ী ঠিকানা আন্দোলনে ‘আহতদের খোঁজ মেলেনি’, শেখ হাসিনাসহ ১১৩ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ উচ্ছ্বাস নিয়ে জীবনের প্রথমবার স্কুলে জুনায়েদ, বাড়ি ফিরলো নিথর দেহে

মুহূর্তেই ধসে পড়ে তিন মসজিদ, মারা যান জুমাতুল বিদায় আসা শত শত মুসল্লি

  • আপলোড সময় : ০২-০৪-২০২৫ ০১:০৭:৪১ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০২-০৪-২০২৫ ০১:০৭:৪১ অপরাহ্ন
মুহূর্তেই ধসে পড়ে তিন মসজিদ, মারা যান জুমাতুল বিদায় আসা শত শত মুসল্লি
গত শুক্রবার রমজানের শেষ জুমার নামাজের জন্য মিয়ানমারের সাগাইং শহরের শত শত মুসল্লি মসজিদে জড়ো হয়েছিলেন। ঈদের আনন্দের আগে এটাই ছিল তাদের শেষ জুমা। কিন্তু দুপুর ১২টা ৫১ মিনিটে (স্থানীয় সময়) এক শক্তিশালী ভূমিকম্প পুরো এলাকা কাঁপিয়ে তোলে। মুহূর্তের মধ্যেই তিনটি মসজিদ ধসে পড়ে, যার মধ্যে সবচেয়ে বড় মসজিদ মিয়োমা পুরোপুরি ভেঙে যায়। মসজিদের ভেতরে যারা ছিলেন, তাদের প্রায় সবাই মারা যান।

ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৭০০ জনের বেশি মানুষ মারা গেছেন। তবে উদ্ধারকাজ চলার কারণে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।সাগাইংয়ের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ছিল মিয়োমা স্ট্রিট, যেখানে একাধিক মসজিদ অবস্থিত। দেশটির সেনা প্রধান মিন অং হ্লাইং জানিয়েছেন, শুধু মসজিদের ভেতরেই প্রায় ৫০০ জন মুসল্লি মারা গেছেন।ধ্বংসস্তূপ থেকে এখনো মৃতদেহ উদ্ধার করা হচ্ছে। অনেকেই রাস্তায় আশ্রয় নিয়েছেন, কারণ তাদের বাড়িঘর ধসে পড়েছে বা নতুন কোনো ভূমিকম্পের আশঙ্কায় তারা বাড়ি ফিরতে পারছেন না।



মিয়োমা মসজিদের সাবেক ইমাম সো নে উ এখন থাইল্যান্ডের মায় সোত শহরে বসবাস করেন। ভূমিকম্পের সময় তিনি সেখানেই ছিলেন। কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই তিনি জানতে পারেন তার পরিবার, বন্ধু ও সাবেক মসজিদের প্রায় ১৭০ জন মানুষ মারা গেছেন।‘আমি যখন তাদের কথা ভাবি, বিশেষ করে ছোট ছোট বাচ্চাদের কথা, তখন আমি কান্না থামাতে পারি না,’ বললেন তিনি। তার স্ত্রী’র প্রিয় এক আত্মীয় মারা গেছেন। তার কথায়, ‘এটি আমার জীবনের সবচেয়ে বেদনাদায়ক মুহূর্ত।’ 



মৃতদেহ দাফন করাও একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাগাইংয়ের মুসলিম কবরস্থান কয়েক বছর ধরে বন্ধ রয়েছে, কারণ এটি প্রতিরোধ বাহিনীর (PDF) নিয়ন্ত্রিত এলাকার পাশে অবস্থিত। এই কারণে মৃতদেহগুলো মাণ্ডালয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, যা ইরাওয়াদি নদীর ওপারে অবস্থিত। অনেকে ইসলামী রীতি অনুযায়ী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রিয়জনদের দাফন করতেও পারছেন না।সো নে উ বলেন, ‘একজন মুসলিমের জন্য সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, নিজের পরিবারের সদস্যদের নিজ হাতে দাফন করতে না পারা।’ 



ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হাজারেরও বেশি মুসলিম পরিবার এখন সহায়তার জন্য অপেক্ষা করছে। অনেকে রাস্তায় রাত কাটাচ্ছেন, খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে দিন পার করছেন।সো নে উ বর্তমানে থাইল্যান্ড থেকে উদ্ধার ও সহায়তার কাজ সমন্বয় করছেন। কিন্তু তিনি নিজে সেখানে থাকতে না পারার কষ্ট অনুভব করছেন।‘যদি আমি এখনো ইমাম থাকতাম, তাহলে আমি হয়তো তাদের সঙ্গে মারা যেতাম—তা হলে অন্তত শান্তি পেতাম। কিন্তু এখন আমি কিছুই করতে পারছি না। এটা অসহ্য কষ্টের।’ এ কথা বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন সো নে উ। ‘আমি জীবনে কখনো এতটা ভেঙে পড়িনি। আমি সাধারণত খুব কঠিন মানুষ, কিন্তু এখন আর ঘুমাতেও পারছি না।’ভবিষ্যতে কী হবে, তা কেউ জানে না। কিন্তু যারা বেঁচে আছেন, তারা এখনো শোকের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন, অপেক্ষা করছেন আরও সাহায্যের জন্য।

সূত্র: বিবিসি

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
দরকারি কথা হামেশাই ভুলে যাচ্ছেন? সমস্যা থেকে মুক্তির ৫ কৌশল

দরকারি কথা হামেশাই ভুলে যাচ্ছেন? সমস্যা থেকে মুক্তির ৫ কৌশল