শরীয়তপুরের জাজিরায় ককটেল বিস্ফোরণে সোহান বেপারী নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এছাড়া বিস্ফোরণে উড়ে গেছে ঘরের টিনের চাল। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) ভোরে উপজেলার বিলাসপুর মুলাই বেপারীকান্দি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জাজিরা উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কুদ্দুস বেপারী ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা জলিল মাদবরের সমর্থকদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ দীর্ঘদিনের। মাঝেমধ্যে দুই পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র ও হাতবোমা নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়। বৃহস্পতিবার ভোরে কুদ্দুস বেপারীর চাচাতো ভাই সাগর বেপারীর সদ্য তৈরি করা বসতঘরে হাতবোমা তৈরি করার সময় বিস্ফোরণ ঘটলে সোহান বেপারী নিহত হন। পরে তার মরদেহ পাওয়া যায় পাশের জমিতে। এছাড়া এ ঘটনায় আরও দুইজন গুরুতর আহত হন। তাদের চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
গত তিন মাস আগে নতুন ঘরটি তৈরি করেন কুদ্দুস বেপারীর চাচাতো ভাই সাগর বেপারী। ঘরটি তৈরিতে আর্থিক সহযোগিতা করেন কুদ্দুস বেপারী নিজেই। তবে ঘরটিতে এখন পর্যন্ত বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় সেখানে ওঠেননি সাগর ও তার পরিবার।
এমন ঘটনার পর সাগরের স্ত্রী শিল্পী বেগম বলেন, আমার স্বামী ভ্যান চালায়। মানুষের থেকে সহযোগিতা নিয়ে ঘরটি তৈরি করেছি। ভেবেছিলাম কয়েকদিন পরে ঘরটিতে উঠবো। ভোরে বোমার শব্দ পেয়ে ঘুম ভাঙে। পরে জানতে পারি আমাদের নতুন ঘরে নাকি বোমা বিস্ফোরণ হয়েছে। কে বা কারা ওই ঘরটিতে রাতে ছিল। ঘরে কোনো মালামাল না থাকায় তালা দেওয়া হতো না।
সাজেদা বেগম নামের স্থানীয় এক নারী বলেন, আগে এলাকায় অনেক মারামারি হতো। দুই পক্ষের লোকজন মারামারি করতো। এক বছর ধরে অনেকে জেলে থাকায় ভালই ছিলাম। এখন আবার আগের মতো শুরু হয়েছে। আমরা কোনো মারামারি চাই না।রাবেয়া খাতুন নামের আরেক নারী বলেন, প্রথমে ভেবেছিলাম ট্রান্সমিটার ব্লাস্ট হয়েছে। ঘর খুলে দেখি অনেক ধোঁয়া আর কিছু লোক দৌড়ে পালাচ্ছে। এমন ঘটনার পর থেকে আমরা অনেক আতঙ্কিত হয়ে পড়েছি।
জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড আপস) তানভীর হোসেন বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। একজনের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আমরা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখছি। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইন ও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Mytv Online