পাকিস্তান আবহাওয়া অধিদপ্তর (পিএমডি) রোববার (২৬–২৭ জানুয়ারি) দেশটির উঁচু অঞ্চলে ভারী তুষারপাতের কারণে সড়ক বন্ধ হয়ে যাওয়া ও ভূমিধসের আশঙ্কা জানিয়ে নাগরিকদের ‘অতিরিক্ত সতর্ক’ থাকার পরামর্শ দিয়েছে।এক বিবৃতিতে আবহাওয়া অফিস জানায়, ভারী তুষারপাতের ফলে নারণ, কাগান, দির, সোয়াত, কালাম, চিত্রাল, কোহিস্তান, মানসেহরা, অ্যাবোটাবাদ, শাংলা, আস্তোর, হুনজা, স্কার্দু, মুর্রি, গালিয়াত, নীলাম উপত্যকা, বাঘ, পুঞ্চ, হাভেলি, কোয়েটা, জিয়ারাত, চামান, পিশিন, কিলা আবদুল্লাহ, কিলা সাইফুল্লাহ, নুশকি, হারনাই ও ঝোব এলাকায় সড়ক বন্ধ হয়ে যেতে পারে এবং রাস্তা পিচ্ছিল হতে পারে।এ ছাড়া আপার খাইবার পাখতুনখোয়া, গিলগিট-বালতিস্তান ও কাশ্মীরের পাহাড়ি এলাকায় এ সময়ে ভূমিধস ও তুষারধসের সম্ভাবনার কথাও জানানো হয়েছে। পরবর্তী দুই দিন অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলতে এবং পর্যটকদের অতিরিক্ত সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে পিএমডি।
পিকনিক নিষিদ্ধ
এদিকে বেলুচিস্তান সরকার জিয়ারাত ও কাচ্ছি জেলায় পর্যটন স্পটে পিকনিক ও ক্যাম্পিং নিষিদ্ধ করেছে। চলমান তীব্র শীত এবং সোমবার (আজ) থেকে ভারী বৃষ্টি ও তুষারপাতের পূর্বাভাসের প্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।কাচ্ছি ও জিয়ারাত জেলার জেলা প্রশাসকরা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা জারি করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন।ডেপুটি কমিশনারদের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (পিডিএমএ), বেলুচিস্তানের মহাপরিচালকের নির্দেশনায় সম্ভাব্য শীতকালীন ঝুঁকি—চরম ঠান্ডা, ভারী তুষারপাত, ভূমিধস, সড়ক অবরোধসহ অন্যান্য ঝুঁকি—বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জনজীবন ও সম্পদ রক্ষায় তাৎক্ষণিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা প্রয়োজন। জিয়ারাত ও কাচ্ছি জেলায় সব পিকনিক স্পট ও পর্যটন এলাকা, নদীতীর, নালাহ, বাঁধ, পাহাড়ি ও উঁচু এলাকা এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে প্রবেশ, জমায়েত, ক্যাম্পিং, পিকনিক, সাঁতার ও অপ্রয়োজনীয় চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকা অবস্থায় উল্লেখিত স্থানে জনসাধারণের প্রবেশ, জমায়েত, ক্যাম্পিং, পিকনিক, সাঁতার এবং অপ্রয়োজনীয় চলাচল সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। বৈরী আবহাওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।’এতে আরও বলা হয়, মানবজীবন বিপন্ন করা বা জরুরি ও ত্রাণ কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুই জেলার জেলা প্রশাসন সংশ্লিষ্ট এসএসপি ও কর্তৃপক্ষকে কঠোরভাবে নির্দেশ বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছে।
দুর্ভোগ
গিলগিট-বালতিস্তানে, বিশেষ করে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হুনজার গোজাল এলাকার চিপুরসন উপত্যকার বাসিন্দারা সড়ক বন্ধ, দীর্ঘ বিদ্যুৎ সংকট, মোবাইল ও ইন্টারনেট সংযোগ বিঘ্ন এবং শীতের মধ্যে গরমের ব্যবস্থা না থাকায় চরম দুর্ভোগে রয়েছেন। বৃহস্পতিবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত গিলগিট-বালতিস্তানজুড়ে ভারী তুষারপাত জনজীবন স্থবির করে দেয়।পুলিশ জানায়, ভারী তুষারপাত ও ভূমিধসে আস্তোর, স্কার্দু, ঘাঞ্চে, খারমানগ, শিগার, ঘিজার, হুনজা ও নাগার অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হয়। উঁচু অঞ্চলের সংযোগ সড়কগুলো পিচ্ছিল ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে।গিলগিট-বালতিস্তান যোগাযোগ ও গণপূর্ত বিভাগ জানায়, আস্তোর ভ্যালি রোডসহ কয়েকটি সড়ক পুনরায় যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। কারাকোরাম হাইওয়ে, ঘিজার–শানদুর সড়ক ও বালতিস্তান সড়কেও যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।শনিবার সন্ধ্যায় খাইবার পাখতুনখোয়া পুলিশ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে রাতের বেলা তুষারপাতজনিত ঝুঁকির কারণে রাওয়ালপিন্ডি থেকে গিলগিট-বালতিস্তানগামী যাত্রীবাহী যান চলাচল বন্ধ করে দেয়। এতে অ্যাবোটাবাদের কাছে কয়েক ঘণ্টা ধরে হাজারো যাত্রী আটকে পড়েন; কেউ কেউ প্রতিবাদও করেন।
ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত চিপুরসন উপত্যকার বাসিন্দাদের শত শত মানুষ এখনও তাঁবুতে বসবাস করছেন; সাম্প্রতিক ভূমিকম্পে বহু বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত বা ফেটে গেছে। অঞ্চলজুড়ে দিনে ২০ ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ বিভ্রাট চলছে। ঘিজার জেলার সদর গাহকুচে দীর্ঘ বিদ্যুৎ সংকটের প্রতিবাদে বাসিন্দারা বিক্ষোভ করেন।এর আগে গিলগিট-বালতিস্তান সরকার পর্যটকদের জন্য ভ্রমণ সতর্কতা জারি করে জানায়, হুনজা, নাগার, ঘিজার, আস্তোর, স্কার্দু, শিগার, ঘাঞ্চে, খারমানগ ও দিয়ামিরে ভারী তুষারপাত রেকর্ড হয়েছে।
Mytv Online