মা ও দুই ভাইয়ের সঙ্গে পারিবারিক কলহের জেরে গাইবান্ধা সদরে মালতি বেগম (৩০) নামের এক নারী গাছের মগডালে উঠে দুই ঘণ্টা অবস্থান করেছেন। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামে ঘটে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা। পরে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা এসে তাকে জীবিত উদ্ধার করেন।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্গাপুর গ্রামের শুক্কুর মোড় এলাকার আব্দুল মান্নানের মেয়ে মালতি বেগম পেশায় একজন গার্মেন্টস শ্রমিক। সাত বছর বয়সী সন্তানকে নিয়ে দীর্ঘদিন আগে স্বামী তাকে রেখে চলে গেলে তিনি ঢাকার একটি গার্মেন্টসে চাকরি করে আসছিলেন। রোজার আগে বাড়িতে ফিরে আসার পর থেকেই বড় ভাই, ছোট ভাই ও মা প্রায়ই তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করেন এবং বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করেন।
অতিরিক্ত মানসিক চাপ ও অপমান সহ্য করতে না পেরে শনিবার দুপুরে রাগের মাথায় মালতি গাছের মগডালে উঠে পড়েন। এতে এলাকার মানুষ ভেবে বসে তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করছেন। পরে ছোট ভাই আরিফুল ফায়ার সার্ভিসে ফোন করলে তারা এসে প্রায় দুই ঘণ্টা পর মালতিকে নিচে নামিয়ে আনেন।উদ্ধারের পর মালতি বেগম অভিযোগ করে বলেন, মা আর দুই ভাই প্রায়ই মারধর করে, বাজে কথা বলে। এসব সহ্য করতে না পেরে গাছে উঠেছিলাম। কিন্তু আমাকে পাগল প্রমাণ করতে তারা ফায়ার সার্ভিসকে ফোন দেয়। আমি সুস্থ আছি, আমি পাগল নই।
ছোট ভাই আরিফুল জানান, মায়ের সঙ্গে খারাপ আচরণ করায় তাকে কিছুটা শাসন করা হয়েছিল। পরে মনে হয়েছে ও আত্মহত্যা করতে পারে সেজন্য ফায়ার সার্ভিসকে ডাকা হয়েছে।স্থানীয় রাজিব বলেন, আমরা প্রথমে ভেবেছিলাম মেয়েটি পাগল হয়ে গাছে উঠেছে। পরে জানতে পারলাম পরিবার থেকেই তাকে নির্যাতন করা হচ্ছে।রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য আতিকুর রহমান আতিক বলেন, মেয়েটি জানিয়েছে তাকে নির্যাতন করা হয়। বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছি।
গাইবান্ধা ফায়ার সার্ভিস স্টেশন অফিসার রিফাত আল মামুন বলেন, ছোট ভাইয়ের ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে নারীটিকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি মানসিকভাবে চাপের মধ্যে থাকলেও পাগল নন।
Mytv Online