গত ১৭ বছর ধরে নির্যাতনের শিকার হয়েছি। কোনো দিন ভাবিনি এ জীবনে আর ভোট দিতে পারব। মহান আল্লাহ তায়ালার ইচ্ছায় হয়তো জীবনের শেষবারের মতো ভোট দিলাম। কান্নাজড়িত কণ্ঠে এভাবেই বলছিলেন হাসিনা বেগম (৬৫)। তিনি যশোরের গোড়পাড়া গ্রামের আদম আলীর স্ত্রী। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন দুপুর ১টার দিকে গোড়পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে কথা হয় হাসিনা বেগমের সঙ্গে। দেবর রুহুল আমিনের স্ত্রী রাশিদা বেগমের হাতে ভর দিয়ে ভোট দিতে আসেন তিনি। হাসিনা বেগম বলেন, আমার তিন ছেলে। গত ১৭ বছর ধরে নির্যাতন সহ্য করেছে। বিনা কারণে মার খায়নি আমার পরিবারে এমন কোনো সদস্য নেই। সবাইকে মারধর করা হয়েছে। সব বিচার আল্লাহর কাছে দিয়ে রেখেছিলাম।
হাসিনা বেগমের দেবর রুহুল আমিনের স্ত্রী রাশিদা বেগম বলেন, শুধু মারধরই নয়, একাধিকবার চাঁদা দিয়েছি। একদিকে পরিবারের অভাব অপর দিকে জরিমানার নামে চাঁদা দিতে গিয়ে অনাহারে দিরেন পর দিন কাটিয়েছি। সরেজমিনে গোড়পাড়া ভোটকেন্দ্রে দেখা গেছে, নারীদের দীর্ঘ লাইন। তবে পুরুষদের লাইন ছিল শূন্য। দায়িত্বরত পুলিশ ও আনসার সদস্যরা জানান, উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্যদিয়ে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কোনো বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটেনি। দায়িত্বরত প্রিসাইডিং অফিসার মো. শাহাবুদ্দিন জানান, এ কেন্দ্রে মোট ভোটার ২ হাজার ৯৪৮ জন। এরমধ্যে নারী ভোটার ১ হাজার ৪৭৩ এবং পুরুষ ভোটার ১ হাজার ৪৭৫। দুপুর ১টা পর্যন্ত এ কেন্দ্রে ৪০ শতাংশ ভোট কাস্ট হয়েছে বলেও জানান তিনি। ডিহি ও নিজামপুর ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট নাইমুর রহমান বলেন, বিভিন্ন জায়গা থেকে অভিযোগ আসছে। আমরা সেগুলো নিয়ে কাজ করছি। আমাদের বিজিবি ও পুলিশ সদস্যরা অ্যাকটিভ আছে।
যশোর জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা আশেক হাসান জানান, যশোরের ছয়টি সংসদীয় আসনে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসন বদ্ধপরিকর। সাধারণ ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব, আনসার ও ভিডিপির মোট ১৪ হাজার ৬২ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Mytv Online