রমজান মাসে ব্যাপক ভিক্ষাবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে তিনটি বিলাসবহুল গাড়ির মালিক এক ভিক্ষুককে গ্রেপ্তার করেছে দুবাই পুলিশ। মানুষের কাছে অর্থ চেয়ে বিপুল সম্পদ গড়ে তোলার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। খবর খালিজ টাইমস।
গ্রেপ্তার হওয়া ওই ব্যক্তি জনসাধারণের সহানুভূতির অপব্যবহার করতেন। দিনের আলোতেই তিনি তার ‘ভিক্ষার শিফট’ শেষ করতেন এবং ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত চেহারা বদলে সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপ ধারণ করে বিলাসবহুল গাড়িতে বসে সেখান থেকে চলে যেতেন।
মানুষের আবেগ প্রভাবিত করতে বিশেষ কৌশল ব্যবহার করতেন এই ‘ভিক্ষুক’। মনগড়া গল্প ও সুচারুভাবে সাজানো মানবিক বিবরণ উপস্থাপন করে মানুষকে ধোঁকা দিতেন তিনি। পুলিশের সাসপেক্টস অ্যান্ড ক্রিমিনাল ফেনোমেনা ডিপার্টমেন্টের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার আল শামসি জানান, গ্রেপ্তার হওয়া ভিক্ষুকদের ৯০ শতাংশই ভিজিট ভিসায় আরব আমিরাতে প্রবেশ করেছে। আমিরাতি নাগরিক ও প্রবাসীদের উদারতার সুযোগ নিতে তারা বিশেষভাবে রমজান মাসকেই বেছে নিয়েছে।
অভিযানের সময় ভিক্ষুকদের কাছ থেকে হাজার হাজার দিরহাম সমপরিমাণ বিপুল অর্থ উদ্ধার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা আরও জানান, এক ব্যক্তি ২৫ হাজার দিরহাম সংগ্রহ করার পরও ভিক্ষাবৃত্তি চালিয়ে যাচ্ছিলেন, অথচ ওই অর্থ তার জীবনধারণ বা নিজ দেশে ফেরার ব্যয় মেটানোর জন্য যথেষ্ট ছিল।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইন অনুযায়ী, দেশটিতে এককভাবে ভিক্ষাবৃত্তি করলে ৩ মাসের কারাদণ্ড এবং ৫ হাজার দিরহাম জরিমানার বিধান রয়েছে। আর সংগঠিত ভিক্ষাবৃত্তি চক্র পরিচালনা বা এ উদ্দেশ্যে বিদেশ থেকে লোক নিয়োগ করলে ৬ মাসের কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ১ লাখ দিরহাম পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে।
রমজানের প্রথম সপ্তাহেই বিভিন্ন দেশের অন্তত ২৬ জন ভিক্ষুককে গ্রেপ্তার করেছে দুবাই পুলিশ।
Mytv Online